• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

দেশে বিদেশে বরণ্য ব্যাক্তি বর্গের দৃষ্টিতে জিয়াউর রহমান কেমন রাষ্ট্র নায়ক ছিলেন

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬ ৭:২২
আপডেট: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬ ৭:২২

9666598541

দেশে বিদেশে বরণ্য ব্যাক্তি বর্গের দৃষ্টিতে জিয়াউর রহমান কেমন রাষ্ট্র নায়ক ছিলেন

পর্ব — ৩ ( তিন)
নজরুল ইসলাম চৌধুরী

সম্মানিত পাঠক বৃন্দ আস্ সালামু আলাইকুম।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর স্বরণে লেখা আর্টিকেল এর প্রথম ও দ্বিতীয় পর্বের পর এবার থাকছে আমেরিকার প্রসিডেন্ট জিমি কার্টার কেন এবং কোন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতির প্রশংসা করেছিলেন —
পাঠক বৃন্দ এই পর্বের লেখাটি খানিক দীর্ঘ হতে পারে বলে আমি সবার নিকট বিনীত অনুরোধ করছি দয়া করে লেখাটি একটু ধৈর্য সহকারে পড়বেন।
এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত মহান স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ পৃথিবীর মানচিত্রে স্থান করে নিয়েছে। স্বাধীনতার পরবর্তী স্বাধীন বাংলাদেশ কে তৎকালীন আওয়ামী সরকার প্রধান শেখ মজিবুর রহমান আমৃত্যু তাঁর রাজত্বের রাজা হওযার জন্য বাংলাদেশ কে ভারতের অঘোষিত অংগরাজ্য করার জন্য সব ধরনের চেষ্টাই করেছিলেন। যা ছিল দেশ জাতির দৃষ্টিতে চরম ন্যাক্কারজনক পরিস্থিতি। মুলত এমন ন্যাক্কার জনক ঘটনার সুচনা করা হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন সময়ে ভারতের সরকারের সাথে সাক্ষরীত অস্থায়ী সরকারের ৭ ( সাত) চুক্তি। যা ছিল ২৫ বছরের দাসত্বের চুক্তি। দাসত্বের ৭ চক্তিতে যা ছিল —
১. মুক্তিযুদ্ধের চুড়ান্ত পর্যায়ে মুজিব বাহিনী ভারতীয় সেনাবাহিনীর অধীনে থাকবে।
২. স্বাধীন বাংলাদেশ মুক্তির পর বাংলাদেশে ভারতীয় সেনাবাহিনী অবস্থান করবে।
৩. স্বাধীনতা পরবর্তীতে বাংলাদেশের নিজস্ব কোন সেনাবাহিনী থাকবে না।
৪. বাংলাদেশের শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য মুক্তিবাহিনীর লোকবল নিয়ে একটি সংস্থা গঠন করা হবে। যার নেতৃত্ব দিবে ভারত।
৫. ভারত বাংলাদেশের মধ্যে অবাধ বানিজ্য চলবে।
৬. দেশের বড় বড় কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করে ভারতীয় কর্মকর্তাদের দ্বারা শুন্যপদ পুরন করা হবে।
৭. বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি প্রনয়ন ও পরিচালনা করা হবে ভারতের নিয়ন্ত্রণে। এই ছিল সেই ২৫ বছরের গোলামীর জিঞ্জিরে দাসত্বের চুক্তি নামা।
আমেরিকার প্রসিডেন্ট জিমি কার্টার পরপর দু’টি প্রেক্ষাপটে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রশংসা করেছেন।
১. ১৯৭৫ এর ১৫ই অগাস্টের পট পরিবর্তনের পর বেশ কিছু হাত বদল হয়ে রাষ্ট্রের দায়িত্ব ভার অর্পিত হযেছিল জিয়াউর রহমান উপর। মহান স্বাধীনতা ঘোষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, স্বাধীনতা যুদ্ধের জেড ফোর্সের অধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) সর্ব প্রথমে ২৫ বছরের দাসত্বের হাত থেকে বাংলাদেশ কে মুক্ত করেছিলেন। এতে কুটনৈতিক ভাবে বাধা প্রদান করেছিল আমেরিকার মত দেশও। কিন্তু তাতে বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ করেননি জিয়াউর রহমান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের দেয়া খবরদারী তথা আদেশ দৃড়তার সাথে অমান্য করেছিলেন জিয়াউর রহমান। এই জন্য পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার খাঁটি দেশ প্রেমিক ও এক নিবেদিত সাহসী রাষ্ট্র নায়ক হিসাবে জিয়াউর রহমানের ভুয়সী প্রশংসা করেছিলেন।
২. একটি বিশেস ঘটনা ———-
সময়টি ছিল ১৯৭৯ সালে তেহেরানে মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তাদের আটক করার পর একটি ভিন্ন পরিস্থিতির তৈরী হয়েছিল। যে কোন দেশে কুটনৈতিক কর্মকর্তাদের আটক বা জিম্মি করা আন্তর্জাতিক বিধি নীতি ও জেনেভা কনভেনশনের খেলাপ। ঐ সমযে বাংলাদেশ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য হিসাবে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সেই সমযের সংকট উত্তরনে গুরুত্বপূর্ণ ভুসিকা রেখেছিলেন। ইরান নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশ সত্তেও মার্কিন কুটনীতিদের মুক্তি দিতে অনিহা প্রকাশ করেন। এমত অবস্থায় মার্কিন সরকার নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশ প্রস্তাব পেষ করেন। এই প্রস্তাব বিবেচনার পুর্বে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার টেলিফোনে জিয়াউর রহমানের সাথে কথা বলেন। এবং একই প্রস্তাব সমর্থনের জন্য বিশেষ অনুরোধ জানান। কিন্তু বাংলাদেশ সেই প্রস্তাবে ভোট দান থেকে বিরত ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের অনুরোধ মত প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন না জানানো বাংলাদেশের স্বার্থে ছিল খুবেই ঝুকিপূর্ণ। অথচ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সেই ঝুকি নিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেননি।
পরবর্তীতে আমেরিকার প্রসিডেন্ট জিমি কার্টার জিয়াউর রহমান কে সাহসী , বিজ্ঞ ও সফল রাষ্ট্র নায়ক হিসাবে অভিহিত করছিলেন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তাঁর শাষণ আমলে অভ্যন্তরিন ও আন্তর্জাতিক উভয় ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কে অভুতপুর্ব উচ্ছতর অবস্থানে অধিষ্ঠিত করেছিলেন।
মহান রাব্বুল আল্ আমিন যদি সহায়ক হন তা হরে আগামী তে “” শহীদ জিয়া ও তাঁর পররাষ্ট্রনীতি “” শিরনামে লেখার চেষ্টা করবো ইনশাহআল্লাহ্।
সম্সানিত বিজ্ঞবান পাঠক বৃন্দ একটু ভাবুনতো জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের জন্য কেমন দেশ প্রেমিক ও সাহসী রাষ্ট্র নায়ক ছিলেন??????
———————————————————————- চলবে
বিঃ দ্রঃ আগামী চতুর্থ পর্বে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কে নিয়ে তৎকালীন চীনের প্রধানমন্ত্রী মিষ্টার ঝাউ ঝিয়াং ও সৌদি আরবের খলিফা বাদশাহ্ ফাহাদ বীন আবদুল আজীজের মতামত।
আশাকরি আগামী চতুর্থ পর্বেও আপনারা সবাই সাথে থেকে আমাকে কৃতজ্ঞ করবেন।


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রকেস )
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com