জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবিঃ সংগৃহীত
বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য ও ছিমছাম অনুষ্ঠান। চারপাশ জুড়ে টানানো ব্যানার-ফেস্টুনে ঠাসা পরিবেশ রক্ষার নানা স্লোগান ও বার্তা। তবে বরাবরের চেনা দৃশ্যের তুলনায় এবারের আয়োজনে ব্যতিক্রম ছিল একটি বিষয়—কোথাও নেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের অনেকেরই নজর কাড়ে একটি বিষয়। তারা লক্ষ্য করেন, অনুষ্ঠানের ব্যানার ও ফেস্টুনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কোনো ছবি ব্যবহার করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে উপস্থিতদের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা দেখা যায়।
সাভার থেকে অনুষ্ঠানে আসা পরিবেশকর্মী সুলায়মান নিলয় বলেন, ‘এটি সত্যিই দৃষ্টি আকর্ষণ করার মতো একটি বিষয়। আজকের অনুষ্ঠানের কোথাও ব্যানারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ছবি নেই। দুই দিন আগে একটি পত্রিকায় পড়েছিলাম, প্রধানমন্ত্রী নিজেই নির্দেশ দিয়েছেন সরকারি অনুষ্ঠানে তার ছবি ব্যবহার না করার জন্য। আজকের আয়োজনে সেই নির্দেশনার বাস্তব প্রয়োগ দেখতে পেলাম। আগে সাধারণত ব্যানারে প্রধানমন্ত্রীর একটি বড় ছবি থাকত।’
উল্লেখ্য, গত ৫ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়ার পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একটি পরিপত্র জারি করা হয়।
পরিপত্রে বলা হয়, সরকারি কোনো অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রস্তুত করা ব্যানার, ফেস্টুন কিংবা বিলবোর্ডে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ছবি, থ্রি-ডি বা অন্য যেকোনো আঙ্গিকে ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সেখানে আরও উল্লেখ করা হয়, সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড তৈরির ক্ষেত্রে অনুষ্ঠানের মূল বিষয়বস্তুকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ও সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি ব্যানারের নকশা এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে, যাতে অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য ও বার্তা স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষ মেলা-২০২৬ উপলক্ষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অনুষ্ঠানস্থলের মূল মঞ্চ এবং সম্মেলন কেন্দ্রের চারপাশে পরিবেশবিষয়ক বিভিন্ন বার্তা সম্বলিত ২০টি ব্যানার ও ফেস্টুন টানানো হয়। এসব ব্যানারে পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য ও প্রাণিকুল রক্ষা, বৃক্ষরোপণ এবং গাছের পরিচর্যা বিষয়ে বিভিন্ন সচেতনতামূলক বার্তা তুলে ধরা হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সানজিদা খাতুন বলেন, ‘আগে প্রায়ই দেখা যেত, অনুষ্ঠানের ব্যানারে প্রধানমন্ত্রীর ছবি এত বড় করে ব্যবহার করা হতো যে অনুষ্ঠানের মূল বিষয়টি ঠিকভাবে বোঝাই যেত না। ফলে আয়োজনের আসল উদ্দেশ্য অনেক সময় আড়ালে পড়ে যেত। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তা অবশ্যই প্রশংসনীয়। আমি খোঁজ নিয়ে দেখেছি, প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত মানুষের মনের কথাই প্রতিফলিত করেছে। এজন্য আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতে চাই।’
অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।












