• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

ভোলায় আরও সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকার গ্যাসের সন্ধান

প্রকাশ: সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ৪:০৮
আপডেট: সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ৪:০৮

9666396 16

ভোলায় আরও সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকার গ্যাসের সন্ধান

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
দ্বীপজেলা ভোলায় উত্তোলনযোগ্য ৫.১০৯ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) গ্যাস মজুদের সন্ধান পাওয়া গেছে। যার বাজারমূল্য প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড ও রাশিয়ার জ্বালানি জায়ান্ট গ্যাজপ্রমের এক যৌথ গবেষণা প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ১ লাখ কোটি ঘনফুট (টিসিএফ) গ্যাস দেশের বার্ষিক চাহিদা পূরণ করতে পারে।

গবেষণার আওতায়, শাহবাজপুর থেকে ইলিশা পর্যন্ত ৬০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় একটি ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপ (থ্রি-ডি সাইসমিক সার্ভে) করা হয়, যেখানে ২.৪২৩ টিসিএফ গ্যাস পাওয়া যায়। চর ফ্যাশনে আরেকটি ১৫২.৬ লাইন- কি.মি. দ্বিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপের তথ্যে ২.৬৮৬ টিসিএফ গ্যাস মজুদের সন্ধান পাওয়া গেছে বলে বাপেক্স জানিয়েছে।

২০২০ সালে শুরু হওয়া এই যৌথ গবেষণা চলতি ২০২৪ সালের জুনে শেষ হয়। গবেষণার ফলাফল বা তথ্য জমা দেওয়া হয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ অয়েল, গ্যাস অ্যান্ড মিনারেল কর্পোরেশন (পেট্রোবাংলা) ও বাপেক্সে।

গবেষণা প্রতিবেদন বলছে, ১০ শতাংশ সম্ভাবনায় শাহবাজপুর ও ইলিশায় ২.৪২৩ টিসিএফ, এবং চর ফ্যাশনে ২.৬৮৬ টিসিএফ মজুদ গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে। যা মোট ৫.১০৯ টিসিএফ গ্যাস। উত্তোলনযোগ্য ৫.১০৯ টিসিএফ গ্যাসের দাম– বর্তমান স্পট মার্কেট এলএনজির দর ১০.৪৬ মার্কিন ডলার প্রতি এমএমবিটিইউ হিসাবে প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা।

এছাড়াও ৫০ শতাংশ সম্ভাবনায় ওই স্থানে ৩.৩৯১ টিসিএফ, এবং ৯০ শতাংশ সম্ভাবনায় সর্বনিম্ন ১.৮০৯ টিসিএফ গ্যাস পাওয়া যাবে।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে ভোলায় পাঁচটি কূপ দিয়ে দৈনিক ৮০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে। আরও চারটি কূপ খনন করে রাখা হয়েছে। সেখান থেকেও দৈনিক আরও ৮০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা যাবে। এছাড়া, আরও পাঁচটি কূপের প্রস্তাবনা দেওয়া আছে, সেখান থেকেও আগামী দুই বছরের মধ্যে দৈনিক ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা যাবে। এছাড়াও আরও ১৪টি কূপের স্থান শনাক্ত করা হয়েছে। যা থেকেও আরও ২১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব।

চর ফ্যাশনে ছয়টি ভূত্বাত্তিক কাঠামো শনাক্ত করা হয়েছে। যেখানে ৩০টি কূপ খনন করা যেতে পারে। এই কূপগুলো থেকে দৈনিক ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা যেতে পারে।এসব কূপ চালু হলে, ভোলায় গ্যাসের দৈনিক উৎপাদন পৌঁছতে পারে ৯২০ মিলিয়ন ঘনফুটে। এতে চলমান গ্যাস সংকটের অনেকটাই লাঘব হবে, নির্ভরতা কমবে ব্যয়বহুল এলএনজি আমদানিতে।

বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক (ভূতাত্ত্বিক বিভাগ) আলমগীর হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বাস্তবে ৫ টিসিএফ থেকেও বেশি গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ অতীতে আমরা এসব লোকেশানে ২ টিসিএফ গ্যাস উত্তোলনের স্টাডি নিয়ে কাজ করলেও– পরে গিয়ে ওই জায়গায় ৩ থেকে ৪ টিসিএফ পর্যন্ত গ্যাস উত্তোলন করতে সক্ষম হয়েছি।’

১৯৯৮ সালে বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের পরে এটিই সবচেয়ে বড় গ্যাস মজুতের আবিষ্কার। শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্রটি ১৯৯০ এর দশকের মাঝামাঝি আবিষ্কৃত হলেও– সাম্প্রতিক গবেষণার আগপর্যন্ত এটিকে একটি ছোট গ্যাসক্ষেত্র হিসেবেই ধরা হতো।

গবেষণায় অংশ নেওয়া একজন গবেষক ও নরওয়ের বহুজাতিক জ্বালানি কোম্পানি স্ট্যাটঅয়েল (বর্তমানে ইকুইনর) প্রতিনিধি বলেন, ভোলায় অন্তত ৪৯টি নতুন কূপ খনন করলে– বাসাবাড়ি ও সিএনজির গ্যাস সংকটের সমাধান হবে, যা মূল্যস্ফীতি কমার সহায়ক হবে, পণ্যের দাম কমাবে।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জনেন্দ্র নাথ সরকার বলেন, গ্যাসের অনুসন্ধান ও জরিপের জন্য রাশিয়ার গ্যাজপ্রমের সাথে আমাদের একটি এমওইউ (সমঝোতা স্মারক) রয়েছে। ভোলা অঞ্চলের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। ভোলা থেকে বরিশাল ও তারপর বরিশাল থেকে খুলনা পর্যন্ত পাইপলাইন বসিয়ে আমরা ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার পরিকল্পনা করছি।


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রকেস )
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com