• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

বিস্ফোরকের মজুত শেষ, মধ্যপাড়া খনি থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬ ৮:০৯
আপডেট: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬ ৮:০৯

9666592

বিস্ফোরকের মজুত শেষ, মধ্যপাড়া খনি থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ

দিনাজপুর প্রতিনিধি
ছবি: প্রতিনিধি
বিস্ফোরক সংকটের কারণে দিনাজপুরের মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনিতে পাথর উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে পাথর উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

পাথর উত্তোলনে ব্যবহৃত বিস্ফোরক পদার্থ অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের মজুত শেষ হওয়ায় উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছে খনি কর্তৃপক্ষ। বিদেশ থেকে এই বিস্ফোরক আনার প্রক্রিয়া চলছে এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যে খনির উৎপাদন কার্যক্রম চালু হওয়ার কথা জানিয়েছেন খনির মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও সেবা) সৈয়দ রফিজুল ইসলাম।

তিনি জানান, আমদানি করা বিস্ফোরক দ্রব্যের মজুত ফুরিয়ে যাওয়ায় সাময়িকভাবে পাথর উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। বৈশ্বিক যে যুদ্ধাবস্থা এর জন্য বিদেশ থেকে আমদানি করা বিস্ফোরক আসতে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিস্ফোরকের নতুন চালান আসবে এবং পুনরায় উৎপাদন শুরু হবে। উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ থাকার পাশাপাশি খনির রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলমান রয়েছে।

তবে উৎপাদন বন্ধ থাকলেও দেশের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে পাথরের কোনও ঘাটতি হবে না। বর্তমানে এই খনির অভ্যন্তরে ১৫ লাখ মেট্রিক টন পাথর মজুত রয়েছে।

উল্লেখ্য, দেশের একমাত্র পাথরখনি হিসেবে বাণিজ্যিকভাবে ২০০৭ সালের ২৫ মে যাত্রা শুরু করে দিনাজপুরের মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড (এমজিএমসিএল)। বর্তমানে প্রায় সাড়ে ৭০০ শ্রমিক তিন শিফটে খনিতে কাজ করছেন এবং প্রতিদিন গড়ে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার মেট্রিক টন পাথর উত্তোলন করা হয়।

প্রথম অবস্থায় খনি থেকে দৈনিক ১ হাজার ৫শ’ থেকে ১ হাজার ৮শ’ টন পাথর উত্তোলন হলেও পরে তা নেমে আসে মাত্র ৫শ’ টনে। উৎপাদনে যাওয়ার পর থেকে ২০১৩ সালের জুন পর্যন্ত লোকসানের পরিমাণ দাঁড়ায় শতকোটি টাকার উপরে। এমন অবস্থায় দেশের চাহিদা মেটানো ও উৎপাদন বাড়াতে ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ৯২ লাখ মেট্রিক টন পাথর উত্তোলনের জন্য খনির উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয় বেলারুশের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রাস্ট কনসোর্টিয়াম-জিটিসি’কে।

পাথরখনির উন্নয়ন ও উৎপাদনে দুই শতাধিক বিদেশি খনি বিশেষজ্ঞ ও দেশি প্রকৌশলী এবং ৭ শতাধিক দক্ষ খনিশ্রমিক ও দুই শতাধিক কর্মকর্তা তিন শিফটে কাজ শুরু করে জিটিসি। এরপর থেকে লাভের মুখ দেখতে পায় খনিটি। পাথরের মজুত বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি চাহিদামাফিক প্রতিষ্ঠানগুলোতেও সরবরাহ হতে শুরু করে মধ্যপাড়া খনির পাথর।

অব্যাহতভাবে সরকারের লাভের মুখ দেখায় পাথর উত্তোলনের জন্য ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রাস্ট কনসোডিয়াম জিটিসির সঙ্গে ৮৮ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন পাথর উত্তোলনের জন্য ছয় বছরের জন্য দ্বিতীয় দফায় পুনরায় চুক্তি করে মধ্যপাড়া গ্রানাইড মাইনিং কোম্পানি লি. (মধ্যপাড়া পাথরখনি) কর্তৃপক্ষ।

খনি সূত্রে জানা যায়, দেশে প্রতি বছর ছয় হাজার কোটি টাকার (প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টন) পাথরের চাহিদা রয়েছে। যেভাবে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে এতে বছরে ১৭ থেকে ১৮ মেট্রিক টন পাথর সরবরাহ করা সম্ভব এই খনি থেকে।


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রকেস )
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com