নিউজ ডেস্ক
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল করে আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ। বুধবার (৯ আগস্ট) সংগঠনটির সভাপতি রেজোয়ান হক মুক্ত এবং সাধারণ সম্পাদক শাওন বিশ্বাসের যৌথ বিবৃতিতে এই দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘হাজার বছর ধরে বসবাস করে আসা জনগোষ্ঠী শুধুমাত্র সংখ্যায় কম হওয়ার কারণে বিভিন্ন সময় তাদের সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় অবজ্ঞার শিকার হতে হয়েছে। ন্যূনতম নাগরিক অধিকার থেকে তারা বঞ্চিত। আমরা দাবি জানাই আদিবাসীদের ভূমি অধিকার এবং নাগরিক অধিকারের স্বীকৃতি দিতে হবে। আদিবাসীদের বিভিন্ন সময় নির্যাতন, নিপীড়ন, গুম, খুনের শিকার হতে হয়েছে, অথচ কোন বিচার হয়নি। বর্তমান সরকার আদিবাসীদের উপরে নির্যাতন, নিপীড়ন এবং হামলার বিচার করতে ব্যর্থ হয়েছে বারবার।’
এতে আরও বলা হয়, ‘১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে আদিবাসীদেরও রক্ত ঝরেছে। তারাও অংশগ্রহণ করেছে মহান মুক্তিযুদ্ধে। বাংলাদেশ যেমন একজন বাঙালির তেমনি এদেশ একজন আদিবাসীর। শুধুমাত্র সংখ্যায় কম বলে তাদের দেওয়া হচ্ছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর তকমা, যা কোনভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। আদিবাসীদের তাদের যোগ্য সম্মান ফিরিয়ে দিতে হবে। তাদের উপরে সকল নির্যাতন এবং হামলার বিচার করতে হবে। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল করে আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে।’
উল্লেখ্য, ৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস হিসেবে পালিত হলেও বাংলাদেশে বাংলাদেশে ২০০৪ সাল থেকে পালিত হয়ে আসছে। মূলত, ২০০১ সালে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম গঠিত হবার পরে বেসরকারিভাবে বৃহৎ পরিসরে এই দিবসটি পালিত হচ্ছে। দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের জেলাগুলোতে সাঁওতাল, শিং (গঞ্জু), ওঁরাও, মুন্ডারি, বেদিয়া মাহাতো, রাজোয়ার, কর্মকার, তেলী, তুরী, ভুইমালী, কোল, কড়া, রাজবংশী, মাল পাহাড়িয়া, মাহালী ইত্যাদি জাতিগোষ্ঠী বসবাস করছে।
অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রামে (রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবন) চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, মুরং বা ম্রো, খিয়াং, লুসাই, পাংখোয়া, বম, খুমী ও চাক জনগোষ্ঠী বসবাস করছে। বিশ্বের তাবৎ আদিবাসী জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি বাংলাদেশের ৩০ লক্ষাধিক আদিবাসীরা তাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয়, ভূমির অধিকার ও নাগরিক মর্যাদার স্বীকৃতি দাবিতে দিবসটি পালন করে থাকেন।












