• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

আমি এক হতভাগ্য ছেলে, হাতকড়া পরে বাবার দাফনে যুবলীগ কর্মী

প্রকাশ: রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬ ৮:০৮
আপডেট: রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬ ৮:০৮

965985695

আমি এক হতভাগ্য ছেলে, হাতকড়া পরে বাবার দাফনে যুবলীগ কর্মী

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
ছবি সংগৃহীত

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় জেলখানা থেকে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে হাতকড়া পরা অবস্থায় বাবার দাফনে অংশ নেন যুবলীগ কর্মী চঞ্চল মিয়া। তবে সময়মতো পৌঁছাতে না পারায় বাবার জানাজার নামাজে অংশ নিতে না পারায় তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমি এক হতভাগ্য ছেলে’।

জেলবন্দি চঞ্চল মিয়ার বাবা, কোটালীপাড়া উপজেলার গচাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হক তিনি শনিবার (৭ মার্চ) রাত ৯টার দিকে উচ্চ রক্তচাপ ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে মারা যান।

রবিবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে উপজেলার চিত্রাপাড়া এম এম খান উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে বাবার জানাজায় অংশ নিতে চঞ্চল মিয়ার স্ত্রী বিলকিস বেগম রবিবার সকালে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চঞ্চল মিয়াকে দুপুর ১টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চার ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তির অনুমতি দেওয়া হয়। তবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জেলখানায় পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় তিনি প্রায় দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে মুক্তি পান। পরে পুলিশি পাহারায় তাকে ৩টার দিকে কোটালীপাড়ার চিত্রাপাড়া এম এম খান উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নিয়ে আসা হয়।

কিন্তু তিনি সেখানে পৌঁছানোর আগেই বাবার জানাজার নামাজ শেষ হয়ে যায়। পরে হাতকড়া পরা অবস্থায় বাবার মরদের খাটিয়া কাঁধে তুলে নিয়ে চিত্রাপাড়া কবরস্থানে দাফনের জন্য নিয়ে যান তিনি। দাফনের পরে দুপুুর ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে পুলিশ তাকে আবার গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারে নিয়ে যায়।

দাফনের সময় উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে চঞ্চল মিয়া আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘আমি বাবার হতভাগ্য ছেলে। মিথ্যা মামলায় পাঁচ মাস ধরে জেলে আছি। বাবার অসুস্থতার সময় তার পাশে থাকতে পারিনি। এমনকি বাবার জানাজার নামাজেও অংশ নিতে পারলাম না। আমার বাবাকে সবাই ক্ষমা করে দেবেন।’ তিনি বাবার জানাজায় উপস্থিত হওয়ার জন্য মুসল্লিদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান।

চঞ্চল মিয়ার স্ত্রী বিলকিস বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী একজন ব্যবসায়ী। গত বছরের ৯ অক্টোবর ঢাকার হাতিরপুল এলাকার ভূতের গলি থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে পুলিশ তাকে আটক করে কারাগারে পাঠায়। পরে কোটালীপাড়ার ওয়াবদারহাটে সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় (মামলা নং ১৫২/২৫) তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।’

বিলকিস বেগম আরও বলেন, ‘আমার স্বামী নিরপরাধ। পাঁচ মাস ধরে জেলে থাকায় আমি তিন কন্যা সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। আমি আমার স্বামীর মুক্তি চাই।’

কোটালীপাড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুব্রত কুমার জানান, প্যারোলে মুক্তি পাওয়ার পর দুপুর ৩টার দিকে পুলিশি পাহারায় জেলা কারাগার থেকে চঞ্চল মিয়াকে কোটালীপাড়ায় আনা হয়। তিনি হাতকড়া পরা অবস্থায় বাবার দাফনে অংশ নেন এবং দাফন শেষে আবার কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রকেস )
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com