কোরআনে মহান আল্লাহ বহু জায়গায় ইবরাহিম (আ.)-এর কথা এনেছেন। যার কয়েকটি এখানে তুলে ধরা হলো।
একাধিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণআল্লাহ তাঁকে বিভিন্নভাবে পরীক্ষা করেছেন। প্রতিটি পরীক্ষায় তিনি উত্তীর্ণ হয়েছেন পূর্ণ সফলতার সঙ্গে।
আল্লাহ বলেন, ‘এবং (সেই সময়কে স্মরণ করো), যখন ইবরাহিমকে তাঁর প্রতিপালক কয়েকটি বিষয় দ্বারা পরীক্ষা করলেন এবং সে তা সব পূরণ করল।’ (সুরা : বাকার, আয়াত : ১২৪)
আগুনে নিক্ষেপ
ইবরাহিম (আ.)-এর যুগের মানুষ ছিলেন বস্তু পূজারী। তাঁর পরিবারের সবাই ছিল মূর্তিপূজায় লিপ্ত। তিনি ছিলেন তাওহিদ বা একত্ববাদে বিশ্বাসী।
তিনি নবুয়ত লাভের পর স্বজাতিকে মূর্তি পূজা ত্যাগের আহ্বান জানান। তাওহিদের দাওয়াত ও প্রচলিত ধর্মের বিরোধিতা করার কারণে নমরুদ ও তার পরিষদবর্গ তাকে আগুনে নিক্ষেপ করে। ইরশাদ হয়েছে, ‘তারা (একে অন্যকে) বলতে লাগল, তোমরা তাকে আগুনে জ্বালিয়ে দাও এবং নিজেদের দেবতাদের সাহায্য করো, যদি তোমাদের কিছু করার থাকে।’ (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ৬৮)
কিন্তু ইবরাহিম (আ.)-কে রক্ষা করেন।
ইরশাদ হয়েছে, (সুতরাং তারা ইবরাহিমকে আগুনে নিক্ষেপ করল) এবং আমি বললাম, হে আগুন, ঠাণ্ডা হয়ে যাও এবং ইবরাহিমের পক্ষে শান্তিদায়ক হয়ে যাও। তারা ইবরাহিমের বিরুদ্ধে এক দুরভিসন্ধি আঁটল; কিন্তু আমি তাদেরই করলাম মহা ক্ষতিগ্রস্ত। (সুরা আম্বিয়া, আয়াত : ৬৯,৭০)
এ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই নির্বাপিত হয়ে গেল আগুনের দহনশক্তি। অগ্নিকুণ্ড হলো পুষ্প উদ্যান। ইবরাহিম (আ.) নিরাপদে আর নিশ্চিন্তে বসে রইলেন সেই উদ্যানে।
হিজরতের নির্দেশ
স্বজাতির প্রচণ্ড বিরোধিতা ও শত্রুতার মুখে আল্লাহ ইবরাহিম (আ.)-কে হিজরত করার নির্দেশ দেন। তিনিও চিরদিনের জন্য মাতৃভূমি ছেড়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হলেন। আল্লাহ বলেন, ‘ইবরাহিম বলল, আমি আমার প্রতিপালকের দিকে হিজরত করছি। নিশ্চয়ই তিনিই পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। অর্থাৎ আমার প্রতিপালকের সন্তুষ্টি হাসিলের উদ্দেশ্যে দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছি।’ (সুরা আনকাবুত, আয়াত : ২৬)
পথিমধ্যে বহু প্রতিকূল ও ঘাতপ্রতিঘাত পেরিয়ে তিনি পৌঁছালেন সুদূর সিরিয়ায়। সিরিয়ার অনুকূল পরিবেশ সুন্দর আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তাকে মুগ্ধ করল। তিনি ভাবলেন, হয়তো এটাই তার সফরের মঞ্জিল। দাওয়াতের জন্য এটাই উর্বর জমিন।
মক্কার অভিমুখে












