জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: প্রতিনিধি
বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পূর্ব ও স্বাধীনতা-পরবর্তী প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে তরুণ সমাজ, বিশেষ করে ছাত্রদের ভূমিকা ছিল সর্বাগ্রে। তবে বিপ্লব পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন গোষ্ঠী তরুণদের ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করেছে বলে মন্তব্য করেছেন হেযবুত তওহীদ ছাত্র ফোরামের সভাপতি রাদ উল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত “উগ্রবাদের বিরুদ্ধে ছাত্রদের ভূমিকা” শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং সর্বশেষ চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান—সব ক্ষেত্রেই তরুণদের আত্মদান ছিল সর্বাধিক। অথচ আজ সেই তরুণ সমাজ রাজনৈতিক ও আদর্শিক স্বার্থে ব্যবহৃত হচ্ছে।
রাদ উল ইসলাম বলেন, বর্তমানে তরুণদের ব্যবহারের দুটি অঙ্গন স্পষ্ট। একটি রাজনৈতিক অঙ্গন, যেখানে আদর্শহীন ও স্বার্থকেন্দ্রিক রাজনীতিতে ক্ষমতায় যাওয়ার হাতিয়ার হিসেবে তরুণদের ব্যবহার করা হচ্ছে। অপরটি ধর্মীয় উগ্রবাদ, যেখানে ছাত্র ও তরুণদের সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। এর ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সমাজে উগ্রবাদ, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা এবং ভিন্নমতের প্রতি অসহিষ্ণুতা বাড়ছে।
তিনি আরও বলেন, উগ্রবাদী কর্মকাণ্ড এখন শুধু শিক্ষাঙ্গনে সীমাবদ্ধ নয়; সারা দেশেই তা ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্যমতে, বিগত সরকারের পতনের পর দেড় বছরে সাড়ে ছয়শোর বেশি মব ভায়োলেন্সের ঘটনা ঘটেছে এবং দুইশোরও বেশি মাজারে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের ওপর হামলার ঘটনাও তুলে ধরে তিনি বলেন, দৈনিক প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার-এর কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের পাশাপাশি ছায়ানট ও উদীচীর মতো সাংস্কৃতিক সংগঠনের ওপর হামলার বিষয়টি উদ্বেগজনক।
হেযবুত তওহীদ ছাত্র ফোরামের সভাপতি অভিযোগ করে বলেন, সংগঠনটি ধারাবাহিকভাবে সন্ত্রাসী হামলা ও মব ভায়োলেন্সের শিকার হয়েছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পরপরই দেশের বিভিন্ন স্থানে সংগঠনটির কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়। নোয়াখালীতে পঞ্চাশটি পরিবারের বাড়ি ও দোকান লুট, লক্ষ্মীপুরে জেলা সাধারণ সম্পাদকের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং রংপুরে গুজব ছড়িয়ে বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।
তিনি বলেন, একটি চরম উগ্রবাদী গোষ্ঠী সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ‘নাস্তিক’ কিংবা ‘ধর্ম অবমাননাকারী’ আখ্যা দিয়ে সহিংসতা উসকে দিচ্ছে।
রাদ উল ইসলাম বলেন, উগ্রবাদ মোকাবেলায় শক্তি প্রয়োগ বা মানবসৃষ্ট মতবাদ কার্যকর নয়। কোরআন, হাদিস ও ইসলামের ইতিহাসের আলোকে ধর্মের সঠিক ব্যাখ্যার মাধ্যমেই উগ্রবাদ প্রতিরোধ সম্ভব।
সভায় তিনি আরো বলেন, উগ্রবাদ মোকাবেলায় জাতীয় পর্যায়ে ঐক্যমঞ্চ গঠন, বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে সভা-সেমিনার আয়োজন, তথ্যনির্ভর প্রকাশনা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
রাদ উল ইসলাম বলেন, সময় অনেক গড়িয়ে গেছে। এখনই যদি উগ্রবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ না হওয়া যায়, তবে দেশ ভয়াবহ পরিণতির দিকে যেতে পারে। সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে উগ্রবাদবিরোধী আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।












