সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
লুটপাটের জন্য যে টাকা ব্যয় হচ্ছে, সেই টাকা তো জনগণের পকেট থেকে যাচ্ছে। অন্যদিকে জনগণকে সহযোগিতা করার জন্য যে টাকা সরকারের তহবিলে থাকার কথা, সেই টাকা আজকে নাই বলে চাপটা আরও বেড়ে যাবে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুন) বিকেলে বাজেটের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব কথা বলেছেন।
বনানীর নিজ বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, এই যে এত বড় একটা বাজেট দিয়েছে, এটা বাস্তবায়ন করতে গেলে দিন শেষে টাকা-তো জনগণের পকেট থেকেই যাবে। বিভিন্নভাবে যে ট্যাক্সের কথা বলা হচ্ছে, এগুলো কিন্তু সাধারণ মানুষের পকেট থেকে যাচ্ছে। লুটপাটের জন্য যে টাকাটা ব্যয় হচ্ছে, সেই টাকাটা তো জনগণের পকেট থেকে যাচ্ছে। অন্যদিকে জনগণকে সহযোগিতা করার জন্য যে টাকা সরকারের তহবিলে থাকার কথা, সেই টাকা আজকে নাই বলে চাপটা আরও বেড়ে যাবে।
প্রস্তাবিত বাজেটের সমালোচনা করে আমীর খসরু বলেন, অনির্বাচিত হলে, অবৈধ হলে, দখলদার হলে দেশের মানুষকে যে উপেক্ষা করে যেকোনো কিছু করা যায়, সেটা তারা (সরকার) এই বাজেটে প্রমাণ করেছে। ১০ হাজার কোটি টাকার পদ্মা সেতু ৩০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। ২০ হাজার কোটি টাকা কার পকেটে গেছে? তাদের (সরকার) লুটপাটের টাকা আনার সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছে এই বাজেটের মাধ্যমে। সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতা আজকে যেখানে এসে দাঁড়িয়েছে, লুটপাটের ওই টাকা দিয়ে সাধারণ মানুষকে সহযোগিতা করা যেত।
তিনি বলেন, দেখা যাচ্ছে একটা বাজেটের অর্ধেকের বেশি টাকা তারা দুর্নীতির মাধ্যমে লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছে। অথচ এই টাকা দিয়ে দেশে আরও চার-পাঁচটা পদ্মা সেতু করা যেত। সামাজিক সুরক্ষা বলয় বাড়ানো যেত, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের জন্য ব্যয় করা যেত। বিভিন্নভাবে যে ট্যাক্সের কথা বলা হচ্ছে, সাধারণ মানুষের পকেট থেকে যাচ্ছে। ভ্যাট, উচ্চ মূ্ল্যের বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিলের মাধ্যমে যাচ্ছে। মানুষ সবদিক থেকে আক্রান্ত।
বাজেটের আকার নিয়ে প্রশ্ন না তুলে আমীর খসরু বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে জনগণ এবং দেশের জন্য কতটা ব্যয় হচ্ছে, সেটাই মূখ্য। আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে প্রায় ৭ লাখ কোটি টাকার বাজেটের কত অংশ আমাদের দেশ ও জনগণের জন্য খরচ হচ্ছে?
এর আগে বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে প্রস্তাবিত বাজেট প্রসঙ্গে বিএনপির অনাগ্রহের কথা জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, বাজেট আমাদের কাছে এখন গুরুত্বপূর্ণ না। এজন্য যে, এই লুটেরা, দুর্বৃত্ত সরকারের বাজেট মানেই হচ্ছে আরও লুট, আরও ডাকাতি। আমরা এ বিষয় নিয়ে খুব বেশি আগ্রহী নই।












