নাগরিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, আমাদের একটাই লড়াই ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না, হতে দেয়া হবে না। সবাই আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নেন। বুধবার (১৫ মার্চ) বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদের মিলনায়তনে জনতার অধিকার পার্টি আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মান্না বলেন, এই সরকার আমাকে চার বছর কারাগারে আটকে রেখে ছিলো কোনো অভিযোগ দাখিল করা হয়নি। আমার পাসপোর্ট আটকে রাখে। আমি জেলখানায় দুই বছরে যে কাণ্ড দেখেছি, যারা ক্ষমতায় আছে এরা মানুষ না। জেলখানায় বসে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করিয়ে নেয় তারা।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে প্রথম ব্যালট বক্স লুট করেছিল আওয়ামী লীগ। দেশে প্রথম ভোটের ফলাফল পরিবর্তন, দিনের ভোট রাতে করেছে তারা। বর্তমানে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে বিভিন্ন দেশ আলোচনা করছেন। আমাদের একটাই লড়াই ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না, হতে দেয়া হবে না। সবাই আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নেন।
এ সময় তিনি আগামী ১৮ মার্চ বেলা ১১ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গণতন্ত্র মঞ্চের উদ্যোগে যুগপৎ আন্দোলন উপলক্ষে বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দেন।
বাংলাদেশ লেবার পার্টি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে আল-জাজিরার সাংবাদিক প্রশ্ন করেছিল বাংলাদেশে স্বৈরশাসন চলছে কি না? তিনি সে প্রশ্নের উত্তর দেননি। দেশের সাংবিধানিক সকল প্রতিষ্ঠানকে এই সরকার ধ্বংস করেছে। দেশের বিচার ব্যবস্থা প্রশাসন, আইন বিভাগসহ সকল প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, গতকাল সুপ্রিম কোর্টে তারা বোমা ফাটিয়ে বিএনপি’র অ্যাডভোকেটদেরকে নির্বাচন থেকে বিরত রেখেছে। শেখ হাসিনা চিরদিন তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য রাজপথে আন্দোলন করেছিল এবং সংবিধানে লিপিবদ্ধ করেছিল। কিন্তু সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার তিনিই বাতিল করেছেন। তিনি সংবিধানকে বার বার কাঁটা-ছেড়া করেছেন, অথচ বিএনপিসহ সকল বিরোধী দল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন চায়। তিনি তা দিতে নারাজ। কারণ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ জামানত হারাবে। এটা তারা ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছে।
ইরান আরও বলেন, সরকার ইউনিয়ন চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে সংসদ সদস্য নির্বাচন পর্যন্ত সবক্ষেত্রে দুর্নীতি করেছে। বেগম খালেদা জিয়া কোনো দলের না, তিনি দেশের সম্পদ। তাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে দীর্ঘদিন জেলখানায় আটক রেখেছে। দেশের মানুষ বেগম জিয়াকে ভালোবাসেন শুধু তাই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতানেত্রী তাকে ভালোবাসেন এবং তার মুক্তি কামনা করেন। বিএনপি ১০ দফা যে দাবি দিয়েছে রাষ্ট্র মেরামত করার জন্য। আমরা সকল দল মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে এ সরকারকে বিদায় জানাবো এবং দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ব।
গণঅধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক নেতাদের কথা কোনরকম গুরুত্ব দিচ্ছে না। দেশের এই পরিস্থিতির জন্য শেখ হাসিনাকে দায়ী করা হবে। এখন প্রয়োজন হলো সকল দলের নেতাদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে আগামী নির্বাচন ঠিক করা।
তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতা ও রাষ্ট্রদূতরা এসে প্রধানমন্ত্রীর সাথে নির্বাচন নিয়ে কথা বলছেন, যাতে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, কিন্তু এই সরকার তা করবেন না। শেখ হাসিনা বেগম জিয়াকে ম্যাট্রিক ফেল বলে অভিহিত করেন কিন্তু তিনি তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই, অথচ এই ভোট চোর সরকার ক্ষমতায় গিয়েছে দিনের ভোট রাতে করে ক্ষমতায় চেপে বসে আছে। বিষয়টি শুধু দেশের মানুষ জানে তা নয়, বিশ্বের অনেক দেশ জেনে গেছে।












