ডেস্ক নিউজ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রাণনাশের হুমকিদাতা আবু সাইদ চাঁদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সমাবেশ করেছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ। ওই সমাবেশের ব্যানারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ব্যানারে বঙ্গবন্ধুর নাম ‘বঙ্গন্ধুর’ লেখা ছিল।
ভুল বানানের বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতাদের নজরের এলে তারা মহানগরের নেতাদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ওই সময় মঞ্চে থাকা একাধিক নেতা বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, শুক্রবার (২৬ মে) বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের আয়োজন করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এতে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মণি, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজমসহ মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
দেখা যায়, সমাবেশের ব্যানারে ‘বঙ্গবন্ধুর’ জ্যেষ্ঠ কন্যা লিখতে গিয়ে লেখা হয় ‘বঙ্গন্ধুর’ জ্যেষ্ঠ কন্যা। আর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ‘হুমায়ুন’ কবিরের নামে লেখা হয় ‘হুমাযুন’ কবির। এছাড়া ব্যানারে শেখ হাসিনাকে প্রাণনাশের ‘হুমকিদাতা’ না লিখে প্রাণনাশের ‘চেষ্টাকারী’ লেখারও সমালোচনা করেন নেতারা।
সমাবেশে উপস্থিত একাধিক নেতা ঢাকা পোস্টকে বলেন, ব্যানারে জাতির পিতার নাম ভুল দেখে ডা. দীপু মণি ও মির্জা আজম মহানগর নেতাদের ওপরে রাগান্বিত হন। এতো বড় ভুল কীভাবে হলো সেটা জানতে চান। তখন মহানগর দক্ষিণের নেতারা সঠিক কোনো জবাব পারেননি।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও সমাবেশের ব্যানার তৈরি দায়িত্বে থানা নেতা সাইফুন্নবী সাগর ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘গত দুই বছরে একটি বানানও ভুল হয়নি। ঢাকা মহানগরের ব্যানার এখন অনেক সুন্দর হয়। গত কয়েক কমিটির চেয়ে এখন সুন্দর হয়। গরু-ছাগল ভুল করে না, মানুষ ভুল করে। একটা গ্রেট ভুল হয়ে গেছে।’
ভুলের কারণ ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘ব্যানার সব সময় আমি নিজের টাকা দিয়ে করি। আমি প্রচার সম্পাদক, আমি ডিজাইন করি, আমার নিজস্ব একজন ডিজাইনার আছে। তাকে দিয়ে করাই। আজকের ব্যানারও ছাপানো হয়েছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে হুমায়ুন (দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক) ভাই ফোন করে বলছেন, ব্যানার যেটা করছ, সেটা না। বিপ্লব দা বলছেন লেখা পরিবর্তন করতে। অনেক হাউজ বন্ধ থাকায় তাড়াহুড়া করতে গিয়ে একটা গ্রেট ভুল হয়ে গেছে। এটা একটা বড় ভুল।’
এ প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘এ ভুলের জন্য আমি দায়ী না। যাকে দায়িত্ব দিয়েছি সে ভুল করলে আমি কী করব। যাকে দায়িত্ব দিয়েছি সে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। এ রকম ভুল অজান্তেই হয়ে যায়। মানুষ ভুল করবেই। এটা হয়ে গেছে। আমরা তার জন্য অনেক চাপ দিয়েছি। এটা অনেক বড় ভুল। এটা অমার্জনীয়।’












