এবার প্রেমের টানে নিজ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ফিলিপাইন থেকে লক্ষ্মীপুরে ছুটে আসেন জোয়ান ডিগুসমান লেগুমবাই নামের এক তরুণী। শুধু তাই নয়, নিজের জন্মভূমি ছেড়ে, তার ধর্ম ত্যাগ করে প্রেমিক নাইমকে গায়ে হলুদ শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়েতে আবদ্ধ হচ্ছেন তিনি। আজ শুক্রবার দুপুরে শহরের একটি চায়নিজ রেস্টুরেন্টে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ হামছাদী গ্রামে প্রেমিক নাঈমের বাড়িতে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান হয়। এদিকে ভিনদেশি নববধূকে দেখতে ভিড় করছেন স্থানীয়রা।
এর আগে গত ৩ জানুয়ারি নাইমের বাড়িতে আসেন ফিলিপাইনের ওই তরুণী।
জান গেছে, মো. নাইমুর রশিদ লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ হামছাদী গ্রামের বাসিন্দা নুর মোহাম্মদের ছেলে। তিনি মালয়েশিয়া প্রবাসী।
জানা যায়, নাইমুর রশিদ মালয়েশিয়ায় একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করেন। চাকরির সুবাদে তার সঙ্গে পরিচয় হয় ফিলিপাইনের আরনেসতা লেগুমবাই ও ইমেলদা লেগুমবাই দম্পতির মেয়ে জোয়ান ডিগুসমান লেগুমবাইয়ের। পরিচয় থেকে শুরু হয় তাদের প্রেম। আর সেই প্রেমের টানে নিজের ধর্ম বদলে বাংলাদেশে পাড়ি জমিয়েছেন এই ফিলিপাইনের তরুণী। এখানে এসে খ্রিষ্ট ধর্ম পরিবর্তন করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নতুন নাম রেখেছেন নাজিফা রশিদ আমিরা।
নাইম জানান, আট বছর ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক। এর মধ্যে তারা বিয়ে করার সিদ্ধান্তে ছুটি নিয়ে আসেন বাংলাদেশে। নিজের এবং ওই তরুণীর বাবা-মায়ের সম্মতিতে তাকে বিয়ে করেছেন। ছুটি শেষে আবার তারা মালয়েশিয়ায় ফিরে যাবেন।
জোয়ান জানান, বাংলাদেশে এসে তার খুবই ভালো লাগছে। এখানকার মানুষের সঙ্গে খুব সহজেই মিশতে পারছেন। বাংলাদেশের খাবার ও এখানকার সংস্কৃতি তার খুব পছন্দ হয়েছে। তার বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করার ইচ্ছে আছে।
নাইমের স্বজনরা জানান, উভয় পক্ষের সম্মতিতে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। ফিলিপাইনের ওই তরুণী আসার পর থেকে সবার সঙ্গে মিলেমিশে চলছে। এখানকার খাবার তার খুব পছন্দ। তাকে দেখতে বাড়িতে ছুটে আসছেন মানুষ। তিনি ইংরেজিতে কথা বলেন, মাঝেমধ্যে কিছু কথা বাংলায়ও বলতে পারেন।
এদিকে আগে খবরের কাগজে বিদেশি মেয়েরা বাঙালি ছেলের প্রেমের টানে চলে আসে—এমন খবর দেখলেও এখন তা নিজের চোখে দেখছেন বলে জানান স্থানীয়রা।












