নরসিংদী জেলা বিএনপির কার্যালয় এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খায়রুলল কবীর খোকনের চিনিশপুরের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। আজ বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
‘ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটি মানি না, মানব না’, ‘আমরা জিয়ার সৈনিক’—স্লোগান দিয়ে গ্যাস অফিসে মোড় থেকে মশাল মিছিল করতে করতে হামলা চালানো হয়। ঘটনার পর পুলিশ এসে বাড়িটি ঘিরে রাখে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সিদ্দিকুর রহমান নাহিদকে সভাপতি ও মেহেদী হাসান রিফাতকে সাধারণ সম্পাদক করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট ছাত্রদলের জেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়। ছাত্রদলের কমিটি গঠনের পর এ ঘটনা ঘটায় অনেকেই পদবঞ্চিতদের দায়ী করেছেন।
অফিসের কেয়ারটেকর কাজল, প্রতিবেশী সৈয়দ মাস্টার ও অ্যাডভোকেট বাবুল জানান, রাত ৯টার দিকে চিনিশপুরের তিতাস গ্যাস অফিসের সামনে ২০ থেকে ২৫ জন স্লোগান দিয়ে মশাল মিছিল নিয়ে বাড়িতে হামলা করেন। ওই সময় তাদের হাতে লাঠি ও চাপাতি ছিল।

তারা মিছিল নিয়ে এসে বাড়ির প্রধান ফটকের পকেট গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। ওই সময় ভেতরে ও বাইরে ব্যানার, ফেস্টুন ভাঙচুর করেন। তারা ভবনের জানালার কাঁচ ভেঙে ভেতরে মশাল নিক্ষেপ করলে ভেতরে থাকা চেয়ারসহ আসবাবপত্রে আগুন লেগে যায়। সঙ্গে সঙ্গে পল্লী বিদ্যুত অফিসে ফোন করে লাইন বন্ধ করানো হলে বড় অগ্নিকাণ্ড থেকে রক্ষা হয়। পরে দুস্কৃতিকারীরা মিছিল নিয়ে জেলখানা মোড়ের দিকে চলে যান।
খবর পেয়ে নরসিংদী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. আব্দুল মান্নান আনছারীর নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে একটি ইউনিট। এর আগেই আগুন নিভিয়ে ফেলেন স্থানীয়রা।
পরে ঘটনাস্থলে আসেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মঞ্জুর এলাহীসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ। মঞ্জুর এলাহী বলেন, ‘আজকে জেলা ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করায় পদবঞ্জিতদের মাঝে কিছুটা উত্তেজনা ছিল। কিন্তু এ ঘটনার সঙ্গে তারা জড়িত কিনা, তা বলতে পারছি না। অফিসের সিসি ক্যামেরা দেখে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
খায়রুল কবীর খোকন এ ঘটনার পেছনে পদবঞ্চিত ‘দাড়িওয়ালা’ অভিকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, ছাত্রদলের কমিটি তিনি ঘোষণা করেননি।
তারেক রহমান এ কমিটি দিয়েছে দাবি করে খোকন আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় আমার বাড়ি ও অফিস ভাঙচুর করা হবে কেন। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’












