ছোট-ছোট গাছ। বয়স মাত্র বছরখানেক। এরইমধ্যে গাছে গাছে ধরা পড়েছে মালটা ফল। লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার হাজিমারা পুলিশ ফাঁড়ি থানা ভবনে প্রবেশে চোখে পড়বে সারিবদ্ধ এ মলটা বাগান। উন্নত জাতের প্রায় দুইশতাধিক গাছে প্রত্যেকটিতে মলটা দোলছে। দেখলে মন ভরে উঠবে যে কারোরই।
বাগানে মাল্টা চাষে কোনো ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করা হচ্ছে না। বিষমুক্ত মালটা চাষ করতে পেরে হাজিমারা ফাঁড়ি থানার সকল পুলিশ সদস্য মহাখুশি। শুধু এখানে মলটা বাগানই নয়, রয়েছে আরও হরেক ফলের গাছ। মলটা বাগানের পাশেই রয়েছে পেয়ারা বাগান। সবেমাত্র পেয়ারা ধরেছে।
প্রায় ৩ একর জায়গার মাঝখানে থানা ভবন। এর দুইপাশে রয়েছে প্রায় ৪০ প্রজাতির গাছ।
দুই শতাধিক মলটা গাছ ও অর্ধশত গাছ নিয়ে পেয়ারা বাগান ছাড়াও থানা এরিয়ায় রয়েছে ৮টি কাঁঠাল, ২টি লিচু, ৬টি নারিকেল, ২টি লেবু গাছ। এরমধ্যে ফল গাছে ধরা পড়েছে ফল। ফুলগাছে ধরা পড়েছে ফুল। বাহারী ফল আর ফুলের ঘ্রাণে চারপাশ জুড়ে ম-ম অবস্থা। থানা ক্রয় করতে হয় না কাঁচাবাজার। নিজেরাই শাকসবজি আবাদ করে নিজেদের চাহিদা মেটান।
হাজিমারা ফাঁড়ি থানা প্রাঙ্গণে পরিবারসহ ঘুরতে আসা তুহিন চৌধুরী জানান, থানা প্রাঙ্গণের এই মাল্টা বাগানটি খুবই মনোমুগ্ধকর। বাচ্চারা এখানের ফুল ও ফলের গাছগুলো দেখে আনন্দিত হয়। তাই তাদেরকে নিয়ে প্রায়ই এখানে আসি।
এ বিষয়ে হাজিমারা পুলিশ ফাঁড়ি থানার ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ বলেন, পুলিশ সুপার মহোদয়ের তত্ত্বাবধানে আমাদের ফাঁড়ি থানার পুলিশ সদস্যরা প্রায় ৪০ প্রকারের ফলজ গাছের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির ওষধি বৃক্ষ ও ফুলের চারা রোপণ করেছে। আমাদের এখানে সেবাপ্রার্থী যারা আসবেন তারা এই পরিবেশ দেখে মুগ্ধ হবেন বলে আমরা আশাবাদী।
এ বিষয়ে রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিপন বড়ুয়া বলেন, ‘হাজিমারা ফাঁড়ি থানা পরিবেশ বান্ধব। এখানের ফল বাগান দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘হাজিমারা ফাঁড়ি থানার পুলিশ ডিউটি থেকে ফিরে ফরমালিন মুক্ত আম খেতে পারবে। এ থানার ফল বাগান দেখে অন্য থানাও এ ধরণের বাগান করতে উৎসাহিত হবে।’












