যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের দরপতন ও ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের নতুন মূল্যস্ফীতির তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছেন। এ তথ্য থেকে চলতি মাসে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ আবারও সুদের হার বাড়াবে কিনা, সে বিষয়ে ধারণা পাওয়ার আশা করছেন তারা।
এদিন বাংলাদেশ সময় ৩টা ১৭ মিনিটে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ১৫৬ ডলার ১১ সেন্টে দাঁড়ায়। অন্যদিকে, ডিসেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার মূল্য ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৭৭ ডলার ৮০ সেন্টে পৌঁছায়।
এদিন ডলারের সূচক ০ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। এতে অন্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের কাছে ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ তুলনামূলক সস্তা হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের মুনাফাও তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে।
স্যাক্সো ব্যাংকের পণ্যবাজার কৌশল বিভাগের প্রধান ওলে হ্যানসেন বলেন, প্রকৃত সুদের হার কমে যাওয়া এবং বিনিয়োগের চাহিদা টিকে থাকায় স্বর্ণের দাম আগের পতন থেকে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা পাচ্ছে। তবে কারিগরি বিশ্লেষণে স্বর্ণের বাজারের অবস্থান এখনো নাজুক।
যুক্তরাষ্ট্রে সেপ্টেম্বরে ভোক্তা মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। বিশেষ করে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে পেট্রলের ব্যয় বেড়েছে। তবে মূল্যচাপ শুধু জ্বালানি খাতে সীমাবদ্ধ নেই; অন্যান্য খাতেও তা ছড়িয়ে পড়ছে। এতে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে যে দেশটির মূল মূল্যস্ফীতি দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ অবস্থানে থাকতে পারে।
মূল্যস্ফীতির প্রবণতা এবং ফেডারেল রিজার্ভের ভবিষ্যৎ নীতিগত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আরও ধারণা পেতে বিনিয়োগকারীরা বৃহস্পতিবার উৎপাদক মূল্যসূচক (পিপিআই) ও খুচরা বিক্রির তথ্য প্রকাশের অপেক্ষা করছেন। গ্রিনিচ মান সময় দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে এসব তথ্য প্রকাশের কথা রয়েছে।
স্টোনএক্সের বাজার বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান রোনা ও’কনেল বলেন, উৎপাদক মূল্যসূচক প্রত্যাশা অনুযায়ী বছরওয়ারি ৫ দশমিক ৪ শতাংশ হলে বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে বন্ডের মুনাফা আবারও বাড়তে পারে। তাই পরিস্থিতি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের শেষ দিকে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন সম্ভাবনা ধরে বাজারে লেনদেন হচ্ছে প্রায় ২৯ শতাংশ। মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের আগে এ সম্ভাবনা ছিল ২২ শতাংশ।
সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষিত বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণকে বিবেচনা করা হয়। তবে সুদের হার বাড়লে স্বর্ণ থেকে সরাসরি সুদ বা মুনাফা পাওয়া যায় না বলে বিনিয়োগকারীদের কাছে এর আকর্ষণ কমে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো ফেডের প্রেসিডেন্ট মেরি ডালি বলেছেন, ভবিষ্যতে সুদের হার আরও বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে। তবে অক্টোবরে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকেই এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি—এমন কোনো ইঙ্গিত তিনি দেননি।
অন্যদিকে, ফেডের তদারকি বিভাগের ভাইস চেয়ার মিশেল বোম্যান বলেছেন, পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার আগে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার মতো সময় রয়েছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫৬ ডলার ৬৬ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। প্লাটিনামের দাম ০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৬১১ ডলার ৭৬ সেন্টে পৌঁছেছে। আর প্যালাডিয়ামের দাম ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ১২৫ ডলার ৩৭ সেন্ট হয়েছে।













