শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি : সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন বলেছেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী একজন অসাম্প্রদায়িক নেতা, যিনি দেশের সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষকে সমানভাবে ধারণ করেন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে জন্মাষ্টমী উৎসবে তিনি এ কথা বলেন।
রাশেদ খাঁন বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী একজন অসাম্প্রদায়িক নেতা, যিনি দেশের সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষকে সমানভাবে ধারণ করেন। তার নেতৃত্বে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় রয়েছে, যেখানে ধর্ম যার যার, কিন্তু নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার সবার।
অসাম্প্রদায়িক চেতনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যে ধর্মেরই অনুসারী হই না কেন, সব ধর্মের মূল শিক্ষা হচ্ছে শান্তি, শৃঙ্খলা, মানবতা ও সম্প্রীতি। বাংলাদেশে কোনো নাগরিক যেন তার ধর্মীয় পরিচয় কিংবা রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে বৈষম্য বা নির্যাতনের শিকার না হন—এটি আমাদের সবার প্রত্যাশা। অতীতে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিশ্বজিৎকে হত্যা করা হয়েছিল। আমরা চাই না, ভবিষ্যতে আর কোনো বিশ্বজিৎ এ ধরনের নৃশংস হামলার শিকার হোক। এ ধরনের সহিংসতা ও বৈষম্যের সংস্কৃতি যেন আর কখনো ফিরে না আসে, সে জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ব্যাপারে তিনি বলেন, অতীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ বৈষম্য ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বর্তমান সরকার এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত থাকবে এবং কোনো সনাতন ধর্মাবলম্বীর ওপর ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে হামলা বা নিপীড়নের ঘটনা ঘটবে না। একটি অসাম্প্রদায়িক, শান্তিপূর্ণ, বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই আমাদের অভীষ্ট লক্ষ্য।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সনাতনী শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উদ্যোগে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ৫২৫৩তম আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন।
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন ধর্মের মানুষের আচার-অনুষ্ঠান ভিন্ন হলেও শান্তি, মানবতা, ন্যায় ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য অভিন্ন। শ্রীকৃষ্ণের জীবন ও দর্শন থেকে সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখা, সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা এবং সব ধরনের অনিষ্ট থেকে দূরে থাকার শিক্ষা পাওয়া যায়। তাঁর এই মহান শিক্ষাকে আমাদের ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে ধারণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ এমন একটি রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত, যেখানে প্রত্যেক ধর্মাবলম্বী নিজ নিজ ধর্মীয় অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে স্বাধীনভাবে বসবাস করতে পারবেন এবং প্রত্যেকে নিজ নিজ ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পালন করতে পারবেন। একই সঙ্গে ভিন্নমতের মানুষও স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের সুযোগ পাবেন। অন্যায়, বৈষম্য ও সাম্প্রদায়িকতার ঊর্ধ্বে উঠে একটি শান্তিপূর্ণ, মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
উপাচার্য বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আধুনিক, মানবিক ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এগিয়ে নিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সব ভেদাভেদ ও সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় সম্মিলিতভাবে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল। তিনি জন্মাষ্টমীর তাৎপর্য তুলে ধরে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে শুভেচ্ছা জানান এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।











