শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবোটিক্সের এই আধুনিক যুগে কেবল প্রযুক্তির বিকাশ নয়, বরং নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ বজায় রেখে মানবকল্যাণে কাজ করার জন্য তরুণ প্রকৌশলী ও গ্র্যাজুয়েটদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।
রোববার (১১ অক্টোবর) ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি)-এর ৩৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত হয়ে তিনি এই আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা রোবোটিক্স বড় ডেটা বিশ্লেষণ করতে পারে, কোড লিখতে কিংবা নতুন উদ্ভাবনী ধারণা তৈরি করতে পারে; কিন্তু প্রযুক্তিকে কীভাবে চালনা ও নিয়ন্ত্রণ করা হবে, তা চূড়ান্তভাবে মানুষের ওপরই নির্ভর করে। মানুষের সুবুদ্ধি, সততা ও মূল্যবোধই ঠিক করে দেবে, এই প্রযুক্তি সমাজের উপকারে আসবে নাকি ক্ষতি সাধন করবে। কেবল প্রযুক্তির অন্ধ ব্যবহার নয়, বরং এটি সমাজকে এগিয়ে নেবে নাকি পিছিয়ে দেবে, সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণে মূল ভূমিকা তরুণ গ্র্যাজুয়েটদেরই পালন করতে হবে। তাই প্রযুক্তিকে মানবজাতির কল্যাণ এবং নারী, শিশু ও তরুণদের ক্ষমতায়নে ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়ে তিনি কারিগরি, ব্যবস্থাপনা ও প্রকৌশল খাতের শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী গবেষণা ও শিল্প খাতে নতুন রূপান্তর আনার তাগিদ দেন।
প্রযুক্তির বৈশ্বিক সম্ভাবনা তুলে ধরে উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, প্রযুক্তির পরবর্তী সেরা উদ্ভাবনটি যে কেবল সিলিকন ভ্যালি থেকেই আসতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। আইইউটির গ্র্যাজুয়েটদের মধ্য থেকেই প্রযুক্তির পরবর্তী যুগান্তকারী বিপ্লব সূচিত হতে পারে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন।
শিক্ষার্থীদের অর্জনের পেছনের ত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, আজ আপনারা যে সার্টিফিকেটটি পেয়েছেন, তা আপনাদের আলোকিত ও সমৃদ্ধ ক্যারিয়ারের জন্য প্রস্তুত করবে। তবে এই অর্জনের পেছনে রয়েছে এক গৌরবোজ্জ্বল অতীত, যেখানে জড়িয়ে আছে নির্ঘুম রাত, পরীক্ষার উদ্বেগ ও ল্যাবরেটরির চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে বাবা-মায়ের লক্ষ্যপূরণের দীর্ঘ পথচলা। তাই কেবল নিজের ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার বা সফলতায় সীমাবদ্ধ না থেকে, সমাজ ও দেশের মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে নতুন নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত স্থাপন করার জন্য তিনি তরুণদের প্রতি আহ্বান জানান।
আইইউটির ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে মাহ্দী আমিন স্মরণ করেন যে, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ফিলিস্তিনের মহান নেতা ইয়াসির আরাফাতকে সঙ্গে নিয়ে ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও বহুবার এই ক্যাম্পাসে এসে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেছেন। অতীতের এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও আগামী দিনগুলোতে একইভাবে আইইউটি ক্যাম্পাসে আসবেন এবং শিক্ষা ও প্রযুক্তির প্রসারে অবদান রাখবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
উপস্থিত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভাষা ও সংস্কৃতির ভিন্নতা থাকলেও মুসলিম বিশ্বের চ্যালেঞ্জ, মূল্যবোধ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা অভিন্ন। তাই জ্ঞান ও উদ্ভাবনকে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে ধারণ করে বিনয়ের সঙ্গে বিশ্বমঞ্চে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
আইইউটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন বিন ইবনে রিয়াজের সভাপতিত্বে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ, ওআইসির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সহকারী মহাসচিব এইচ.ই. রাষ্ট্রদূত আফতাব আহমেদ খোখোরসহ পাকিস্তান, ইরাক, ব্রুনাই ও ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত, চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।













