• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

শরীয়তপুর-ঢাকা, শরীয়তপুর-চাদপুর মহাসড়ক চলাচলের অযোগ্য,জনদুর্ভোগ চরমে

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৫ মার্চ, ২০২৫ ৩:০৩
আপডেট: মঙ্গলবার, ২৫ মার্চ, ২০২৫ ৩:০৩

960002 25

শরীয়তপুর-ঢাকা, শরীয়তপুর-চাদপুর মহাসড়ক চলাচলের অযোগ্য,জনদুর্ভোগ চরমে

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
শরীয়তপুর-ঢাকা ও শরীয়তপুর-চাদপুর মহাসড়কে কাজ চলছে ঢিলে ঢালা ভাবে।শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবা পদ্মাসেতু সংযোগ সড়কে বিভিন্ন জায়গায় যানবাহন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বেশীর ভাগ রাস্তাই খানাখন্দকে ভরা । শরীয়তপুর-নরিসিংহপুর ফেরীঘাট পর্যন্ত যানবাহন চলাচলের অযোগ্য হওয়ায় জনসাধারনের দুর্ভোগ চরম আকার ধারন করেছে। সড়কের বেহাল দশার কারনে শরীয়তপুরের মানুষ অতিষ্ঠ। ৩ টি প্যাকেজের মধ্যে একটি প্যাকেজের কাজ এখন ও শুরু না করায় বেড়েই চলছে ভোগান্তি। জরুরী ভিত্তিতে মহাসড়কের কাজ সম্পন্ন করার দাবী শরীয়তপুর জেলাবাসির।
শরীয়তপুর সড়ক বিভাগ ও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে শরীয়তপুর সদর থেকে জাজিরা নাওডোবায় পদ্মা সেতুর দক্ষিণ প্রান্ত পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটার সড়কের কাজটি একনেক বৈঠকে অনুমোদন হয়। পরে ২০২১ সালে সড়ক ও জনপদ বিভাগ এ কাজের দরপত্র আহ্বান করে। পরে তিনটি প্যাকেজে সড়কটির কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জামিল ইকবাল, মেসার্স সালেহ আহম্মেদ ও মীর হাবিবুল আলম জেবি মাহবুব ব্রাদার্স। এর মধ্যে শরীয়তপুর সদর থেকে জাজিরা কলেজ মোড় পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটারের ১ নম্বর প্যাকেজের মেসার্স সালেহ আহম্মেদ, জাজিরা কলেজ মোড় থেকে নওডোবা পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার সড়কের কাজ নেয় জেবি মাহবুব ব্রাদার্স।এ ছাড়া কৃতিনাশা নদীর উপর কোটাপাড়া ব্রিজ এবং জাজিরার কাজিরহাট ব্রিজ নিয়ে দুই নম্বর প্যাকেজের পায় মেসার্স জামিল ইকবাল। এর মধ্যে ১ নম্বর ও ৩ নম্বর প্যাকেজে সড়কের জন্য ৩৭০ কোটি ৩ হাজার ৩১৬ টাকা এবং সেতু দুটির জন্য ৫৭ কোটি ৯৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। বর্তমানে ১ নম্বর প্যাকেজে ৭৫ শতাংশ এবং ২ নম্বর প্যাকেজে ৬৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা সড়ক বিভাগ।
শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়কের পদ্মাসেতু পর্যন্ত নাওডোবা অংশে ২৭ কিঃমিঃ সড়কটি দীর্ঘ ৫ বছরেও বিভিন্ন জটিলতার কারনে কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। আবার ঠিকাদারী প্রতিষ্টানের ও রয়েছে কাছে ব্যাপক গাফিলতি। ১৮ কিলোমিটার অধিগ্রহনের কাজ শেষ হলেও এখন ও গত ৬ বছরে বাকী ৯ কিলোমিটার রাস্তার জায়গা অধিগ্রহনের কাজ শেষ করতে পারেনি । এ সড়কটির আওতায় ফোর লেনের জন্য জমি অধিগ্রহন করে দুই লেনের কাজ চলমান রয়েছে। এ সড়কে কীর্তি নাশা নদীর উপর কোটাপাড়া ব্রীজ ও কাজিরহাট শাখা নদীর উপর বিদ্যমান এ দুটি ব্রীজের কাজ ৫ বছর যাবত চলমান। কোটাপাড়া নড়বড়ে ব্রীজের উপর দিয়ে জীবনের ঝুকি নিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল করছে। বিশেষ করে রাজনগর থেকে জাজিরা টিএন্ডটি মোড় হয়ে পদ্মাসেতু পর্যন্ত রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। তার পরেও বিকল্প কোন রাস্তা নাথাকায় জীবনের ঝুকি নিয়ে যাত্রি ও যানবাহন চলাচল করছে। মাঝে মধ্যে বিরাট বিরাট সড়ক দুর্ঘটনায় তাজা তাজা প্রাণ ঝড়ে যাচ্ছে। এছাড়া শরীয়তপুরের মনোহর বাজার থেকে নরসিংহপুর ফেরীঘাট পর্যন্ত চাদপুর-শরীয়তপুর মহাসড়কের একই অবস্থা। দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চলের খুলান, যশোহর, বাগেরহাট, বেনাপোল,ভোমরা ,সাতক্ষিরা,মাগুরা,ঝিনাইদহ,কুষ্টিয়া,ভেড়ামারা,নড়াইল,ফরিদপুর,গোপালগঞ্জ,রাজবাড়ি,মাদারীপুর,চট্রগ্রাম,কুমিল্লা, নোয়াখালী ফেনী, চাদপুরসহ ২১ জেলা যানবাহন ও যাত্রিরা সড়ক পথে এ সড়ক দিয়ে যাতায়ত করে থাকে। এ সড়কে পণ্যবাহী ট্রাক কাচামাল নিয়ে দেশের একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে প্রতিদিন যাতায়ত করে। সরকার এ সড়কটিকে ফোরলেন রাস্তার জন্য জমি অধিগ্রহন করেছে। আপাতত ডাবল লেনের কাজ চলমান রয়েছে। দীর্ঘ ৪ বছর যাবত এ সড়কটির করুন অবস্থা । যানবাহন চলাচলতো দুরের কথা পায়ে হেটে চলা ও কষ্টকর হয়ে পড়েছে। পুরো ৩৪ কিলোমিটার রাস্তার প্রায় ২০ কিলো মিটার রাস্তা এখন খানাখন্দকে ভরা।বিশেষ করে মনোহরবাজার মোড় থেকে ভেদরগঞ্জ বাজার পর্যন্ত খুবই খারাপ। সড়কের মাঝখানে বিরাট বিরাট গর্তে পরিনত হয়েছে। যাত্রিবাহী বাস ও মাল বোঝাই ট্রাক মাঝে মধ্যেই সড়কের মাঝখানে ফেসে গিয়ে রাস্তায় বিরাট যানঝটের সৃষ্টি হয়। ফলে ভোগান্তিতে পড়ে যাত্রি ও চালকরা।ঘন্টার পর ঘন্টা রাস্তায় সময় নষ্ট হচ্ছে।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফেতরকে সামনে রেখে লাখ লাখ মানুষ এ রাস্তা দিয়ে যাতায়ত করবে। মানুষের মনে আতংক যাত্রাপথে কোন দুঘটনায় নাকি কারো প্রাণহানি ঘটে।
শরীয়তপুর সুপার সার্ভিসের বাস চালক নুর হোসেন বলেন, শরীয়তপুর জেলাবাসির প্রাণের দাবী জরুরী ভিত্তিতে রাস্তাটি সংস্কার করে যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে তোলা হোক। প্রায়ই আমাদেও এ রাস্তায় বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।
তিনটি প্রকল্পে দুই দফা কাজের মেয়াদ শেষে মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়।
ঢাকা শরীয়তপুর মহা সড়কের যাত্রী আশিক মিয়া বলেন, আমাদের শরীয়তপুর -ঢাকা মহা সড়কের কাজ টি পদ্মা সেতু উদ্ভোধনের আগে হওয়ার কথা ছিল। অদৃশ্য কারনে আমাদেও এ রসাতার কাজটি দীঘ্যদিনে হচ্ছে না।
ট্রাক ড্রাইভার আতিক মাল বলেন, আমারা এ ভাংগা চুরা রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করার কারনে আমাদের গাড়ীর পাতি চাক্কা সহ নানা রকম যন্ত্র পাতির ক্ষতি হচ্ছে।
শরীয়তপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ নাবিল হোসেন বলেন, শরীয়তপুর জমি অধিগ্রহন সহ নানা জটিলতার কারনে কাজে বিলম্ব হয়েছে। ফলে রাস্তা একটা অংশ খারাপ হয়ে গেছে। বর্তমানে দুটি রাস্তায়ই কাজ চলমান রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি ঈদের আগেই রাস্তা দুটিতে যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে দিব। যাতে যাত্রী সহ যানবাহনের চলাচলে দুর্ভোগ কম হয়। এ জন্য আমরা নানা ভাবে কাজে তদারকী করছি।


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রকেস )
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com