জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের স্বাস্থ্যখাত একটি বড় ও অত্যন্ত দক্ষ চিকিৎসা বহর পেতে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
একই সঙ্গে চিকিৎসাসেবার মান নিশ্চিতকরণে কোনো ধরনের অনিয়ম, অবহেলা বা গাফিলতি বরদাশত করা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেলে জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে মেডিকেল কলেজের সম্ভাব্য নির্ধারিত স্থান সরেজমিন পরিদর্শন এবং পরবর্তীতে কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে, বিকেল ৪টার দিকে ক্ষেতলালের বটতলী বাজারে অবস্থিত পরিত্যক্ত ম্যাটসের জায়গাটি পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্ভাব্য স্থান, অবকাঠামো ও সার্বিক পরিবেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী জানান, জয়পুরহাট শহরে ৪০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের পাশেই জয়পুরহাট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হবে। আর এই পরিত্যক্ত ম্যাটসটিকে মেডিকেল কলেজের আবাসিক হোস্টেল হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
পরে বিকেল ৫টায় কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে গিয়ে মন্ত্রী হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসাসেবা, রোগীদের সুযোগ-সুবিধা ও সার্বিক কার্যক্রমের খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি কর্তব্যরত চিকিৎসক, নার্স ও রোগীদের সাথে কথা বলেন এবং বিদ্যমান সমস্যার কথা শোনেন।
স্বাস্থ্যখাতের তৎকালীন স্থবিরতার কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর এই খাতে কোনো জবাবদিহিতা ছিল না। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৬ মাসের মধ্যে স্বাস্থ্যখাতে কাঙ্ক্ষিত শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা ফেরানোর কাজ শুরু করেছি। আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের স্বাস্থ্যখাত একটি গতিশীল ও দক্ষ চিকিৎসা বহর পাবে।’
হাসপাতালের পরিকাঠামো ও আধুনিকায়নে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘উপজেলা পর্যায়ে হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার সংশোধিত ডিপিপি (DPP) অনুমোদন ও টেন্ডারের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। প্রতিটি ১৫১ শয্যার হাসপাতালে প্রসূতিদের চিকিৎসার জন্য ২৫টি শয্যা, শিশুদের জন্য আলাদা ২০টি বিশেষ শয্যা এবং নারী ও পুরুষদের জন্য পৃথক ফিজিওথেরাপি ওয়ার্ড থাকবে। এছাড়া আধুনিক আল্ট্রাসাউন্ড ও উন্নত প্যাথলজি ল্যাব সমৃদ্ধ ৯ তলা বিশিষ্ট নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে।’
তৃণমূল পর্যায়ে বিশেষায়িত চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘ঢাকার ওপর ডায়ালাইসিস সেবার নির্ভরশীলতা কমাতে দেশের প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০টি এবং জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে ১০টি করে ডায়ালাইসিস বেড স্থাপন করা হবে। আগামী ৩ মাসের মধ্যেই জেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সেবা চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী দুই বছরের মধ্যে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত ১০টি করে ডায়ালাইসিস বেড চালু করা হবে, যেন প্রান্তিক মানুষ মাত্র ৩-৪শ টাকায় কিডনি ডায়ালাইসিস করাতে পারেন।’
স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘদিনের জনবল সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘জনসেবা নিশ্চিত করতে খুব শিগগিরই ৫ হাজার নতুন চিকিৎসক নিয়োগের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি পিএসসি-র মাধ্যমে আরও চিকিৎসক নিয়োগের পরীক্ষা চলছে। এছাড়া আড়াই হাজার নার্স ও আড়াই হাজার ফার্মাসিস্টসহ প্রায় ৯ হাজার ৫০০ নতুন জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক আল মামুন মিয়া, জেলা সিভিল সার্জন ডা. রাশেদ মোবারক জুয়েল, কালাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফয়সাল আহম্মেদ, ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির মুন্সি, কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলামসহ হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চিকিৎসক ও নার্সরা।












