এম আর কামাল, নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ
ছবি প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে এক গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় ১৬ মাস পর অপমৃত্যু মামলা হত্যা মামলায় রূপান্তর হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে শ্বাসরোধে মৃত্যুর তথ্য পাওয়ার পর বুধবার রাতে নিহত গৃহবধুর মা বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় এজাহার দায়ের করেছে। অভিযোগ রয়েছে, নিহতের পরিবার থেকে একাধিকবার বলা হলেও পুলিশ রহস্যজনক কারনে হত্যা মামলা নেয়নি। মামলা দায়েরের পর রাতেই ছাত্রলীগ নেতা যৌতুকলোভী ঘাতক স্বামী সুমনকে আটক করেছে পুলিশ।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের বৈলারকান্দি এলাকার সিরাজ মিয়া ও নাজমা আক্তার দম্পতির মেয়ে জিদনী আক্তার (২৩) হত্যার অভিযোগে আট জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিরা হলো, নিহতের স্বামী ছাত্রলীগ নেতা মো. সুমন মিয়া (৩২), তাঁর মা রূপালী বেগম (৫৫), বাবা আব্দুল হান্নান হানু (৬৪), বোন সুমনা আক্তার (২৬) ও সিমা আক্তার (২৪), আত্মীয়া রোকসানা আক্তার (৩৯), সাকিব (১৯) এবং মাইনুল হক (২৮)। প্রধান আসামি সুমন মিয়া সরকারি সফর আলী কলেজের সাবেক জিএস ও ছাত্রলীগ নেতা।
এজাহারে বলা হয়, ২০২৩ সালের ৭ জুলাই উপজেলার শ্রীনিবাসদী গ্রামে পারিবারিকভাবে জিদনীর সঙ্গে সুমনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। বিভিন্ন সময়ে নগদ টাকা ও গরুসহ উপঢৌকন দেওয়ার পরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর রাতে আসামিরা একত্র হয়ে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সুমন জিদনীর গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যা করেন এবং অন্য আসামিরা এতে সহায়তা করেন। পরে বিষয়টি গোপন রেখে ভোরে তাঁকে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর পরিবার হত্যা মামলা করতে চাইলেও পুলিশ রহস্যজনক কারনে তা নেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে একটি অপমৃত্যু মামলা নেওয়া হয়। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে শ্বাসরোধে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হলে মামলাটি হত্যা হিসেবে রূপান্তর করা হয়।
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আলাউদ্দিন জানান, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নতুন করে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একজন আসামি আটক করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তার চেষ্টা চলছে।












