• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

ফিচার পোস্ট

সাক্ষাৎকার : নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই

প্রকাশ: বুধবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৩ ৪:০৭
আপডেট: বুধবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৩ ৪:০৭

999D9845 FA44 454E 937D 6CB5F0B9A034

সাক্ষাৎকার : নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই

নিউজ ডেস্ক

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা আদৌ নেই। নির্বাচন হলেও আগের দুটো নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি হবে। সাধারণ মানুষের সেখানে অংশগ্রহণ থাকবে না। মানবজমিনকে দেয়া সাক্ষাতকারে ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, এখন যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি তাতে বড় ধরনের একটি বিভক্তির মধ্যদিয়ে এগোচ্ছি আমরা। যারা ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় আছেন তাদের এই সংশোধিত সংবিধান যেটার সঙ্গে দেশের বেশির ভাগ মানুষ একমত নয়। সেই সংবিধানের আলোকে নির্বাচন করার জন্য সরকার বদ্ধপরিকর। অপরদিকে প্রকৃতপক্ষে সংসদে যে বিরোধীদল থাকার কথা তারা সংসদে নেই। অফিসিয়াল বিরোধীদল লেজুড়বৃত্তি দেখিয়েছে। তাদের সক্ষমতা নেই। দেশের বেশিরভাগ মানুষ এভাবে নির্বাচন চাইছে না।

সুতরাং মানুষ পুরোপুরি বিভক্ত। প্রশ্ন হচ্ছে এই বিভক্তির মধ্যে যদি নির্বাচন হয় তাহলে এটা কী রকম হতে পারে! আগের নির্বাচনগুলো যেমন হয়েছে তার পুনরাবৃত্তিই হবে। কারণ ইতিমধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের যে কথা বা উক্তি তাতে বলা হচ্ছে ১ শতাংশ ভোট কাস্ট হলেও আইনত বৈধ নির্বাচন হবে। তারা ধরেই নিয়েছে এটা। তাহলে এরকম নির্বাচন আমরা কতোবার করবো। এটা একটি বিরাট প্রশ্ন। এখন সকল ক্ষমতা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন এবং তাদের নিজস্ব সমর্থক গোষ্ঠী রয়েছে। তাদেরকে নিয়ে সরকার যখন এরকম একটি মনোভাব দেখায় তখন বিরোধী রাজনৈতিকদলগুলো রক্তাক্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এরকম চলতে থাকলে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হবে। কথা হচ্ছে সরকার বিরোধী দলের দাবি কতোটুকু শুনবেন এবং মানবেন এটা এখনই বলা যাচ্ছে না। এবং বিরোধীদল কতোটুকু সক্ষম হবে সেটাও বলা যাচ্ছে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া স্যাংশন বা ভিসা নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বৈদেশিক শক্তি বিশেষ করে যারা আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র, যাদের সঙ্গে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য, সংস্কৃতির আদান-প্রদানসহ বিভিন্নরকম সহযোগিতা বিদ্যমান। প্রশ্ন হলো নির্বাচন প্রশ্নে তাদের অবস্থান আমাদের সহযোগিতা করবে কিনা? হ্যাঁ করছে। যদি সরকার সেটা শোনেন। সরকার যদি না শোনেন এবং নিজস্ব স্বার্থ দেখেন তাহলে এটা কতোটুকু কাজ করবে তা বলা মুশকিল। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে দেশের কোনো দীর্ঘমেয়াদি লাভ হবে না, ক্ষতি ছাড়া। কারণ ভারত-চায়না-রাশিয়াসহ প্রতিবেশীদের বলয় আমাদের জন্য কোনো শক্তিশালী বলয় না। তারা এই মুহূর্তে বন্ধু। পরে তারা এরকম থাকবে না। ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক সমতা এবং পারস্পারিক স্বার্থের ভিত্তিতে হওয়া উচিত। কিন্তু আমরা এতদিন যা করেছি তা আমাদের স্বার্থে এতটুকুও আসেনি। রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারত-চায়না-রাশিয়ার থেকে আমরা কোনো লাভবান হইনি। বরং এটা আমাদের ওপর চাপানো হয়েছে। এখানে চায়না-মিয়ানমারের স্বার্থ ছিল। আমাদের যে অর্থনৈতিক স্বার্থ, সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা রয়েছে সেটা রক্ষার ক্ষেত্রে পশ্চিমা বিশ্ব অস্ট্রেলিয়া, জাপান, কোরিয়া এবং আমেরিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তারা যদি নির্বাচনের সময় একটি অবস্থান নেয় তাহলে আমাদের সেই অবস্থানটিকে সম্মান করা উচিত বলে মনে করছি। এটাকে অবহেলা করা আমাদের জন্য কোনোভাবেই লাভজনক হবে না।

তিনি বলেন, সরকারকেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করতে পদক্ষেপ নেয় উচিত। যদি না করেন তাহলে একটি যেনতেন নির্বাচন তারা করে ফেলতে পারেন। ২০১৪ এবং ২০১৮ সালে যেভাবে হয়েছে! কিন্তু গ্রহণযোগ্যতা পাবে না। আমার মনে হচ্ছে নির্বাচন হবে না। কারণ এক সময় সবাই হাল ছেড়ে দেবেন। সরকারের ভেতরেও এটা নিয়ে অনেক দ্বিধাদ্বন্দ্ব আছে বলে শুনেছি। এ ছাড়া আমলা, পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের মধ্যেও এটা নিয়ে অত্যন্ত টেনশন চলছে। তারা কতোটুকু সরকার এবং কতোটুকু সাধারণ জনগণের পক্ষ নেবেন, কতোটা নিরপেক্ষ থাকবেন এটা নিয়ে বিভিন্ন রকমের টানাপড়েন চলছে। নির্বাচন না হলে কি হবে? এক্ষেত্রে ২০০৭ সালে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যেমন এসেছিল এবং তারা দুই বছর থাকার পরে নির্বাচন দিয়েছিলেন। এরকম হলে এটা কারপক্ষের শক্তি হবে? বর্তমান সরকারের পক্ষে নাকি নিরপেক্ষ হবে! সেজন্য আমাদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। ড. তোফায়েল বলেন, বর্তমানে যে মুখোমুখি পরিস্থিতি বিরাজ করছে এ অবস্থায় কোনোভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। নির্বাচন কমিশনের যে ক্ষমতা আছে সেটা দিয়ে তারা ২০ শতাংশ সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবে। বাকি ৮০ শতাংশ ক্ষমতা সরকারের হাতে থাকবে। নির্বাচন হচ্ছে রাজনীতির ক্লাইমেক্স। কাজেই রাজনীতি যদি ঠিক না হয় তাহলে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার সুযোগ নেই।


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রকেস )
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com