এম এনাম হোসেন, চট্টগ্রাম থেকে
ছবিঃ প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ১০নং পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের উত্তর গুজরা গ্রামের (১নং ওয়ার্ড) অন্তর্গত ঐতিহ্যবাহী মোহছেন আলী সড়কের ব্রিক সলিন এর অবস্থা এখন চরম নাজুক। বর্ষা মৌসুমে কাদা-পানি আর শুকনো মৌসুমে ভাঙা-চোরা ইটের খোয়া মিলে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাউজান-নোয়াপাড়া সড়ক সেকশন-২ এর (নোয়াপাড়া মুখি) কমলা পিতার সেতু পার হয়ে দক্ষিণে হিন্দু মন্দির আদ্যাপীঠের উত্তর পাশের সীমানা প্রাচীর থেকে শুরু হয়ে পূর্ব দিকে মোহছেন আলীর বাড়ীর বাইতুল আমান জামে মসজিদ ঘেঁষে খালকুল পর্যন্ত প্রায় ১৭শত ফুট দীর্ঘ এই সড়কটি গ্রামের অন্যতম পুরাতন ও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম।
স্থানীয়দের মতে, সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, মসজিদগামী মুসল্লি, অসুস্থ রোগী সহ সাধারন মানুষ চলাচল করে। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ইট উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে হাঁটুপানি জমে যায়। এতে ভ্যান, রিকশা, মোটরসাইকেল তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটে চলাচল করা খুবই কষ্টকর।
উত্তর গুজরা গ্রামের বাসিন্দা সমাজসেবক মো. গোলাফুর রহমান, খোরশেদ আলম, মোস্তফা কামাল, সামশুল আলম, মোজাফফর আহমেদ, প্রবাসী মোহাম্মদ আলী, কামাল উদ্দিন, মো. ফোরকান, মনচুর আলম, সাইফুল আজম অপু, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মো. মারুফ প্রমূখ তাদের অভিমত ব্যক্ত করে বলেন, এই সড়কটি আমাদের বাপ-দাদাদের আমলের। প্রাচীন এই সড়কটি অতীব গুরুত্বপূর্ন হওয়া সত্বেও সংস্কারের জন্য কতৃপক্ষের কোন নজর নেই। ফলে, শুষ্ক কিংবা বর্ষা উভয় মৌসমে উক্ত সড়ক দিয়ে মানুষের চলাচল চরম দুর্ভোগের। অবকাঠামো উন্নয়ন ছাড়াও মূলত সবক্ষেত্রে এই এলাকার জনসাধারণ বৈষম্যের শিকার বলে তারা দাবী করেন। বিগত ১৭ বছর পতিত একটি গোষ্টীর নেতিবাচক মনোভাবের কারনে মোহছেন আলী সড়ক, বাইতুল আমান জামে মসজিদ, কবরস্থান- পুকুরের সংস্কার,উত্তর গুজরা উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংস্কার ও উন্নয়ন কাজে কোন অগ্রগতি হয়নি বললেই চলে। সেক্ষেত্রে বর্তমান নির্বাচিত সরকারের কাছে প্রত্যাশিত হয়ে মোহছেন আলী সড়ককে আরসিসি ঢালায়ের মাধ্যমে সংস্কারের জোড় দাবী তুলেছেন তারা।
এছাড়াও এলাকাবাসীর দাবি, দুর্ভোগ লাঘবে সড়কটির পুরাতন ব্রিক সলিন তুলে দ্রুত আরসিসি ঢালাই করা হোক। এতে গ্রামের প্রায় ৭ হাজার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে এবং স্কুল-কলেজ, মসজিদ- মাদ্রাসা পড়ুযা ছাত্র/ছাত্রী ভোগান্তির সমাপ্তি হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভুক্তভোগীরা, তারা দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করে বরাদ্দের ব্যবস্থা নিতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সড়কটি সংস্কার হলে উত্তর গুজরা গ্রামে যোগাযোগ ব্যবস্থায় একটি পরিবর্তন হবে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।












