• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

রাজপথে চাঙ্গা হচ্ছে গ্রেফতার নিপীড়নে কোনঠাসা বিএনপি নেতাকর্মীরা

প্রকাশ: সোমবার, ১১ মার্চ, ২০২৪ ২:০০
আপডেট: সোমবার, ১১ মার্চ, ২০২৪ ২:০০

9669850

রাজপথে চাঙ্গা হচ্ছে গ্রেফতার নিপীড়নে কোনঠাসা বিএনপি নেতাকর্মীরা

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টানা তিনমাসের সরকারবিরোধী আন্দোলন ও গ্রেফতার নিপীড়নে বিএনপি নেতাকর্মীরা কোনঠাসা হয়ে পড়েছিল। সম্প্রতি বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানীসহ সারাদেশে নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। কারগার থেকে মুক্তি পাওয়া এবং বিভিন্ন মামলায় জামিন নিয়ে নেতাকর্মীরা আবারও মাঠে নেমেছেন দলবলে। বিশেষ করে রাজধানীসহ জেলা শহরের লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দলীয় কার্যালয়ের নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যডভোকেট রুহুল কবির রিজভী ব্রেকিং নিউজকে বলেন, মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে বিএনপি রাজপথে আছে রাজপথে থাকবে। ডামি সরকারের কোন নিপীড়নের কাছে আমাদের নেতাকর্মীরা মাথানত করবে না। তিনি বলেন, রাষ্ট্রশক্তিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পেশিশক্তিতে পরিণত করে ডামি সরকার মানুষের সব অধিকার কেড়ে নিয়েছে। জনগণ যে রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী বানাবে, রাষ্ট্রপতি বানাবে, সে অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্বাচনেও জালিয়াতি করেছে তারা। মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাও হরণ করা হয়েছে। এখন বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নেই। নির্দোষ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় বন্দি করে রাখা হয়েছে। তাঁর চিকিৎসা করার অধিকারটুকুও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। নিত্যপণ্যসহ সব জিনিসের দাম বাড়ায় মানুষ এখন দিশেহারা। কোটি কোটি শিক্ষিত ছেলে মেয়ে এখন বেকার। অভাবের তাড়নায় মানুষ আত্মহত্যা করছে। হাসপাতালে বিল দিতে না পেরে মা তার সন্ত্রান বিক্রি করে দিচ্ছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান একদফার যে আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন সে আন্দোলন অব্যাহক আছে। তিনি বলেন, বিজয় না হওয়া পর্যন্ত বিএনপি নেতাকর্মীরা ঘরে ফিরে যাবে না।

966698 2

বিএনপির তথ্য মতে, নির্বাচনের আগে গত বছরের ২৮ অক্টোবর থেকে দল ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের ২৭ হাজারের অধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। এ ছাড়া মামলা ও গ্রেফতার এড়াতে অনেকে আত্মগোপনে, নিরাপদ অবস্থানে ছিলেন। কেন্দ্রীয় এবং তৃণমূলের প্রায় অধিকাংশ নেতাই এখন জামিনে মুক্ত। ইতোমধ্যে বিএনপি মহাসচিব ও গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য-সচিব আমিনুল হক, দক্ষিণের সদস্য-সচিব রফিকুল আলম মজনুসহ অনেকে মুক্তি পেয়েছেন। স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুস সালামসহ অন্য নেতারাও বিভিন্ন মামলায় জামিন পেয়েছেন। এর ফলশ্রুতিতে বিএনপিও আস্তে আস্তে চাঙ্গা হচ্ছে।

এ দিকে ছাত্রদলের পর বিএনপির হাইকমান্ডের আরও কয়েকটি অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নতুন কমিটি গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্তে পদপ্রত্যাশী নেতারাও এখন নিয়মিত দলীয় কার্যালয়ে আসছেন। সাথে আসছেন তাদের অনুসারীরাও। এতে করে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থিত অঙ্গ-সংগঠনের কার্যালয়গুলোতে উপস্থিতি আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। নতুন আংশিক কমিটির পর ছাত্রদলের শীর্ষ নেতারাও নিয়মিত দলীয় কার্যালয়ে যাচ্ছেন, শোডাউন করছেন। পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদ পেতে শোডাউন করে সেখানে যাচ্ছেন সংগঠনের অন্য নেতারাও। এর ফলে দলীয় কার্যালয় এখন সরগরম।

গত বছর সরকারের পদত্যাগ এবং নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে একদফা আন্দোলন জোরদার করে বিএনপি। সেই সময় আন্দোলন ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নেয় সরকার। বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে একের পর মামলা দায়ের করা হয়। দফায় দফায় চলে গ্রেফতার অভিযান। সর্বশেষ ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকায় মহাসমাবেশের কয়েকদিন আগে থেকেই গ্রেফতার শুরু হয়। ওই সমাবেশকে ঘিরে ঢাকার নয়াপল্টন এলাকায় সংঘাতের পর দলের অনেক সিনিয়র নেতাকে গ্রেফতার করা হয়। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরিসহ হাজার হাজার নেতাকর্মীকে আটক করে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়। সারা দেশে শুরু হয় সাঁড়াশি অভিযান।

9666895

বিএনপির তথ্যমতে, ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশের আগে থেকে জানুয়ারির নির্বাচন পর্যন্ত সারা দেশে ১ হাজার ১৮৪টির বেশি মামলায় ১ লাখ ৫ হাজার ৬৮৪ জনের বেশি নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়। এ সময়ে ২৭ হাজার ৫১৪ জনকে গ্রেফতার করে কারাগারে নেওয়া হয়। সাজা দেওয়া হয় বিএনপির সিনিয়র নেতাসহ প্রায় ২হাজার নেতাকর্মীকে। পূর্বে আরও একলাখের বেশি মামলা ও অর্ধকোটি নেতাকর্মী বিভিন্ন মামলায় আসামী ছিলই। এর সাথে যোগ হয় নতুন নতুন মামলা।

966585

ভয়াবহ নিপীড়নের মধ্যেও ভোটাধিকারসহ মানুষের অধিকার আদায়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় লড়াই করে যান নেতাকর্মীরা। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সার্বক্ষণিক ভার্চুয়ালি যোগাযোগ করে মিটং করে নির্দেশনা দেন তিনি। এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সালাহ উদ্দিন আহমেদ, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা অংশ নেন ভার্চুয়াল মিটিংয়ে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যে প্রতিদিন ব্রিফিং করে, মিছিল মিটিং করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যডভোকেট রুহুল কবির রিজভী মাঠে থেকে নেতাকর্মীদের নেতৃত্ব দেন। ছাত্রদল, যুবদলসহ অঙ্গ-সংগঠনের নোতকর্মীরাও প্রায় প্রতিদিন মাঠে নামেন। নির্বাচনের বাইরে থাকা বিএনপিসহ ৬৩টি রাজনৈতিক দল সরকারের পদত্যাসহ নির্দলীয় সরকারের একদফা দাবি আদায়ের আন্দোলন চালিয়ে যান।

966685 2

বিএনপি নেতারা বলেন, জনগণ তাদের আন্দোলনে সারা দিয়ে সে নির্বাচনে অংশ নেয়নি। নির্বাচন কমিশননের হিসেব অনুযায়ী ভোটার উপস্থিতি ৪২ শতাংশ হলেও দেশি-বিদেশী গণমাধ্যমের তথ্যমতে সে উপস্থিতি ছিল নগণ্য।


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রকেস )
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com