• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে আরেকটা একতরফা নির্বাচন হতে যাচ্ছে

প্রকাশ: শনিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৩ ৭:২৪
আপডেট: শনিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৩ ৭:২৪

FF090726 4498 466A 922C 859AC89E07CA

অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে আরেকটা একতরফা নির্বাচন হতে যাচ্ছে

গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা
নিউজ ডেস্ক
আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের যে তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে তা একতরফা। প্রধান বিরোধী দল বিএনপির বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মীকে আটক করে ও সাজা দিয়ে সরকার আরেকটি একতরফা নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই পর্যায়ে বিএনপিকে নির্বাচনে ডাকার অর্থ হচ্ছে ‘গরু মেরে জুতো দান’। শনিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ওয়াইডব্লিউসিএ কনফারেন্স হলে এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

‘সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের পরিবেশ: প্রত্যাশা, বাস্তবতা ও করণীয়’ শীর্ষক এই গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে বেসরকারি সংস্থা দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট। ভোটার সচেতনতা ও নাগরিক সক্রিয়তা প্রকল্পের আওতায় এই আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন করেন দ্য হাঙ্গার প্রজেক্টের গ্লোবাল ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর বদিউল আলম মজুমদার। অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন, বেসরকারি সংগঠন ব্রতীর প্রধান নির্বাহী শারমীন মুরশিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রফেসর রোবায়েত ফেরদৌস।

সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আগামীতে আমরা একটি ইউনিক নির্বাচন দেখতে পাচ্ছি। যেমন খুশি তেমন নির্বাচন আরকি। আমরা এখন ঘোরতর সংকটে আছি। পত্রিকার খবরে দেখতে পেয়েছি কিংস পার্টি তৈরি করা হচ্ছে নির্বাচনে নিয়ে আসার জন্য। এদেরকে নিয়ে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে এমন কথাও বলা হচ্ছে।


আজকাল নতুন কথা শুনতে পাচ্ছি। সরকারের সাথে সুসম্পর্ক এমন অনেকে বলছেন আবার কমিশনেরও কেউ কেউ বলছেন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন মানে হচ্ছে ভোটারের অংশগ্রহণ। কোন রাজনৈতিক দল এলো বা না এলো তা দেখার বিষয় নয়- এমনটা হলেও তো আমি ভালো বলতাম। কিন্তু এখানে ভোটারের উপস্থিতি কতো থাকে? তবে যে প্রস্তুতি দেখা যাচ্ছে তাতে নির্বাচন হয়তো করে ফেলবে, কিন্তু নির্বাচনের পর কী হবে, এটি নিয়ে আমি সন্দিহান।
সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে শুরু করেছে উল্লেখ করে সাবেক এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ঘর থেকে বের হলেই মানুষ আমাকে প্রশ্ন করে, ভোট দিতে পারি না, কী করব? আমি বলি, আল্লাহ আল্লাহ করেন। সরকার ৭ই জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন করতে বদ্ধপরিকর এমনটা মনে হচ্ছে। এটি দিনের আলোর মতো পরিষ্কার যে আরেকটি একতরফা নির্বাচন হচ্ছে। সংলাপের আলোচনা প্রসঙ্গে সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এখন বিভিন্ন মহল থেকে সংলাপের কথা বলা হচ্ছে। নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক দলগুলোকে সংলাপের বসার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিরোধীরা চাইলেও নির্বাচন করতে পারবে না। কারণ, তাদের সব নেতাই এখন জেলে। অনেকেই সাজা পেয়েছেন, আরও অনেকে পাবেন। বেসরকারি সংগঠন ব্রতীর প্রধান নির্বাহী শারমীন মুরশিদ বলেন, সরকার প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এখানে কোনো প্রতিষ্ঠান দাঁড়াতে পারছে না। নির্বাচন কমিশনও শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। একজন নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী হিসেবে আমাদের কাজ করার সুযোগ থেকে কমিশন দূরে সরিয়ে রাখছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রথম কথাই হচ্ছে ‘গভর্নমেন্ট বাই দ্য ডিসকাশন’। তাই সংলাপ চালিয়ে যেতে হবে। সংলাপের কোনো বিকল্প নেই। সংলাপের সময় শেষ হওয়া মানে গণতন্ত্রের মৃত্যু ঘটা। কোনো অবস্থাতেই হতাশ হওয়া যাবে না। সংলাপের সম্ভাবনা কখনো শেষ হয় না। ফিলিস্তিন ও ইসরাইলের মধ্যে সংলাপ হতে পারলে আমাদের এখানে কেন সংলাপ করা যাবে না? আদিবাসী সংগঠক সঞ্জিব দ্রং বলেন, বাংলা ভাষায় একটি শব্দ আছে চশমখোর। আমাদের গারো অভিধানে এই শব্দটি নেই। এখন যে নির্বাচনের দিকে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, সেখানে এমন কিছু প্রার্থী দেখা যাচ্ছে, যারা চশমখোর। সামান্য টাকা-পয়সা ও অন্যান্য লোভে পড়ে একতরফা নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছে। তবে আমরা যেন কথা বলা বন্ধ না করি। কথা বলা চালিয়ে যেতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, সরকার এখন উন্নয়নের কথা বলছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের মনের কথা জানতে চাইলে তারা মুখ খুলে কথা বলতে পারছে না। সরকার ২০১৪ এবং ২০১৮ এর পরে আবারও আরেকটি নির্বাচন একাকি করতে চায়। নির্বাচনে তাদের জন্য হুমকি হতে পারে এমন কাউকে ভোটের মাঠে থাকতে দেয়া হচ্ছে না। এইভাবে নির্বাচন হলে তা কেমন হবে বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু আমি আশাবাদী হতে চাই। মানুষ এখন মুখ খুলতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি বদলাবে বলেই বিশ্বাস করি।


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রকেস )
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com