জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী হবে, সেটি নির্বাহী বিভাগ নয়, আদালতই নির্ধারণ করবেন। তিনি জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগে রাজনৈতিক দল হিসেবেও আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত শহিদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আদালত নির্ধারণ করবেন আওয়ামী লীগের পরিণতি কী হবে। আমরা নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে নই। তবে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতই সিদ্ধান্ত নেবেন গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত এই দলের কী পরিণতি হবে।’
তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধনের মাধ্যমে ব্যক্তির পাশাপাশি রাজনৈতিক দল বা সংগঠনেরও বিচার করার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।’ তদন্ত সংস্থা ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্তের শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবেই কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে এবং তাদের বিচার নিশ্চিত করা হবে। যারা মনে করছেন আবারও এ দেশে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সুযোগ তৈরি হবে, তারা ভুল ভাবছেন। গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত কোনো শক্তিকে বাংলাদেশের মানুষ আর রাজনীতি করার সুযোগ দেবে না।’
তিনি দাবি করেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘কোনো সরকার যাতে ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদী আচরণ করতে না পারে, সে জন্য অভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণ এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কার বাস্তবায়ন জরুরি।’
জুলাই অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি কোনো এক দিনের ঘটনা নয়, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় এই অভ্যুত্থান সফল হয়েছে। তিনি জুলাইয়ের চেতনাকে দলীয় রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করার আহ্বান জানান এবং শহিদ ও আহতদের প্রত্যাশা বাস্তবায়নকে সরকারের অঙ্গীকার বলে উল্লেখ করেন।
এ সময় তিনি আহত জুলাইযোদ্ধাদের পুনর্বাসনে তাদের শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে পৃথক ক্যাটাগরি করে সহায়তা দেওয়ারও আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ অনেকে।












