আমরা জানি, জরুরি পরিস্থিতিতে রোগীর জীবন বাঁচাইতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ অ্যাম্বুলেন্সকে সড়ক ব্যবহারে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করিয়া থাকে। কেননা মানুষ মানুষের জন্য এবং বিপৎকালে একজন আরেক জনের সাহায্যে আগাইয়া আসিবেন-ইহাই মনুষ্যত্বের দাবি। অনেক দেশে এই জন্য আইনগত কিছু বাধ্যবাধকতা রহিয়াছে। সাইরেন বা ইমার্জেন্সি লাইট জ্বালানো অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সকে গতিসীমা অতিক্রম করিবার অনুমতি প্রদান করা হয়। জার্মানি, অস্ট্রিয়া ও সুইজারল্যান্ডের মতো দেশসমূহে যানজট লাগিলে চালকদের জন্য রাস্তার মধ্যে বা পার্শ্বে অ্যাম্বুলেন্সের যাওয়ার মতো ফাঁকা জায়গা তৈরি করা আইনত বাধ্যতামূলক; কিন্তু প্রশ্ন হইল, এমন ব্যবস্থা তৈরি করিতে আমরা কতটা সচেতন? উন্নত দেশসমূহে (যেমন-যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ইউএই) ‘ইমার্জেন্সি ভেহিকল প্রায়োরিটি’ (EVP) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। অ্যাম্বুলেন্স মোড়ের কাছাকাছি আসিলে জিপিএস সেন্সরের মাধ্যমে ট্রাফিক লাইট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সবুজ হইয়া যায়। এই সকল দেশে এক্সপ্রেসওয়ে, সেতু বা হাইওয়েতে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য কোনো টোল লওয়া হয় না। বাস/ইমার্জেন্সি লেন ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিংগাপুর বা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অ্যাম্বুলেন্সকে পথ না দিলে মোটা অঙ্কের জরিমানা গুনিতে হয়। এমনকি লাইসেন্স বাতিল বা জেল পর্যন্ত হইতে পারে; কিন্তু আমাদের দেশে কেহ কাহাকে ছাড় দিতে তেমন রাজি হন না। অনেক সময় এমন বিশৃঙ্খলা তৈরি করা হয় যে, অ্যাম্বুলেন্স যাওয়ার জন্য শেষ পর্যন্ত কোনো ফাঁকা জায়গা থাকে না।
আ/আ












