• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

গোসাইরহাটে ভুমিদস্যুদের অত্যাচারে ভুমিহীন নার্গিস বাড়িছাড়া !

প্রকাশ: বুধবার, ২৭ মার্চ, ২০২৪ ৩:৪০
আপডেট: বুধবার, ২৭ মার্চ, ২০২৪ ৩:৪০

9658758

গোসাইরহাটে ভুমিদস্যুদের অত্যাচারে ভুমিহীন নার্গিস বাড়িছাড়া !

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
গোসাইরহাট উপজেলার দাসেরজঙ্গল এলাকার ভুমিহীন নার্গিস ও তার পরিবার ভুমিদস্যুদের কবলে পরে সর্বশান্ত হয়ে এখন বাড়ি ছাড়া। ভুমিদস্যুরা ভুমিহীন নার্গিস পরিবারকে ভিটেবাড়ি থেকে বিতাড়িত করেছে। নার্গিস স্বামী সন্তান নিয়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। বিবাদমান ভুমি নিয়ে প্রভাবশালী ভুমি দস্যুরা ভুমিহীন পরিবারের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। ভুমি দস্যুরা নালিশী জমিতে স্থাপনা করার পায়তারা করছে। ভুমিহীনরা দুর্বল বিধায় কোথায় ও কোন সহযোগিতা না পেয়ে কোর্টের বারান্দায় ঘুরছেন। তারা প্রধানমন্ত্রী ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে ন্যায় বিচার প্রার্থনা করছেন।
সরেজমিন ঘুরে ও ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, গোসাইরহাট উপজেলার ৭০ নং মহিষকান্দি ও মিত্রসেনপট্রি মৌজার ১নং খাস খতিয়ানের ২৩নং দাগের ৮০ শতাংশ ও ৩৬৫ নং দাগের ১২ শতাংশ ভুমি আরএস ৫২৪ ও ৩৯৪ নংখতিয়ানের এ জমির মূল মালিক ছিলেন মিত্রসেন পট্রির দেবেন্দ্র মোহন মন্ডল ও মহেন্দ্র চন্দ্র মন্ডল। উক্ত জমি নদীভাংগনে বিলীন হওয়ার পর তারা আর কোন খোজ খবর রাখেনি। পরবর্তীতে দেবেন্দ্র মোহন মন্ডল মৃত্যুর পর দীনেশ মন্ডল ও কৃষ্ণ মন্ডল নামে দুই পূত্র ,বাসনা ও কমলা রানী নামে দুই কন্যা রেখে মারা যায়। মহেন্দ্র চন্দ্র মন্ডল মৃত্যুর পরে হৃদয় মন্ডল পবিত্র মন্ডল ও মনু মন্ডল নামে তিন পূত্র ও ভাষানী রানী নামে ১ কন্যা রেখে মারা যায়। বলাবাহুল্য যে হিন্দু আইনে কন্যরা বাবার সম্পত্তির কোন মালিক নয় বিধায় মেয়েদের নামে কোন রেকর্ড হয়নি। তাছাড়া এ সকল সন্তানদের মধ্যে কমলারানী ২০০৫ ও কালি কৃষ্ণ ২০০৬ সালে মরা গেছেন। জীবিত অবস্থায় তারা কখনো এ সমপত্তির খাজনাদি পরিশোধ ও করেননি। পরবর্তীতে এ জমি চরজেগে ওঠার পর রেকর্ডীয় কোন মালিকগন বেঁচে না থাকায় সরকার এ সম্পত্তি ১নং খাস খতিয়ান ভুক্ত করে নেয়। ফলে দাসের জংগল মৌজার ভুমিহীন জসিম ডাকুয়া ও তার স্ত্রী রাশিদা বেগম এর আবেদনের প্রেক্ষিতে তাদের নামে সরকার ৯৯ বছরের জন্য বন্দোবস্ত দেয় । ১৯৯৭ সালের ৩১ আগষ্ট ১৪০৮ নং কবুলিয়ত মূলে মোঃ জসিম উদ্দিন ডাকুয়া ও রাশিদা বেগম ঐ জমির মালিক বনে। ঐ জমি তারা কিছুদিন ভোগ দখল করার পর জসিম ডাকুয়া প্যারালাইসিস হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে টাকার প্রয়োজনে ২০০৫ সালের ১৬ আগষ্ট এস এ ২৩ নং দাগের ৪০ শতাংশ জমি পজেশন হস্তান্তর নামা দলিল মূলে দাসেরজঙ্গল মৌজার মুনসুর আলী খলিফা ও নার্গিস বেগম এর কাছে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে তার নামের জমিটুকু লিখে দেন। পরবর্তীতে রাশিদা বেগম ২০১৬ সালের ৮ জুন একই দাগের ৪০ শতাংশ জমি একই ভাবে নার্গিস বেগ দেরকে লিখে দেন। সে থেকে মুনসুর খলিফা ও নার্গিস বেগম পরির্বা ঐ ভুমিতে ঘর দরজা উত্তোলন ও গাছপালা রোপন করে ভোগ দখল করে আসছেন। ইেিতামধ্যে বি আর এস জরিপের পূর্বে ২০১১ সালের ১৯ জানুয়ারী জসিম ডাকুয়া মৃত্যু বরন করেন। ফলে ঐ জমি জসিম ডাকুয়া ও রাশিদা বেগমের নামে বিআরএস জরিপে লিপিবদ্ধ হলেও নার্গিস ও মুনসুর আলী খলিফ কে রেজিস্ট্রি করে নিতে পারেননি। এ দিকে শাহজাহান দেওয়ান গং ১৪জন ভুমি দস্যুরা ২০১১ সালে কমলা রানীর নামে ২৮৯৫ ও ২৯৫২ নং দ’ুটি জাল দলিল তৈরী করে ঐ কবলা মূলে মালিক দাবী করে ভুমিহীন মুনসুর আলী খলিফা ও নার্গিস বেগমকে ঐ বাড়ি থেকে উৎখাত করে তাদের ঘর দরজা ভেঙ্গে নিয়ে তাদের কে ঐ জমি থেকে বিতাড়িত করে দেয়। বর্তমানে তারা বাড়ি ছাড়া হয়ে বিচারের জন্য কোর্টের বারান্দায় ঘুরছে। যদিও এ জাল দলিলের পূর্বেই কমলা রানী মারা গেছেন। যার মৃত্যুর সার্টিফিকেট রয়েছে। ভুমিদস্যুরা ভুমিহীন পরিবারটিকে একের পর এক মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। তার পরেও নার্গিস পরিবার হাল ছাড়েননি। ইতোমধ্যে তিনি একাধিক আদালতের রায় পেয়েছেন। ভুিমদস্যুরা প্রভাবশালী ও বিত্তশালী হওয়ায় টাকার জোরে সবকিছু মেনেজ করতে চায়। এমতবস্থায় নার্গিস বেগম ও তার স্বামী মুনসুর আলী খলিফা প্রধানমন্ত্রী সহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে ন্যায় বিচার প্রার্থনা করছেন।
এ ব্যাপারে নার্গিস বেগম বলেন, আমি একজন ভুমিহীন। জসিম লাকুড়িয়া ও তার স্ত্রীর কাছ থেকে আমি ও আমার স্বামী মুনসুন খলিফার নামে পজেশন ক্রয় করে নালিশী জমিতে দীর্ঘদিন যাবত বসবাস করছি। শাহজাহান দেওয়ান ও তার পরিবারের লোকজন সহ দুইজন ইউনিয়ন সহকারী ভুমি কর্মকর্তার আতœীয় স্বজনের নামে ভ’য়া ও জাল দলিল করে ঐ জমি থেকে জোর পূর্বক আমাদেরকে উৎখাত করে দিয়েছে। আমরা এখন অন্যের বাড়িতে থাকি। তারা একের পর এক মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানি করছে।টাকার জোরে সবকিছু তাদের পক্ষে নিতে চেষ্টা করছে। আমি প্রধানমন্ত্রী সহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে ন্যায় বিচার চাই।
এ ব্যাপারে শাহজাহান দেওয়ান বলেন, আমরা কমলা রানীর থেকে জমি ক্রয় করে মালিক হয়েছি। এ বিষয়টি কোর্টে মামলা প্রক্রিয়াধীন । কমলা রানী মালিক কিনা তা আদালত বুঝবে। প্রতিপক্ষের লোকজনের কোন কাগজপত্র নেই।


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রকেস )
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com