রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
ছবিঃ প্রতিনিধি
টানা ভারী বর্ষণ ও ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় পানির নিচে তলিয়ে গেছে রাউজান উপজেলার ১০ নং পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের উত্তর গুজরা উচ্চ বিদ্যালয় ও উত্তর গুজরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। দুই প্রতিষ্ঠানের বারান্দা, অফিস কক্ষ ও প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে কোমর সমান পানি থই থই করছে। এতে প্রায় ৮০০ শিক্ষার্থীর পাঠদান সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ আসবাবপত্র, শিক্ষা উপকরণ ও অফিসের নথিপত্র নষ্ট হয়ে গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উচ্চ বিদ্যালয় ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিটি কক্ষে হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত পানি জমে আছে। পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে বেঞ্চ, চেয়ার-টেবিল, ব্ল্যাকবোর্ড, শিক্ষার্থীদের বই-খাতা এবং অফিসের গুরুত্বপূর্ণ ফাইলপত্র।
এ বিষয়ে উত্তর গুজরা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবু মানস কুমার গুপ্ত দাস বলেন, রাতের ভারী বর্ষণে হঠাৎ স্কুলে পানি ঢুকে পড়ে। জরুরি কাগজপত্র, বিজ্ঞানাগারের সরঞ্জাম ও লাইব্রেরির বই সরানোর সুযোগ মেলেনি। ক্লাসরুম সম্পূর্ণ ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় আমাদের প্রায় ৫৫০ শিক্ষার্থীর পাঠদান অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছি। এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিশেষ ক্লাসও বন্ধ। দ্রুত পানি না নামলে বড় ক্ষতির মুখে পড়ব।
উত্তর গুজরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সুমি সেন জানান, আমাদের বিদ্যালয়ের মেঝে তুলনামূলক নিচু হওয়ায় কোমর সমান পানি উঠেছে। কোমলমতি প্রায় ২৫০ শিশুর বই-খাতা, উপবৃত্তির কাগজপত্র ও হাজিরা খাতা পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। শিশুদের নিরাপত্তার কথা ভেবে স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে পানি নিষ্কাশন ও ভবন উঁচু না করলে পাঠদান চালু করা অসম্ভব।
উভয় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ অবস্থায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-এর জরুরি সুদৃষ্টি কামনা করেছে। তারা জানান, অবিলম্বে পানি নিষ্কাশন, ক্ষতিগ্রস্ত আসবাবপত্র ও শিক্ষা উপকরণের জন্য বিশেষ বরাদ্দ এবং ভবন সংস্কার না হলে পাঠদান চালু করা যাবে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের উত্তর গুজরা গ্রামটি ভৌগোলিকভাবে অজপাড়াগাঁ। সংস্কার, উন্নয়ন ও প্রশাসনিক তদারকিতে এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে পিছিয়ে আছে। শুধু বিদ্যালয় নয়, এলাকার অধিকাংশ রাস্তাঘাট, কালভার্ট ও খাল-খন্দকও সংস্কারের অভাবে পানিনিষ্কাশনের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বিদ্যালয় সংলগ্ন খালটি দীর্ঘদিন খনন না করায় সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা ডুবে যায়।
এ বিষয়ে রাউজান উপজেলা বিএনপি’র অন্যতম নেতা এম. এনাম হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, এবারের বন্যায় রাউজানের মানুষ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে উত্তর গুজরা গ্রামে জলাবদ্ধতার কারণে সাধারণ মানুষ গৃহবন্দী। উচ্চ বিদ্যালয় ও প্রাথমিক বিদ্যালয় পানিবন্দী হয়ে জরুরি কাগজপত্র নষ্ট হয়েছে, ৮০০ এর অধিক ছাত্র-ছাত্রীর পাঠদান বন্ধ। বিদ্যালয় সংলগ্ন খালটি দ্রুত খনন ও টেকসই পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা চালু করা না হলে প্রতি বছর একই দুর্ভোগ পোহাতে হবে।
তিনি মাননীয় সংসদ সদস্য এবং রাউজান উপজেলা প্রশাসনের আন্তরিক হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, এই এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং দুটি বিদ্যালয়ের দিকে বিশেষ সুদৃষ্টি দেওয়ার জোর অনুরোধ জানাচ্ছি।
অভিভাবকরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলছেন, বিকল্প ব্যবস্থা না নিলে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে। বিশেষ করে আসন্ন এসএসসি ও প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
উত্তর গুজরা উচ্চ বিদ্যালয় ও উত্তর গুজরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নিয়মিত খাল খনন ও টেকসই পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাবে প্রতিবছর বর্ষায় এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। এলাকাবাসী ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, উপজেলা প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপই কেবল এই সংকটের স্থায়ী সমাধান দিতে পারে।












