জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
একটি দলের ‘ভোট ডাকাতির ষড়যন্ত্র শেষ হয়নি’ বলে সকলকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) নওগাঁ জেলার এটিম মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান এই আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘একটি দলের ষড়যন্ত্র, ওই ষড়যন্ত্র কিন্তু এখনো শেষ হয়নি। একটা পক্ষ তো পালিয়ে গেছে দেশ থেকে। কিন্তু আরেকটা পক্ষ আছে যারা… এই দুই পক্ষ আবার আগে থেকেই একসাথে ছিল। এই দুই পক্ষ বিভিন্ন সময়ে একসাথে ছিল, তলে তলে একসাথে ছিল।’
তিনি আরও বলেন,‘গত ১৬ বছরেও আপনারা মাঠে-ঘাটে কোথাও ওদেরকে পেয়েছেন, আন্দোলন-সংগ্রামে তাদেরকে পেয়েছেন? কোথাও ছিল না। ভেতরে ভেতরে কিন্তু তাদের সঙ্গে ছিল এরা। এখন এরা আবার নতুন করে বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র করছে। আপনাদের চোখ-কান খোলা রাখতে হবে, যাতে ষড়যন্ত্র করে আপনার ভোট এদিক-ওদিক না করা যায়।’
তারেক রহমান বলেন,‘ব্যালেট বক্স পাহারা দিতে হবে। ২০০৮ সালে কি হয়েছিল মনে আছে? ওই যে ম্যাজিক… একবার খালি বক্স দেখানো হতো, আবার ভরা বক্স দেখানো হতো… মনে আছে তো? কাজেই এই ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।’
নওগাঁ ও জয়পুরের ভোটারদের ভোটের দিন, অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারি, ভোরে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করে ভোট কেন্দ্রের সামনে ফজরের নামাজে অংশ নিয়ে লাইনে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান বিএনপি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন,‘ভোট কেন্দ্র খুললে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেওয়া শুরু করবেন… ঠিক আছে।’
তিনি সতর্ক করেছেন,‘যারা ষড়যন্ত্র করছে তারা আবার ২০০৮ সালের মতো আরেকটি ষড়যন্ত্র করতে পারে। আমাদের সতর্ক থাকতে হবে, যেন খালি বা ভরা বক্স নিয়ে কোনো গাফিলতি না ঘটে।’
ধানের শীষের প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চেয়ে তারেক রহমান বলেন,‘গত ১৬ বছরে আপনাদের এলাকার কোনো উন্নতি হয়নি, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। ঢাকা শহরসহ কয়েকটি শহরে কিছু বড় ফ্লাইওভার হয়েছে, কিছু বড় দালান হয়েছে। মেগা প্রকল্প হয়েছে। কিন্তু মেগা প্রকল্প মানেই মেগা দুর্নীতি হয়েছে।’
তিনি বলেন,‘আমরা চাই গ্রামের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে, জেলা শহরের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে, উপজেলা শহরের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে। আমরা চাই ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষার নিশ্চয়তা, নারীদের স্বাবলম্বী করা, বেকার যুবক-তরুণদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা এবং দেশের মানুষ যেন নিরাপদে চলাচল ও ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারে, রাতের বেলা নিরাপদে ঘুমাতে পারে।’
তিনি আরও বলেন,‘সেই পরিস্থিতি তৈরি করতে হলে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। জনগণ যদি পাশে থাকে, কেউ আটকাতে পারবে না। বিএনপি সবসময় একটি স্লোগান দেয়: ‘জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস’। কারণ বিএনপি জানে জনগণই তার শক্তি। জনগণ ছিল, আছে এবং থাকবেই।’
তারেক রহমান নওগাঁর জন্য বিশেষ দাবি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নওগাঁ রেললাইন স্থাপন, কৃষি পণ্যের সংরক্ষণের জন্য হিমাগার নির্মাণ এবং উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা প্রদানসহ বিভিন্ন দাবি পূরণের জন্য ধানের শীষকে বিজয়ী করতে হবে।
দুপুরে রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে সমাবেশ শেষে তারেক রহমান সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে নওগাঁ পৌঁছান। মঞ্চে ওঠার পর হাজার হাজার নেতা-কর্মী করতালি দিয়ে স্বাগত জানান।
নওগাঁ জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিকী নান্নুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপনের সঞ্চালনায় নওগাঁর ছয়টি আসনের প্রার্থীরা বক্তব্য রাখেন। এতে ছিলেন সামসুজ্জোহা, জাহেদুল ইসলাম ধলু, শেখ রেজাউল ইসলাম, একরামুল বারী টিপু, মোস্তাফিজুর রহমান এবং জয়পুরহাটের দুই প্রার্থী আব্দুল বারী ও মাসুদ রানা প্রধান।
এছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা—শাহীন শওকত, এএইচএম ওবায়দুর রহমান চন্দন, এম এ মতির, মাহবুবুর রহমান এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের নাজমুল হাসানসহ জেলার অঙ্গসংগঠনের অন্যান্য নেতারা বক্তব্য রাখেন।
নওগাঁর নির্বাচনী সমাবেশ শেষ হওয়ার পর তারেক রহমানের গাড়িবহর রাত ৭টায় বগুড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়।












