জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড সুয়ারেজ অথরিটি-ওয়াসা পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমল থেকেই নানা কারণে আলোচিত-সমালোচিত। বিশেষ করে নিয়োগ বাণিজ্য, প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, অর্থ লোপাট, আউটসোর্সিংয়ে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ, স্বজনপ্রীতি, কর্মকর্তা ও সিবিএ (কালেক্টিভ বার্গেনিং অথরিটি) নেতাদের অযাচিত হস্তক্ষেপ ও চাঁদা তোলার মতো গুরুতর অভিযোগ প্রতিষ্ঠানটিকে বিতর্কিত করেছে। বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের অভিযানে তার প্রমাণও মিলেছে।
সূত্র জানিয়েছে, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ ফ্যাসিস্টমুক্ত হওয়ার পরও ঢাকা ওয়াসার রাজস্ব আদায়ের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকারী আউটসোর্সিংয়ের বিলিং সহকারীদের ওপর অযাচিত হস্তক্ষেপ কমেনি। তাদেরকে পদে পদে কাজের পরিবেশ নষ্ট করে কোনঠাসা করে দেয়া হচ্ছে। প্রতি মাসে তাদের কাছ থেকে তোলা হচ্ছে নামে-বেনামে চাঁদা। এর পেছনে ঢাকা ওয়াসার এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের ৩১৮৫ নেতাদের জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, দলের নাম ভাঙিয়ে ক্ষমতার দাপট দেখাচ্ছেন ওয়াসার সিবিএ সভাপতি আজিজুল আলম খান ও সেক্রেটারি মনির হোসেন পাটোয়ারী।
ঢাকা ওয়াসার জোনগুলো ঘুরে জানা গেছে, সিবিএ নেতাদের আত্মীয়স্বজন পরিচয়ে প্রভাব খাটিয়ে অদক্ষ ও অনভিজ্ঞরা সুবিধামতো বিলিংসহকারীর কাজ বাগিয়ে নিচ্ছেন। এক্ষেত্রে কাজের দক্ষতা বা অভিজ্ঞতাকে কোনো মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময় নানা অন্যায্য তদবিরসহ গত সেপ্টেম্বরে আউটসোর্সিং নতুন নিয়োগে কয়েশ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে ওয়াসার এই সিবিএ নেতাদের বিরুদ্ধে।
সিবিএর পদ থাকলে বা ঘনিষ্ঠ হলেই কম্পিউটার অপারেটর বা অন্য পদে থেকেও খুব দাপটের সাথে নিয়মের তোয়াক্কা না করে বিলিং সহকারীর দায়িত্ব পালন করা যায়। প্রায় প্রতিটি জোনে এর প্রমান রয়েছে। ঢাকা ওয়াসার ২নং জোনে শহিদ, ৭নং জোনে দেলোয়ার, ১নং জোনের আনোয়ার হোসেন ও আকন্দ,৬নং জোনের আহসানুল্লাহ ও মিজানুর রহমান বিলিং সহকারী না হয়েও বিলিং সহকারীর কাজ করছেন।
অন্যান্য জোনের চিত্রও প্রায় একইরকম। দেখা গেছে, অনেকে সুযোগের অপব্যবহার করে ডাবল সাইটে কাজ করে থাকেন। অথচ অনেক বিলিং সহকারী কাজের সাইট না পেয়ে অলস সময় পার করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা ওয়াসার জোনগুলোর বেশ কয়েকজন বিলিং সহকারী জানান, তাদের বেতন কাঠামো অপ্রতুল। পাশাপাশি কর্মপরিধিও কমিয়ে আনা হয়েছে। কয়েক মাসের মধ্যে কাজের এলাকা পরিবর্তন করে দেয়া হচ্ছে। অনেক সময় তুচ্ছ অভিযোগের সত্যতার বিচার না করেই খেয়াল-খুশি মতো চাকুরীচ্যুত কিংবা নির্ধারিত কর্মস্থল থেকে অব্যহতি দেয়া হয়। পাশাপাশি সিবিএ নেতারা প্রতিমাসেই নামে-বেনামে অফিস খরচ, পিকনিক, অডিট খরচ, ঈদ সেলামি, বিশেষ অনুদানের কথা বলে জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেয়। তাদেরকে এ অর্থ প্রদানে অস্বীকৃতি জানালে নানা হয়রানির শিকার হতে হয়।
এছাড়া মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময় সুবিধামতো কাজের এলাকা ও জোন পরিবর্তনের তদবির বাণিজ্য একটি ওপেন সিক্রেট বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে কাজের পরিবেশ নষ্টসহ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বিলিং সহকারীরা।
এ বিষয়ে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক-এমডি মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, কারো বিরুদ্ধ টাকা নেওয়ার সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর কর্তৃপক্ষ তার কাজের স্বার্থে জনবল প্রয়োজনে যে কোনো উপযুক্ত কাজে লাগাতে পারে।
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা ওয়াসা সিবিএ সভাপতি আজিজুল আলম খান ও সেক্রেটারি মনির হোসেন পাটোয়ারীর সঙ্গে যোগাযোগে চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো সাড়া মেলেনি।












