• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সাহসী রোডম্যাপ : অর্থমন্ত্রী

প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬ ২:৩৭
আপডেট: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬ ২:৩৭

9602 3

অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সাহসী রোডম্যাপ : অর্থমন্ত্রী

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবিঃ সংগৃহীত
দেশে সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বাড়ছে ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাব। বিনিয়োগ বাড়ছে না, কর্মসংস্থান নেই। ব্যবসায়ে খরচ বেশি। খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত জিনিসপত্রের দাম বেড়েই চলেছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় কষ্টে আছেন সাধারণ মানুষ। ব্যাংক খাতে অস্থিরতা, জ্বালানির বাড়তি দাম–এমন হাজারও সংকটে দেশের অর্থনীতি বিপর্যস্ত। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ছক কষেছেন। এসব ছক বাস্তবায়ন করতে বাজেটের আয়, ব্যয়, ঘাটতিসহ প্রায় সব হিসাবে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অঙ্ক প্রাক্কলন করেছেন। স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।

অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় বলেন, ‘কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র গঠনের মূল চালিকাশক্তি অর্থাৎ অর্থনৈতিক ইঞ্জিন দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ক্রমেই দুর্বল হতে হতে একেবারে ধ্বংস হয়েছে। আমরা সেই ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকেই নতুন যাত্রার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে চেয়েছি। এবারের বাজেটে স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও সর্বোপরি ন্যায্যতাকে মূল বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা করেছি, সামষ্টিক কৌশল নির্ধারণ করেছি। এই পরিকল্পনা ও কৌশল বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০৩৪ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হবে।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাধারণ মানুষকে প্ল্যান বাস্তবায়নের স্বপ্ন দেখিয়েছেন। নির্বাচিত সরকারের কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক। প্রায় দুই দশক পর বাজেট দিয়ে আবারও যাত্রা শুরু করেছে বিএনপি সরকার।

তলিয়ে যাওয়া অর্থনীতি ভাসিয়ে তুলতে অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যয়ের বাজেট ঘোষণা করেছেন। অর্থায়নে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বড় রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবারে ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ শিরোনামে বাজেট দিয়ে বাস্তবায়নের সূত্র আঁকতে গিয়ে অর্থ জোগাড়ে অনেক খাতে নতুন কর আরোপ করেছেন। রাজস্ব-জাল বিছিয়ে আটকে ফেলার চেষ্টা করেছেন।

অর্থনীতির বিশ্লেষকরা বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে প্রস্তাবিত বাজেটকে উচ্চাভিলাষী ও অবাস্তব হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছেন, দীর্ঘ মেয়াদে সুফল মিললেও আগামী অর্থবছরে হিসাব মিলবে না অনেক খাতে। আর এতে পুরো অর্থনীতির ঝুঁকি বাড়বে, দ্রব্যমূল্য বাড়বে। জীবনযাত্রার ব্য়য় জোগাড় করা আরও কষ্টকর হয়ে যাবে।

অর্থনীতিবিদরা প্রশ্ন তুলে বলেছেন, অর্থমন্ত্রী সংকটেও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে স্বপ্ন দেখেছেন, বাজেটে স্বপ্ন দেখিয়েছেন। হিসাব মিলবে তো!
তবে অর্থমন্ত্রী জোর দিয়ে বাজেট বক্তৃতায় বলেছেন, ‘আমাদের পরিকল্পনার প্রথম ধাপ–অর্থনীতির পুনরুদ্ধার কার্যক্রম, যা এক বছর মেয়াদি। দ্বিতীয় ধাপ–অর্থনীতির উত্তরণ, যা বর্তমান সরকারের এক থেকে তিন বছর মেয়াদের মধ্যে সম্পন্ন হবে। তৃতীয় ধাপ–সমৃদ্ধ অর্থনীতি বিনির্মাণ, যা আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।’

অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন, ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে কর রাজস্ব ধরা হয়েছে ৬ লাখ ২৯ হাজার কোটি টাকা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছ থেকে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা, এনবিআরবহির্ভূত কর ২৫ হাজার কোটি টাকা, কর ব্যতীত প্রাপ্তি ৬৬ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রস্তাবিত বাজেটে এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে আয়, মুনাফা ও মূলধনের ওপর কর ২ লাখ ১৯ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা, মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট ২ লাখ ২৮ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা, সম্পূরক শুল্ক ৮২ হাজার ২৮৩ কোটি টাকা, আমদানি শুল্ক ৬১ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা, রপ্তানি শুল্ক ৯৯ কোটি টাকা, আবগারি শুল্ক ৭ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা এবং অন্যান্য কর ৩ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোয় হাজারের বেশি পণ্যের দাম ও সব খাতে খরচ বাড়বে। দেশে মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৬০ লাখ। প্রস্তাবিত বাজেটে ১৫০ সিসির ওপরে মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীকে অবশ্যই ই-টিআইএন নিতে হবে। আবার সাধারণ মানুষকে বাধ্যতামূলকভাবেও ই-টিআইএন জমা দিতে হবে। সরকারের আয় বাড়াতে গিয়ে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার (ধারণক্ষমতা ৫ হাজার লিটারের নিচে), আমদানি করা মোটরগাড়ি, সাইকেল ও ওয়াশিং মেশিনের ওপরও কর বাড়ানো হয়েছে। স্মার্ট ঘড়ি, সোনার বার, মধু, আমদানীকৃত ইট, ব্লক, টাইলস ও সিরামিক, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, রিচার্জেবল ও রিমোট কন্ট্রোল ব্যাটারিসহ হাজারের বেশি পণ্যের ওপর কর বসানো হয়েছে। এসব পণ্যের দাম বাড়বে।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুল মজিদ খবরের কাগজকে বলেন, অর্থমন্ত্রী অনেক ভালো ভালো কথা বলেছেন। আগামী পাঁচ অর্থবছর পর্যন্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে অনেক রকম পরিকল্পনার কথা বলেছেন। কিন্তু বড় ব্যবসায়ী, বড় প্রতিষ্ঠান ও বড় জায়গা থেকে আয়ের ক্ষেত্রে কঠোরতা আনেননি।

তিনি আরও বলেন, অনেকে মোটরসাইকেল ব্যবহার করে জীবন চালান। এই মানুষটিকে কেন করজালে আনা হলো। আবার গ্রামের একজন সাধারণ মানুষকেও ১ জুলাই থেকে ব্যাংক হিসাব খুলতে হলে ই-টিআইএন নিতে হবে। এটা ওই সাধারণ আয়ের মানুষের জন্য হয়রানির হবে। অর্থমন্ত্রীর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে দীর্ঘ মেয়াদে সুফল পাওয়া গেলেও আগামী অর্থবছরে সাধারণ মানুষকে হয়রানিতে ফেলবে। সরকারের আয় বাড়াতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী ছাড় দিলেও ছেড়ে দিলেন না। সাধারণ মানুষকে সন্তুষ্টির চেষ্টা করেও অনেক কিছুর দাম বাড়িয়ে ফেলেছেন। বলা যায়, অনেকটা বাধ্য হয়েই সরকারকে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়াতে হয়েছে।

নানা রকম সংকটেও জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে অর্থমন্ত্রী বেশ কিছু পণ্যের দাম কমিয়েছেন। এর মধ্যে মোবাইল সিম, দেশীয়ভাবে তৈরি মোবাইল সেট, ক্যানসারের ওষুধও আছে। কিডনি ডায়ালাইসিসের খরচ কমানো হয়েছে। আমদানি করা কম্পিউটার, ল্যাপটপসহ শতাধিক পণ্যের দাম কমানো হয়েছে। অপ্রদর্শিত অর্থ বিশেষ খাতে বিনিয়োগের শর্ত দেওয়া হয়েছে। আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ব্যাংক খাতে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। রেল ও মেট্রোতে সিনিয়র নাগরিকদের (৬৫ বছর) টিকিটে ছাড় দেওয়া হয়েছে।

সীমিত আর্থিক সক্ষমতার মধ্যেও নতুন সরকারের প্রথম বাজেটে প্রান্তিক মানুষের জন্য সামাজিক সুরক্ষা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, হেলথ কার্ড দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টানাপোড়েনের অর্থনীতিতেও ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধ করতে প্রণোদনা, রাজস্ব ছাড়সহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার হিসাব কষেছেন। অর্থমন্ত্রী শিল্পের অনেক খাতে উৎসে কর কমিয়েছেন। গত ১৬ মাসের মধ্যে মে মাসে মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ ছিল। প্রস্তাবিত বাজেটে ৬০ ধরনের নিত্যপণ্যের ওপর থেকে উৎসে কর কমানো হয়েছে।

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অঙ্কের বাজেট দিয়েছেন, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।

বাজেটে অর্থমন্ত্রী রাজস্ব ও অনুদান ধরেছেন ৭ লাখ ১ হাজার ১৫০ কোটি টাকা এবং বিদেশি অনুদান ৬ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে পরিচালন ব্যয় ধরেছেন ৬ লাখ ৫ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ সুদ ১ লাখ ৫ হাজার কোটি ও বৈদেশিক সুদ ২২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি ৩ লাখ কোটি টাকা। বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে (অনুদান বাদে) ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। বৈদেশিক ঋণ ১ লাখ ৫৫ হাজার কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ ঋণ ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যাংক থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে।
ব্যাংকবহির্ভূত ঋণ ১৫ হাজার কোটি টাকা, সঞ্চয়পত্র থেকে ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, জিডিপি লক্ষ্যমাত্রা ৬৮ হাজার ৩০ হাজার ২৪ কোটি টাকা।
সরকারের প্রথম বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা শতাংশের হিসাবে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৫ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছিল। নতুন সরকার উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জনের এক উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বাস্তবায়নযোগ্য না বলেই মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ঘাটতি অর্থায়নে সরকারকে বরাবরের মতো আগামীতেও বৈদেশিক ঋণ ও অভ্যন্তরীণ খাতের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে এই লক্ষ্য অর্জন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। কেননা টানা কয়েক বছর ধরে দেশের মূল্যস্ফীতি প্রায় দুই অঙ্কের কাছাকাছি বিরাজ করছে। যেখানে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে দেশের বাজারে রেকর্ড পরিমাণ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়াও চলমান।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য ছিল। সংশোধিত বাজেটে ব্যাংক খাত থেকে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ১৪ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। আগামী অর্থবছর উচ্চসুদের সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়া কমাবে সরকার। চলতি অর্থবছরের বাজেটে এ খাত থেকে ২১ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ১৯ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, ব্যয় ও বরাদ্দ বাড়িয়ে অর্থমন্ত্রী প্রস্তাবিত বাজেটে বর্তমান অর্থনীতির সংকট নিরসনের চেষ্টা করেছেন। জনতুষ্টির জন্য অনেক পদক্ষেপ নিয়েছেন। বাজেট নিয়ে অনেকে বাহবা দিলেও বাজেট অবাস্তব ও উচ্চাভিলাষী।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরী খবরের কাগজকে বলেন, বাজেটে অনেক নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। সরকারপ্রধান এসব বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেছেন। এসব অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে হলে অর্থ লাগবে। আর তাই সরকারকে রাজস্ব আদায় বাড়াতে হয়েছে।

টানাপোড়েনের বাজেটে অর্থমন্ত্রী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্য, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা, ‘ব্লু ইকোনমি’, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং সৃজনশীল অর্থনীতির মতো খাতে একাধিক বিশেষ তহবিল ও বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছেন। এর মধ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলা তহবিলের জন্য সর্বোচ্চ ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্ব বাড়ানো হয়েছে। খাদ্য সরবরাহ বাড়াতে এবং কৃষি খাতেও গুরুত্ব বাড়ানো হয়েছে। নতুন পদক্ষেপ হিসেবে কৃষক কার্ড দেওয়া হবে। আগামী অর্থবছরে ভর্তুকি বাড়িয়ে সার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান বিবেচনায় বেতন কাঠামোতে বিশাল অঙ্কের বরাদ্দ রাখা হয়েছে। স্থানীয় ও বৈদেশিক চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য চার মাস মেয়াদি ‘জেনারেল কেয়ারগিভার’ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। বন্ধ কলকারখানা চালু করতে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশের অ্যাভিয়েশন নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করা, আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য সহজতর করার লক্ষ্যে রাজশাহী, কক্সবাজার, যশোর ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক গেটওয়ে হিসেবে উন্নীত করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে সরকার। বাজেটে বেসরকারি খাতের কর্মীদের জন্য সর্বজনীন পেনশন তহবিলের আওতায় অবসর গ্রহণের সময় মোট সঞ্চিত অর্থের ৩০ শতাংশ গ্র্যাচুইটি বা আনুতোষিক হিসেবে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন খবরের কাগজকে বলেন, বরাদ্দ ও গুরুত্ব বাড়ালেও বাজেটে বাস্তবায়নে কঠোরতা আনা হয়নি। অতীতে বরাদ্দ করা অর্থ ফেরত গিয়েছে, খরচ হয়নি¬–এমন নজির আছে।


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রকেস )
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com