ফরিদপুর বিভাগীয় গণসমাবেশে তিন দিন আগে থেকে নেতাকর্মীরা আসছেন। তাদের বেশিরভাগ কোমরপুর স্কুল মাঠে রাতযাপন করেছেন। ওই মাঠেই শনিবার সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
এসব নেতাকর্মীদের বাইরেও একটি অংশ কোমরপুর গ্রামে দু’রাতের জন্য ঘরের বারান্দা ভাড়া নিয়েছেন। ৮ ফুট বাই ২০ ফুটের ওই বারান্দায় ২৫ নেতাকর্মী রাতযাপন করেন। চিত কাত পদ্ধতিতে কষ্ট করে থাকলেও আনন্দের শেষ নাই তাদের। একটা উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে তাদের মধ্যে।
গোপালগঞ্জের মোকসেদপুর উপজেলা থেকে আগত ছাত্রদল কর্মী রিঙ্কন শেখ জানান, তারা দু’রাতের জন্য একজনের বারান্দা ভাড়া নিয়েছেন। তাদের মতো করে আরও অনেকে ভাড়া নিয়ে থাকছেন।
তবে বিপরীত চিত্রও রয়েছে। গ্রামের অনেক মানুষ বিএনপির সমাবেশে আগত নেতাকর্মীদের রাতে থাকার জন্য নিজেদের ঘরবাড়ি উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। ঘরের স্ত্রী সন্তানদের অন্যত্র পাঠিয়ে আগত নেতাকর্মীদের স্থান দিয়েছেন।
কোমরপুর গ্রামের মিয়া বাড়ি আব্দুস সালাম জানান, বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেক নেতাকর্মী আমাদের এলাকায় এসেছেন। তারা আমাদের মেহমান। তারা আমাদের সম্মানের বিষয়। তাই যতটুকু সামর্থ্যে কুলায় তাদের জন্য করার চেষ্টা করছি। বাড়ির তিনটা ঘর তাদের জন্য ছেড়ে দিয়েছি। আমি এতেই আনন্দিত।
অম্বকাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খন্দকার বদিউজ্জামাল পলাশ জানান, তাদের গ্রামের সম্মানের বিষয় জড়িয়ে আছে আগত মেহমানদের সঙ্গে। সাধ্যমতো গ্রামের সবাই এগিয়ে এসেছেন। গোসল, বিশ্রামসহ সবকিছু উন্মুক্ত করে দিয়েছেন গ্রামবাসী।
দেখা যায়, সমাবেশের মাঠে প্রচণ্ড রোদের জন্য অনেক নেতাকর্মী গ্রামের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে পড়েছেন। অনেকে পাটি বিছিয়ে গাছের তলায় ঘুমিয়ে রয়েছেন। অনেকে অন্যের পুকুরে, টিউবওয়েলে গোছল করছেন আর বালতি, মগ এগিয়ে দিচ্ছেন গ্রামবাসী।












