গত ১১ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদের- ২৪৪ ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের এমপি উকিল আবদুস সাত্তার ভূইঁয়া পদত্যাগ করলে আসনটি শূন্য হয়ে যায়। এই শূন্য আসনে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে উপ-নির্বাচন। তফসিল অনুযায়ী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ সময় ৫ জানুয়ারি।
এদিকে ইতোমধ্যে মাঠে নেমে পড়েছেন শূন্য পদে সম্ভাব্য প্রার্থী ও প্রার্থীর অনুসারীরা। চায়ের স্টল থেকে শুরু করে সবখানে চলছে আলোচনা-বিচার বিশ্লেষণ। তবে আলোচনার মূল বিষয় একটাই, কে হচ্ছেন নৌকার প্রার্থী? জাতীয় পার্টি কিংবা অন্য কোনো দল নয়, নৌকার মাঝি কে হচ্ছেন, কার হাতে উঠছে নৌকার টিকিট- তা নিয়েই চলছে জল্পনা কল্পনা।
অন্যদিকে কৌশলী অবস্থানে রয়েছে জাতীয় পার্টি। তারা এ নির্বাচনে প্রার্থী দেবে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। কিন্তু তা নিয়ে নেই কোনো উত্তেজনা, আলোচনা। জাপা নীরবে কাজ করছে বলে ধারণা করছেন অনেকে।
এ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলে একাধিক সূত্রে জানা যায়। অনেক নেতারা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশায় সরাইল, আশুগঞ্জের মোড়ে মোড়ে ব্যানার ফেস্টুনে দোয়া ও ভোট প্রার্থনা করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকেও তাদের সম্ভাব্য প্রার্থীতা ঘোষণা করে যাচ্ছেন। সব মিলিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের নির্বাচন মাঠ এখন তুঙ্গে।
এই উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩১২ মহিলা সংরক্ষিত আসনের এমপি উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম (শিউলি আজাদ), সরাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট নাজমুল হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঈন উদ্দিন মঈন, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল বারী চৌধুরী মন্টু, ঢাকা ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট সৈয়দ তানভীর হোসেন কাউসার, সরাইল উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাবেক সভাপতি এডভোকেট আশরাফ উদ্দিন মন্তু, আন্তর্জাতিক মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও বিবিসি হেড অব দ্য নিউজ সাংবাদিক মো.জালাল মিয়া, অরুয়াইল আব্দুস সাত্তার ডিগ্রী কলেজের সভাপতি এডভোকেট কামরুজ্জামান আনসারী ও অধ্যক্ষ শাজাহান আলম সাজু।
শেষ পর্যন্ত নৌকার টিকিট কার হাতে উঠছে তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে কেন্দ্রের ঘোষণা পর্যন্ত। টিকিট যেই আনুক, নৌকার হয়েই কাজ করার কথা বলছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তাদের প্রত্যাশা, দলীয় প্রার্থী হিসেবে ত্যাগী ও পরীক্ষিত কাউকে বেছে নেয়া হবে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়ন দাখিলের শেষ তারিখ আগামী ৫ জানুয়ারি, রিটার্নিং কর্মকর্তা কর্তৃক মনোনয়ন বাছাই ৮ জানুয়ারি, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৫ জানুয়ারি।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়,উপ-নির্বাচন ইবিএম মেশিনে অনুষ্ঠিত হবে।













