• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

নারায়ণগঞ্জে শিশু গণধর্ষণের পর হত্যা ফাঁসির আসামী সুজন গ্রেফতার

প্রকাশ: সোমবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২২ ৩:৩৬
আপডেট: সোমবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২২ ৩:৩৬

96600254 16

নারায়ণগঞ্জে শিশু গণধর্ষণের পর হত্যা ফাঁসির আসামী সুজন গ্রেফতার

র‌্যাব-১১ এর রবিবার (২৩ অক্টোবর) রাতে ঢাকার বাড্ডা থানা এলাকা হতে শিশু গণধর্ষণ মামলার ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত প্রধান আসামী দীর্ঘ ১৯ বছর পলাতক থাকার পর গ্রেফতার করেছে। তার নাম সুজন @ নিজামুল হক (৩৮), পিতাঃ আঃ রশিদ @ হারুন রশিদ @ নাসিরুল হক।
র‌্যাব-১১ এর মিডিয়া অফিসার এএসপি রিজওয়ান সাঈদ জিকু জানান, গত ১৩ জানুয়ারি ২০০৩ তারিখ সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ জেলার সদর থানাধীন আলীরটেক এলাকায় একটি ১০ বছরের শিশু গণধর্ষণপূর্বক হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। হত্যাকান্ডের পরবর্তী দিন শিশুটির লাশ সরিষা ক্ষেতে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় জনগন সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ ও শিশুটির পরিবারকে জানায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লাশটিকে উদ্ধার পূর্বক সুরতহাল তৈরী করে এবং লাশটি সদর উপজেলার আলীরটেক এলাকার আলী আকবরের মেয়ে খাদিজা আক্তার (১০) বলে সনাক্ত হয়। এই ঘটনায় ভিকটিমের ভাই বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০-এ একটি মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নং ০৯(০১)০৩, ধারা ৯(৩)। পরবর্তীতে নিহতের ময়না তদন্তের রিপোর্টে ধর্ষণের পর শ^াসরোধ করে হত্যা করা হয়েছিল মর্মে উল্লেখ করা হয়। উক্ত ঘটনাটি জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকা ও সংবাদমাধ্যমে চাঞ্চল্যকর সংবাদ হিসেবে বহুল প্রচারিত হয়।
তিনি আরো জানান, গ্রেফতারকৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং সংশ্লিষ্ট চার্জশীট পর্যালোচনায় জানা যায় যে, ঘটনার দিন দুপুরে ভিকটিম খাদিজা (১০) এবং তার এক প্রতিবেশী বান্ধবী আলীরটেকে অনুষ্ঠিতব্য একটি মাহফিল দেখার জন্য ১নং আসামী সুজনের বাড়ীতে যায়। সুজন নিহত ভিকটিমের দুঃসম্পর্কের আত্নীয় বলে জানা যায়। সুজনের বাড়ীতে খাওয়া-দাওয়া শেষ করে প্রতিবেশী বান্ধবীর নিকটস্থ খালার বাসায় তারা বেড়াতে যায়। পরবর্তীতে রাত হয়ে গেলে ভিকটিমের বান্ধবী তার খালার বাসায় থেকে যায়। ইতিমধ্যে পূর্বপরিকল্পনার অংশ হিসেবে সুজন ভিকটিমকে তার বাড়ীতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে সাথে নিয়ে আসে। পথিমধ্যে সুজন এবং ওৎ পেতে থাকা তার আরও তিন সহযোগী পরস্পর যোগসাজশে ভিকটিমকে জোরপূর্বক একটি সরিষা ক্ষেতে নিয়ে ভিকটিমের পরিহিত পোশাক দিয়ে হাত, পা এবং মুখ বেধে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের এক পর্যায়ে এই চার নরপিশাচ ভিকটিমের বুকের পাজর, হাত ও পা বিকৃত করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্নক জখমসহ শ^াসরোধ করে হত্যা করে। তারা এতই নৃশংস ছিল যে ভিকটিমের মৃত্যু পরও ধর্ষণ চালিয়ে যায়। ধর্ষণ শেষে লাশটিকে সরিষা ক্ষেতে রেখে সবাই পালিয়ে যায়।
র‌্যাব-১১ এর এএসপি রিজওয়ান সাঈদ জিকু আরো জানান, বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত, নারায়ণগঞ্জ বিচার শেষে মামলার পলাতক আসামীদের বিরুদ্ধে আনীত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৯(৩) ধারায় অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমানীত হওয়ায় গত ১১ জুন ২০১৮ তারিখে চার গণধর্ষককে উক্ত আইনের উক্ত ধারার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত পূর্বক মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করার আদেশ দেন। গ্রেফতারকৃত আসামীর ভাষ্যমতে ঘটনার পর পরেই সে দেশের বিভিন্ন জেলায় আত্নগোপন করে। দীর্ঘদিন পর সে নারায়ণগঞ্জে ফেরত এসে পরিচয় গোপন করে ২নং রেলগেটস্থ একটি কাপড়ের দোকানে চাকুরী করা শুরু করে এবং এই পেশাকে গ্রেফতার এড়ানোর ঢাল হিসেবে বেছে নেয়। ইতিমধ্যে সে নিজের নাম এবং বয়স পরিবর্তন করে ২০১৪ সালে পাসপোর্ট ও ২০১৬ সালে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরী করে। দীর্ঘদিন চাকুরী করে ২০১৭ সালে সে ইরাকে গমন করে এবং ২০২১ সালে বাংলাদেশে ফেরত আসে। দেশে ফিরে সে জমি সংক্রান্ত ব্যবসায় জড়িত হয়। পরবর্তীতে ২০২২ সালের মার্চ মাসে সে পুনরায় সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করলেও সুবিধা করতে না পেরে ০৩ মাস পর দেশে ফেরত আসে। দেশে ফেরত এসে সে আত্নগোপনে অবস্থান করতে থাকে। গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রকেস )
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com