বিনোদন ডেস্ক
ছবিঃ সংগৃহীত
বাংলাদেশের এক যুবককে বিয়ে করে নতুন জীবন শুরু করেছেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় ব্লগার রুবিনা মারুফ। বিয়ের খবর আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছিলেন তিনি। এবার নতুন এক পোস্টে বাংলাদেশি জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার পেছনের গল্প, নিজের অনুভূতি এবং বাংলাদেশের প্রতি ভালোবাসার কথা তুলে ধরেছেন।
রুবিনা জানান, তার স্বামী রকিবুল হাসান বাংলাদেশের রংপুরের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি পাকিস্তানের ইসলামাবাদে কর্মরত। তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে পাকিস্তানের লাহোরে।
নতুন পোস্টে রুবিনা লেখেন, “হ্যাঁ, আমি একজন বাংলাদেশি পুরুষকে বিয়ে করেছি। প্রথমবার বাংলাদেশে যাওয়ার সময় মা আমাকে প্রতিশ্রুতি দিতে বলেছিলেন, সেখানে যেন আমি মারা না যাই বা বিয়ে না করি। কিন্তু আল্লাহর পরিকল্পনা সব সময়ই আমাদের পরিকল্পনার চেয়ে বড়। তিনি জানতেন, আমি বাংলাদেশকে কতটা ভালোবাসি এবং নিজের শিকড়ের সঙ্গে কতটা গভীরভাবে যুক্ত অনুভব করি।”
বিয়ের দিন শাড়ি পরার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। রুবিনার ভাষ্য, বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে সম্মান জানানো এবং দুই দেশের মধ্যে ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বন্ধনকে উদ্যাপন করতেই তিনি শাড়ি পরেছিলেন।
তিনি আরও জানান, এই বিয়ে নিয়ে তার মা খুবই খুশি ও সন্তুষ্ট। বাবা আবেগাপ্লুত হলেও মেয়ের সিদ্ধান্তে আনন্দিত। খুব শিগগিরই বাবা-মাকে বাংলাদেশে নিয়ে আসার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে বিয়ের খবর জানিয়ে দেওয়া পোস্টে রুবিনা লিখেছিলেন, “একজন বাংলাদেশিকে বিয়ে করলাম। পুরো বিষয়টা সহজ ছিল না। তবে আমার জীবনের পথ যেদিকে যাওয়ার কথা ছিল, তা মেনে নেওয়া আমাকে এমন এক আনন্দ দিয়েছে, যা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।”
সেই পোস্টে তিনি আরও লিখেছিলেন, “নিকাহর দিনে বাবা-মায়ের মুখে গর্ব ও আনন্দের হাসি দেখতে পাওয়াটাই ছিল আমার সবচেয়ে বড় আশ্বাস। সীমান্ত পেরিয়ে এই ভালোবাসা, নতুন সূচনা এবং একজন বাংলাদেশি জীবনসঙ্গী পাওয়ার জন্য আলহামদুলিল্লাহ। আমার হৃদয় আজ পরিপূর্ণ, আমার বাবা-মা অত্যন্ত আনন্দিত এবং জীবনের বাকি সময় নিয়ে আমি ভীষণ রোমাঞ্চিত।”
উল্লেখ্য, রুবিনা মারুফের পারিবারিক শিকড় বাংলাদেশের যশোরে। তার বাবা ১৯৬৮ সালে যশোর থেকে পাকিস্তানের পাঞ্জাবে চলে যান এবং সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। পারিবারিক সেই শিকড়ের টান এবং বাংলাদেশের প্রতি নিজের গভীর ভালোবাসার কথাই সাম্প্রতিক পোস্টে তুলে ধরেছেন এই পাকিস্তানি ব্লগার।












