• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

শক্তিশালী হবার আগেই টুটি চেপে ধরতে হবে

প্রকাশ: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬ ৬:৩৬
আপডেট: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬ ৬:৩৬

IMG 2931

শক্তিশালী হবার আগেই টুটি চেপে ধরতে হবে

ব‍্যারিস্টার রফিক আহমেদ, লন্ডন, ১২ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আবারও প্রমাণ করছে—গণতন্ত্র শুধু ভোটের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় না; এটি টিকে থাকে প্রতিশ্রুতি, জবাবদিহিতা এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার উপর। ২০২৬ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে, যদিও এ ফলাফল ঘিরে বিতর্কের শেষ নেই। কিন্তু বিতর্কের চেয়েও উদ্বেগজনক বিষয় হচ্ছে—ক্ষমতায় আসার পর তাদের আচরণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরণ।

নির্বাচনের আগে বিএনপি যে মেনুফেস্টো প্রকাশ করেছিল এবং যে ৩১ দফা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা জনগণের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছিল। জনগণ বিশ্বাস করেছিল—দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা কাটিয়ে একটি নতুন দিগন্তের সূচনা হবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ক্ষমতায় আসার পর সেই প্রতিশ্রুতিগুলোর অনেকগুলো থেকেই তারা সরে এসেছে।

বিশেষ করে রাষ্ট্রসংস্কারের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সরকারের অবস্থান হতাশাজনক। সংস্কার কমিশনের ঐকমত্য, গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত প্রতিফলনের উদ্যোগ এবং সুপারিশগুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার পরিবর্তে সরকার তাদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। এটি শুধু প্রতিশ্রুতি ভঙ্গই নয়—এটি জনগণের সাথে এক ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা।

গণতন্ত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠতা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তা কখনোই স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত গ্রহণের লাইসেন্স হতে পারে না। বরং বড় ম্যান্ডেট পাওয়া মানে আরও বেশি সংযম, আরও বেশি অন্তর্ভুক্তি এবং আরও বেশি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। কিন্তু যখন সেই ম্যান্ডেটকে ব্যবহার করা হয় বিরোধী মতকে দমন করার জন্য, তখন সেটি গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।

এই প্রেক্ষাপটে বিরোধী দলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি মনে করি, সকল গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তকে শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতার বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। বিরোধী দলকে শুধু সংসদের ভেতরে নয়, সংসদের বাইরেও সক্রিয় হতে হবে। কারণ যখন সংসদ কার্যকরভাবে জনগণের কণ্ঠস্বর প্রতিফলিত করতে ব্যর্থ হয়, তখন রাজপথই হয়ে ওঠে গণতন্ত্রের শেষ আশ্রয়স্থল।

সরকার যদি একগুঁয়েমির পথ বেছে নেয়, তাহলে বিরোধী দলকে সংসদ বর্জনের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতেও পিছপা হওয়া উচিত নয়। একই সঙ্গে জনগণকে সাথে নিয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের দাবি আদায়ের জন্য রাজপথে নামতে হবে। স্বাধীনতার ৫৫ বছরে এসে আমরা আর কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রহসন বা ক্ষমতার অপব্যবহার মেনে নিতে পারি না।

“শক্তিশালী হবার আগেই টুটি চেপে ধরতে হবে”—এই কথাটি কোনো সহিংসতার আহ্বান নয়; এটি একটি সতর্কবার্তা। যে কোনো অগণতান্ত্রিক প্রবণতা শুরুতেই প্রতিহত করতে না পারলে তা পরবর্তীতে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তাই এখনই সময়—গণতন্ত্র, জনগণের অধিকার এবং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার।

বাংলাদেশের জনগণ বহু ত্যাগের বিনিময়ে এই স্বাধীনতা অর্জন করেছে। সেই অর্জনকে রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। সরকার হোক বা বিরোধী দল—কেউই সেই দায়িত্ব এড়াতে পারে না।


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রকেস )
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com