• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

গুম হওয়া সব বাবারা ফিরে আসুক

প্রকাশ: রবিবার, ১৮ জুন, ২০২৩ ৬:০৭
আপডেট: রবিবার, ১৮ জুন, ২০২৩ ৬:০৭

9666589 6

গুম হওয়া সব বাবারা ফিরে আসুক

আজ বিশ্ব বাবা দিবস।বিগত ১৫ বছরে অনেক আলোকিত মানবিক গুণী বাবারা গুম হয়েছে। তাদের বেশিরভাগ বাবাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নিয়ে গেছেন। দুয়েকজন ফিরে আসলেও এখনও হাজার হাজার বাবারা ফিরে আসেনি কিংবা তাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি।আজকের এই দিনে বাবাহারা শিশুরা তাদের বাবাকে কাছে ফিরে পেতে চাই। কেউ কেউ বাবার সাথে ছোটবেলার ছবি দিয়ে আবেগঘন কথা লিখে ফেইসবুকে দিয়ে বাবা ফেরার অপেক্ষায় আছে।আবার কারো কারো তো তাদের বাবার সাথে কোন ছবিও নেই। ছোট্ট শিশু টি একটু একটু বড় হওয়ার পর ছবি দেখিয়ে বলতে হয়েছে এই তোমার বাবা।মায়ের ডাক সহ বিভিন্ন সংগঠনের আয়োজনে গুম হওয়া সন্তানদের ফিরিয়ে দেওয়ার দাবীতে মানববন্ধন কর্মসূচিতে বাবার ছবি নিয়ে দাঁড়িয়েছে।কিন্তু আজো তাদের বাবা ফিরে আসেনি। ঈদ যায় ঈদ আসে, বিজয় দিবস,স্বাধীনতা দিবস কিংবা বাবা দিবসেও তারা ফিরে আসেনা। তখন তাদের জীবন হয়ে উঠে অন্ধকারাচ্ছন্ন,দিশেহারা, মানবেতর। আনন্দ নামক শব্দের সাথে তাদের কারো দেখা হয়না।কাঁদতে কাঁদতে চোখের পানিও শুকিয়ে গেছে। এই অপেক্ষার যেন শেষ নেই। কবে হেসেছে তা তাদের মনেও নেই। সাবেক এমপি ইলিয়াস আলীর সাথে তার ড্রাইভার আনসার আলীকে তুলে নিয়েছে। আজো কাউকে ফিরিয়ে দেয়নি।ইলিয়াস আলী বিএনপির রাজনীতি করতো এই তার দোষ কিংবা অপরাধ কিন্তু ড্রাইভার আনসার এর কি দোষ ছিল? তাকে কেন তুলে নিলো?তারও একটা দোষ ছিলো সে দেখে ফেলেছিলো।ইলিয়াস আলীর বড় ছেলে ব্যারিস্টার হয়েছে। জীবন মানে এগিয়ে যাওয়া।সে বড় হয়েছে, বিয়ে করছে কিন্তু আনন্দ করতে পারিনি। বিয়ের দিনও বাবার জন্য অনেক কেঁদেছে আজো কাঁদে।কমিশনার চৌধুরী আলমের মেয়ে মুক্তা কাঁদতে কাঁদতে বার বার বলেছে এই নরকীয় যন্ত্রণা থেকে আমরা মুক্তি চাই? কে দেবে মুক্তি। তেজগাঁও থানার সাবেক ৩৮ বর্তমান ২৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম সুমনের ছোট্ট মেয়ে আরোয়া তার বাবার ছবির দিকে তাকিয়ে থাকে আর বলে এই আমার বাবা।তোমরা আমার বাবাকে দেখছো। কবে আসবে বাবা? উত্তরে কান্না ছাড়া কিছু বলতে পারিনা।বড় মেয়ে মা-মনি রাইতা এখন কলেজে পড়ে। সে আজ তার ফেইসবুকে একটা স্টাটাস দিয়েছে। পড়ে অনেকক্ষন কথা বলতে পারিনি,চুপ করে ছিলাম।চোখের কোণে জল এসে গেছে তখন এই লেখাটা লিখতে শুরু করলাম।আমারও বাবা নেই। বাবার কোন ছবিও আমার কাছে নেই। মাঝে মাঝে ভাবি বাবারা দেখতে কেমন হয়?বাবার কথা খুব বেশী মনে পড়লে বাবার কবরের সামনে দাঁড়িয়ে নিরব থাকি,দোয়া করি আর ফিরে আসি এবং ভাবি এখানে বাবাটা আমার আছে। কিন্তু রাইতা,আরোয়া,মীম,আহাদ,হৃদি,ইনশা,সাবাসহ শত-শত বাবাহারা শিশুরা যখন তাদের বাবার ছবি হাতে নিয়ে চিৎকার করে বলে আমাদের বাবাকে ফিরিয়ে দাও। তা নাহলে কবর দেখিয়ে দাও।বাবার কবরের মাটি ছুঁয়ে দেখবো।তখন এর কোন জবাব পায়না।তখন ওদের চেয়ে নিজেকে ভাগ্যবান মনে হয়।বাবা নেই,বাবার কথা মনে নেই তাতে কি হয়েছে? কবর তো আছে, মৃত্যু বার্ষিকীর নির্দিষ্ট দিন তো আছে। গুম হওয়া পরিবারের সদস্যদের তো কিছুই নেই। রাইতা মা তোমার পাহাড়ের চেয়ে লক্ষ কোটি গুন ভারীকষ্টের ভাগ তো নিতে চাই কিন্তু ইট-পাথরের রাজ্যে তুমি তো দিতে পারোনা।তোমরা কেউ দিতে পারোনা।আমাদের তোমরা ক্ষমা করোনা।গত ১৪ বছরে যাদের কারনে তোমাদের বাবারা গুম হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা কিছু করতে পারিনি। তাদের ক্ষমতার অপ ব্যাবহার রোধ করতে পারিনি। তাদের ভয়ংকর প্রতিহিংসার শিকার তোমাদের বাবারা।তোমাদের পাশেও আমরা ঠিক মতো দাঁড়াতে পারিনি। তবে কথা দিচ্ছি। আগামী বাবা দিবসের আগেই ইনশাল্লাহ হয় তোমাদের বাবাকে ফিরে পাবা নয়তো তাদের কবর পাবা।পরিবর্তন হবে।পরিবর্তন হতেই হবে।পরিবর্তন এর বিকল্প কোন পথ খোলা নেই। তোমাদের চোখের জলেই ওরা ভেসে যাবে।নতুন সূর্য উঠবেই। সেদিন থেকে শুরু হবে ফিরে আসার নতুন ইতিহাস। বাবা দিবসে একটাই চাওয়া গুম হওয়া সকল বাবারা ভালো থাকবেন, নিরাপদ থাকবেন। আল্লাহ আপনাদের সহায় হোক।

লেখক ঃ
মো.মঞ্জুর হোসেন ঈসা
চেয়ারম্যান
বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতি


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রকেস )
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com