ডেস্ক নিউজ
আওয়ামী লীগ নেতাদের উদ্দেশ্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘গেম ওভার, বাংলায় যাকে বলে খেলা শেষ। তারা (আওয়ামী লীগ নেতারা) বলছেন- খেলা হবে, আমি বলছি- খেলা শেষ।’
তিনি বলেন, ‘আপনারা (আওয়ামী লীগ নেতারা) বাড়ি চলে যান, খেলা শেষ। সঙ্গে করে জিরো মার্ক নিয়ে যান। বিএনপি হচ্ছে এ ডিভিশন, আওয়ামী লীগ তৃতীয় ডিভিশন। তাদের সঙ্গে খেলা হবে না। খেলা শেষ।’
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘তাদের (আওয়ামী লীগ) সঙ্গে কেউ নেই। দেশেও নেই, বিদেশেও নেই। আমাদের নির্ভরশীলতা হচ্ছে বাংলাদেশের জনগণ। লাখো-কোটি জনগণ রাস্তায় নেমেছে, ফ্যাসিস্ট সরকারকে বিদায় করেই ঘরে ফিরবে। কিছু সরকারি কর্মকর্তা কিছু আওয়ামী অস্ত্রধারী জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে দাঁড়াতে পারবে না, তা সম্ভবও নয়। তারা সেটা খুব ভালো করে জানেন।’

তিনি বলেন, ‘আজকের তরুণরা কেউ ভোট দিতে পারেননি। ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ সালের নির্বাচনে কেউ ভোট দিতে পারেননি। সামনের দিনে ভোট দিতে হবে। সামনে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে নামিয়ে দিতে হবে। শেখ হাসিনার অধীনে বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন হবে না, হতে দেওয়াও যাবে না। নতুন প্রজন্মকে ভোট যদি দিতে হয়, তাহলে শেখ হাসিনাকে বিদায় করতে হবে। সঙ্গে যারা খুন, গুম, মিথ্যা মামলা, গায়েবি মামলা দিয়েছে, তাদেরও বিদায় করতে হবে।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়াকে যারা মিথ্যা মামলা দিয়ে, বানোয়াট মামলা দিয়ে, ভোট চুরির প্রকল্পের অংশ হিসেবে আটকে রেখেছেন। যে দুর্বৃত্তরা এ কাজ করেছেন, তাদের পরিষ্কার করে বলতে চাই- খালেদা জিয়া যে আজকে জেলের মধ্যে দিনযাপন করছেন, তার জন্য প্রত্যেকটা মাসের হিসাব দিতে হবে। প্রত্যেকটা দিনের হিসাব দিতে হবে। প্রত্যেক ঘণ্টারও হিসাব দিতে হবে। যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া যাবে না। খালেদা জিয়াকে জেলে নেওয়ার পেছনে যারাই ছিল, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

আমীর খসরু আরও বলেন, ‘আজকে সরকার, সরকারি দল, সরকারি দলের লোকজন খুব অসহায়। তাদের অসহায়ত্ব দেখে আজকে আমার দুঃখ হয়। সহজ উপায় হচ্ছে, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দেওয়া। আর কোনো উপায় মাঝখানে নেই। বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। আমরা মুক্তি চাচ্ছি না। মুক্ত আমরা করবোই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনবো। লাখো-কোটি জনতা বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাবে। আগামী দিনগুলো হবে বেগম খালেদা জিয়ার, আগামী দিন হবে তারেক রহমানের। এর মাঝে কারও ওইসব খেলাধুলা যেগুলো করছেন, কিছু কিছু লোক হালুয়া-রুটি খাওয়ার, চুরির ভাগের একটি অংশ খাওয়ার জন্য ঘুর ঘুর করছেন, জনগণ আপনাদের নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে যারা অবস্থান নিচ্ছেন, সেটা রাজনীতিবিদ হোক, সরকারি কর্মকর্তা হোক, পুলিশ হোক, র্যাব হোক, বিচারপতি হোক, যারাই বাংলাদেশে অবিচার চালাচ্ছেন, সবাইকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’

যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, বরকতউল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, মীর মো. নাছির উদ্দিন, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন।

সমাবেশ পরিচালনা করেন যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম লিটন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান ও ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল।












