আরব আমিরাত (ইউএই) প্রতিনিধি
ছবিঃ প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ১০নং পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের এরশাদ আলী সারাং বাড়িতে এক অসহায় প্রবাসী পরিবারের বসতভিটায় হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীরা হলেন ওই এলাকার মৃত সাহেব মিয়ার দৌহিত্র (মেয়ের সূত্রে নাতী) আবুধাবি প্রবাসী আকতার হোসেন, ইকবাল হোসেন, জাবেদ হোসেন এবং তাদের বৃদ্ধা মা রোকেয়া বেগম। পরিবারটির দাবি, তারা ১৯৫২ সাল থেকে পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত জমিতে বংশ পরম্পরায় বসবাস করে আসছেন এবং এর বৈধ দলিল, আরএস ও বিএস খতিয়ান তাদের কাছে সংরক্ষিত আছে।
একই ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত আবু মিয়ার ছেলে আহমদ করিম (৪০) ও ছাফয়ানুল করিম (৩৪) ওই জমিতে মালিকানা দাবি করে আদালতে মামলা করেন। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সংক্রান্ত ৬৮৬/২০২৪ নং মিস মামলা এবং পরবর্তীতে দায়ের করা ০৪/২০২৬ নং মিস মামলা উভয়ই আদালত কর্তৃক খারিজ হয়ে যায়। এরপর থেকে তারা পার্শ্ববর্তী ১৪নং বাগোয়ান ইউনিয়নের একটি মহলের যোগসাজশে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি ও জমি দখলের চেষ্টা করে আসছেন বলে অভিযোগ।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৭ই মার্চ রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ১৪নং বাগোয়ান ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. ইউছুফ তালুকদার (৪৫), পিতা মৃত রঞ্জু মিয়া-এর নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের নির্মাণাধীন বসতঘরে হামলা চালায়। এ সময় নির্মাণ শ্রমিকদের তাড়িয়ে দেওয়া হয় এবং ঘরে থাকা বৃদ্ধা মা ও বোনকে দরজা বন্ধ করে আটকে রেখে লাঞ্ছিত করা ও স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন লুটপাট করার অভিযোগ করা হয়েছে। এই হামলার ঘটনায় পরিবারের সদস্য জাবেদ হোসেনের ওপর মারধরের ঘটনা ঘটে, এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশ কেসের জন্য তাকে সার্টিফিকেট প্রদান করেন।
ভুক্তভোগী আবুধাবি প্রবাসী আকতার হোসেনের অভিযোগের ভিত্তিতে আবুধাবিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে প্রবাসী কল্যান, পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগে অভিযোগটি প্রেরণ করা হয়। তারই আলোকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অভিযোগের অনুলিপি হস্তগত হয়।
ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক থেকে রাউজান উপজেলা নির্বাহী অফিসার, রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবরে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের জন্য লিখিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফলে বিষয়টি রাউজান থানা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহ ইতিমধ্যে অবগত রয়েছে। জেলা প্রশাসনের উক্ত নির্দেশনার অনুলিপি এই প্রতিবেদনের সাথে সংযুক্ত করা হলো।
তারই ধারাবাহিকতায় ভুক্তভোগী পরিবার যথাযথভাবে তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য রাউজানের মাননীয় সংসদ সদস্য মহোদয় এবং স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, ইউছুফ তালুকদার গং বিভিন্ন সময়ে হুমকি-ধমকি প্রদান করায় পরিবারটি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং নিরাপদ জীবনযাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছে।












