জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতায় যাওয়ার পর থেকেই ভেতরে-বাইরে তীব্র সংকটে পড়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) । দলটির এই রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে ঘিরে ক্ষোভ বাড়তে থাকায় কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের একাধিক নেতা-কর্মী ও ঘোষিত প্রার্থীদের মধ্যে পদত্যাগের হিড়িক দেখা দিয়েছে। জামায়াতের সঙ্গে জোট করাকে আদর্শবিরোধী ও রাজনৈতিকভাবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন দলের একাংশ, যার সরাসরি প্রতিফলন ঘটছে ধারাবাহিক পদত্যাগে।
সর্বশেষ গতকাল বৃহস্পতিবার নতুন বছরের প্রথম দিনেই এনসিপির দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতা দল ছাড়ার ঘোষণা দেন। তারা হলেন- দলের মুখপাত্র, যুগ্ম সদস্যসচিব ও মিডিয়া সেলের সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন এবং কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মুহাম্মদ মুরসালীন। তারা দুজনই আলাদা আলাদাভাবে পদত্যাগপত্র দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে পাঠিয়েছেন। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত নাহিদ ইসলামের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনি আসন সমঝোতা এবং জোটে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর থেকেই এনসিপির ভেতরে তীব্র অসন্তোষ দানা বাঁধে। যারা শুরু থেকেই দলটিকে একটি বিকল্প ও ছাত্র-নেতৃত্বাধীন নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, তারা এই জোটকে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান ও আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন। এর ফলে দলের ভেতরে মতবিরোধ চরমে পৌঁছেছে এবং তা ধীরে ধীরে প্রকাশ্য বিভক্তিতে রূপ নিচ্ছে।
এনসিপির একাধিক নেতার অভিযোগ, জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দলের ভেতরে যথেষ্ট আলোচনা বা মতামত গ্রহণ করেনি। ফলে অনেকেই নিজেদের রাজনৈতিক বিশ্বাস ও দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পদত্যাগকারী নেতাদের কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে জানিয়েছেন, এনসিপি যে পরিবর্তন ও নতুন ধারার রাজনীতির কথা বলেছিল, জামায়াতের সঙ্গে জোট করা সেই অঙ্গীকারের পরিপন্থি।
এখন পর্যন্ত এনসিপির অন্তত ১৪ জন কেন্দ্রীয় নেতার পদত্যাগের খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। এদের মধ্যে দলের উচ্চপদস্থ ও পরিচিত মুখরাও রয়েছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন আসনে ঘোষিত কিংবা সম্ভাব্য একাধিক প্রার্থীও দল ছাড়ছেন বলে জানা যাচ্ছে।
পদত্যাগ করা কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে রয়েছেন তাসনিম জারা, তাজনূভা জাবীন, ফারহাদ আলম ভূঁইয়া, আরিফ সোহেল, আজাদ খান ভাসানী, আসিফ নেহাল, মীর হাবিব আল মানজুর, মারজুক আহমেদ, মীর আরশাদুল হক, খালেদ সাইফুল্লাহ, খান মো. মুরসালীন, মুশফিক উস সালেহীন, ওয়াহিদুজ্জামান, আল আমিন টুটুল। এর বাইরে দেশের বিভিন্ন শাখা কমিটির নেতারাও পদত্যাগ করেছেন।
গতকাল পদত্যাগের পর মুশফিক উস সালেহীন সাংবাদিকদের বলেন, ‘১ জানুয়ারি ২০২৬ জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে পদত্যাগ করেছি। আহ্বায়ক জনাব নাহিদ ইসলামের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠানো হয়েছে। এখন থেকে আমার কাছে এনসিপি-সংক্রান্ত কোনো তথ্য বা আপডেট থাকবে না। পরবর্তীতে মিডিয়া সেলের দায়িত্ব কে নেবেন, তা দল ঘোষণা করবে।’
তিনি জানান, দলের ভেতরে গণতান্ত্রিক চর্চার অভাব রয়েছে, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নেই এবং নতুন জোটসঙ্গীদের রাজনৈতিক চরিত্র বিবেচনায় নিয়েই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
অন্যদিকে এনসিপি থেকে পদত্যাগ করে নিজের ফেসবুকে যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মুহাম্মদ মুরসালীন লেখেন, তিনি এতদিন জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। পাশাপাশি তিনি দলের মিডিয়া সেল, প্রচার ও প্রকাশনা সেলেও কাজ করেছেন। এ ছাড়া সম্প্রতি এনসিপির নির্বাচনকালীন মিডিয়া উপকমিটির সেক্রেটারি হিসেবেও কিছুদিন দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি আরও জানান, আজ থেকে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির সব দায়িত্ব ও পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে পদত্যাগের কারণ সম্পর্কে পোস্টে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করেননি।












