• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

বগুড়ার দেড় ডজন মামলার আসামি ও যুবলীগ নেতা মতিন সরকার গ্রেপ্তার

প্রকাশ: রবিবার, ২২ জুন, ২০২৫ ৪:৫৫
আপডেট: রবিবার, ২২ জুন, ২০২৫ ৪:৫৫

966665

বগুড়ার দেড় ডজন মামলার আসামি ও যুবলীগ নেতা মতিন সরকার গ্রেপ্তার

বগুড়া প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন বগুড়ার শহর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (বহিষ্কৃত) আবদুল মতিন সরকার (৫০)। তিনি বগুড়া পৌরসভার চার নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ছিলেন।

শনিবার (২১ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে জেলা ডিবির একটি দল।

রবিবার (২২ জুন) দুপুরে ডিবির ওসি ইকবাল বাহার জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও আগের মোট ১৮ মামলার আসামি আবদুল মতিন সরকার সরকার পরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপন করেন। সর্বশেষ রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলার একটি বাসায় লুকিয়ে ছিলেন। গোপনে খবর পেয়ে শনিবার রাত ১১টার দিকে তাকে ওই বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর নতুন করে কয়েকটি হত্যা মামলায় তাঁর নাম আসামি হিসেবে আসে। এরপর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন।

মতিন সরকার সেখানে ওই ফ্ল্যাট বাড়ি ভাড়া নিয়ে গোপনে বসবাস করছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলন চলাকালে দুটি হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এ নিয়ে সব মিলিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে এক ডজনেরও বেশি হত্যা মামলা ছাড়াও অস্ত্র ও মাদক আইনে মোট ১৮টি মামলা আদালতে চলমান আছে। ডিবির টিম তাকে গ্রেপ্তার করে ঐদিন রাত বারোটার দিকে বগুড়ার উদ্দেশে রওনা দেয়। ধৃত মতিন সরকারের বাড়ি বগুড়া শহরের চকসূত্রাপুর চামড়া গুদাম এলাকায়।

পুলিশ জানায়, কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী পরিবারের সদস্য আবদুল মতিন সরকার বগুড়া শহরের চকসূত্রাপুর এলাকার মৃত মজিবর রহমানের ছেলে। তিনি আলোচিত নারী নির্যাতনকারী ও ‘ধর্ষক’ তুফান সরকারের বড় ভাই। তিনি বগুড়া শহর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরে তাকে বহিষ্কার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি হত্যা, অস্ত্র, মাদক আইনে মামলা রয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় একাধিক হত্যাসহ বেশ কয়েকটি মামলা হয়। সব মিলিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ১৮টি মামলা রয়েছে।

৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি গা ঢাকা দেন। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের দুদকের একটি মামলায় গত ১১ মার্চ আবদুল মতিন সরকারের অনুপস্থিতিতে বগুড়ার বিশেষ জজ আদালত তাকে ১৩ বছরের সাজা দেন। এ ছাড়া আদালত তাকে দুই কোটি ২৮ লাখ ৩১ হাজার ৩১৫ টাকা জরিমানা করেন। এ পরিমাণ অর্থ রাষ্ট্রের অনুকূলে জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর কুখ্যাত ‘মাদক বিক্রেতা পরিবারের সন্তান’ খ্যাত আবদুল মতিন প্রভাবশালী এক যুবলীগ নেতার সহযোগিতায় বগুড়া শহর যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদকের পদ লাভ করেন। রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় তিনি মাদক ব্যবসার পাশাপাশি চাঁদাবাজি, দখল, টেন্ডার বাণিজ্য, হাট-বাজার ইজারা নিয়ন্ত্রণ ও পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। হত্যা, অস্ত্র ও মাদক মামলা থাকা সত্ত্বেও তিনি আওয়ামী লীগের কতিপয় সুবিধাবাদী নেতার প্রভাবে স্থানীয় সরকার ও জাতীয়সহ বিভিন্ন ভোট ডাকাতিতে অংশ নেন। দলের প্রভাবে তিনি বগুড়া আন্তজেলা ট্রাক মালিক সমিতি ও জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের পদ বাগিয়ে নেন। পরবর্তীতে নামের সঙ্গে ‘সরকার’ উপাধি যোগ করেন।

মতিন ২০০০ সালে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হন। ২০০৭ সালে ওই মামলায় তার ২৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ড হয়েছিল। কয়েক বছর সাজাভোগ করার পর তিনি বেরিয়ে আসেন। ১৯৯৮ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত শহরে আলোচিত ৪-৫টি মামলার আসামি হন। র‌্যাব-১২ বগুড়া কোম্পানির কমান্ডার সুমিত চৌধুরীর নেতৃত্বে সদস্যরা ২০১২ সালে জুয়া ও মদের আসর থেকে মোটা অঙ্কের টাকাসহ মতিনকে গ্রেপ্তার করেছিলেন। গুঞ্জন রয়েছে, মতিনকে গ্রেপ্তার করায় র‌্যাব কমান্ডারকে বগুড়া থেকে বদলি হতে হয়েছিল। গ্রেপ্তারের কিছুদিন পর তিনি জামিনে বেরিয়ে আসেন। তবে রবিবার (২২ জুন) তাকে আদালতে হাজির করা হতে পারে বলে জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা।


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রকেস )
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com