এককভাবে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। এরই ধারাবাহিকতায় ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়া হবে।
আজ বৃহস্পতিবার বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ এমপির সভাপতিত্বে তার সংসদীয় কার্যালয়ে সংসদীয় দলের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
সূত্রে জানা গেছে, দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া, বেফাস মন্তব্যের কারণে জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের কাছে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চেয়েছেন ভাগ্নে ও বিরোধী দলের চিফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গা।
বৈঠক শেষে জি এম কাদের বলেন, প্রেসিডিয়ামের বৈঠকে আলোচনা শেষে তাকে মাফ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাব।
দীর্ঘদিন অসুস্থতা কাটিয়ে দলের এমপিদের নিয়ে বৈঠক করলেন রওশন। এতে ২৬ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ১৮ জন উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে আবু হোসেন বাবলা ও কাজী ফিরোজ রশীদ দলের ঐক্য ধরে রাখতে বক্তব্য দেন।
তারা বলেন, শীর্ষ নেতৃত্বে কোন্দল থাকলে জাপাকে কোনোভাবেই এগিয়ে নেয়া যাবে না। আপনারা সব কোন্দল মিটিয়ে এক সঙ্গে পথ চলুন। তাহলে মানুষ দলকে গ্রহণ করবে। নির্বাচনে ফলাফল ভালো হবে।
জবাবে রওশন বলেন, আমাদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। এক সঙ্গে পথ চলছি, চলব। আপনারাও ঐক্যবদ্ধভাবে চলুন। এলাকায় কাজ করুন। সামনের উপনির্বাচনগুলোতে যেন পার্টির প্রতিনিধিরা বিজয় লাভ করতে পারে।
তিনি বলেন, ‘আমরা সত্যিকারের বিরোধী দলের ভূমিকায় যেতে চাই। এ জন্য মিলেমিশে কাজ করতে হবে।’
সংসদে যখন এই বৈঠক চলছিল ঠিক তখন জাতীয় পার্টির বহিষ্কৃত নেতা জিয়াউল হক মৃধার মামলায় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের পক্ষে দলীয় কার্যক্রমে যে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল আদালতের পক্ষ থেকে তা বহাল রাখার খবর আসে।
যদি মিলেমিশে দল পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত হয়, তবে জি এম কাদেরকে কেন সবকিছু থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হচ্ছে। এমন প্রশ্নের জবাবে জাপা মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরাও অনেকটা উদ্বিগ্ন। সত্যিকার অর্থে এটি একেবারেই আদালতের এখতিয়ার। আশা করি আদালতের মাধ্যমে এ সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে।’
সভায় উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় উপনেতা জি এম কাদের এমপি, ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি, কাজী ফিরোজ রশিদ এমপি, মো. মুজিবুল হক চুন্নু এমপি, ফখরুল ইমাম এমপি, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, নাসরিন জাহান রতনা এমপি, পীর ফজলুর রহমান এমপি, গোলাম কিবরিয়া টিপু এমপি, আহসান আদেলুর রহমান এমপি, মো. নূরুল ইসলাম তালুকদার এমপি, শামীম হায়দার পাটোয়ারী এমপি, মো. রুস্তম আলী ফরাজী এমপি, রানা মোহাম্মদ সোহেল এমপি, পনির উদ্দিন আহমেদ এমপি, রওশন আরা মান্নান এমপি, বেগম শেরীফা কাদের এমপি, নাজমা আকতার এমপি।












