জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি : সংগৃহীত
৫ আগস্ট ও ১৫ আগস্টকে ঘিরে কোনো শঙ্কা নেই, পুলিশ প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘কোনভাবেই ফ্যাসিবাদের উত্থান হতে দেওয়া হবে না। ফ্যাসিস্টদের দমনে পুলিশ আরও কঠোর হবে।’
সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে ঝিনাইদহে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
মাদকের বিষয়ে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে ডিআইজি বলেন, ‘সরকারের এ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে পুলিশ পুরোপুরি প্রস্তুত। কোনো পুলিশ সদস্য যদি মাদকে জড়িয়ে পড়ে, তবে ডোপ টেস্টের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে চাকরিচ্যুত করা হবে। মাদকের ব্যাপারে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। ব্যক্তির কোনো অপকর্মের দায় পুলিশ বাহিনী নেবে না।’
ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের উদ্যোগে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান।
তিনি আরও বলেন, ‘ডাকাতি ও দস্যুতা কঠোর ভাবে দমনের জন্য পুলিশ সুপারদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সততা, দক্ষতা, যোগ্যতা এবং সমাজের প্রতি কমিটমেন্ট (দায়বদ্ধতা) রয়েছে, এমন অফিসারদেরই পদায়ন করা হবে। এ ছাড়া নারীদের ওপর সহিংসতা দমনে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামি গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিশু ও যুবসমাজকে ভালো কাজের দিকে এগিয়ে নিতে পুলিশ সম্প্রীতিমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও তিনি জানান।’
তথ্য আদান-প্রদান প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান অবাধ তথ্যের যুগে সঠিক তথ্য সময়মতো না দিলে গুজব ছড়াতে পারে। তাই দ্রুত দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তাদের সঠিক তথ্য গণমাধ্যমকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তথ্যের অবাধ প্রবাহ বজায় রেখে মানুষের কাছে সঠিক বার্তা পৌঁছে দিতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান বলেন, ‘সন্ত্রাস, মাদক ও সামাজিক দ্বন্দ্ব নিয়ন্ত্রণে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে ডাকাত ও চোরচক্র ধরা হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিদ্বেষ ও গুজব ছড়ানোদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।’
জনবল সংকটের কথা তুলে ধরে পুলিশ সুপার বলেন, ‘জেলার প্রায় ২০ লাখ মানুষের সুরক্ষায় মাত্র ১ হাজার ৬৬৮ জন পুলিশ সদস্য কাজ করছেন। এই অল্পসংখ্যক পুলিশ দিয়েই সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। মতবিনিময় সভায় সাংবাদিক নেতারা বক্তব্য দেন। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুশফিকুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজ হোসেন এবং সহকারী পুলিশ সুপার (শৈলকুপা সার্কেল) আখতারুজ্জামানসহ পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।’












