রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জ্বর কিছুটা কমেছে। তবে শারীরিক অবস্থা আগের মতোই রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে মেডিকেল বোর্ডের সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, খালেদা জিয়ার ফুসফুসে পানি জমে যাওয়ায় স্বাস্থ্যের অবনতি হলে সিসিইউতে ভর্তির সুপারিশ করে মেডিকেল বোর্ড। তবে সিসিইউতে না নিয়ে সিসিইউ সুবিধা সংযুক্ত কেবিনেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ডা. জাহিদ হোসেন আরও বলেন, চিকিৎসকরা ম্যাডামকে (খালেদা জিয়া) নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। ভালো-মন্দ নিয়ে এখনই বলার সময় আসেনি। উনার শারীরিক অবস্থা একেবারে ভালো বা একেবারে খারাপ কোনোটিই বলা সম্ভব নয়।
মেডিকেল বোর্ডের আরেক সদস্য জানান, প্রতিদিনই খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। লিভারের মতো জটিল সমস্যার শতভাগ চিকিৎসা এদেশে সম্ভব নয়। এরপরও বোর্ড সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।
আরও পড়ুন: খালেদা জিয়াকে নিয়ে মেডিক্যাল বোর্ড উদ্বিগ্ন
তিনি আরও জানান, রক্তের হিমোগ্লোবিন, প্রেসার, ডায়বেটিসসহ স্বাস্থ্যের প্রায় সবক’টি প্যারামিটারই উঠানামা করছে। অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে তা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে। এ পর্যন্ত যেসব টেস্টের ফলাফল এসেছে, কয়েকটিতে বোর্ড উদ্বিগ্ন। খালেদা জিয়াকে আরও কয়েকদিন হাসপাতালে থাকতে হবে।
গত ৮ আগস্ট সন্ধ্যায় খালেদা জিয়াকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৭৬ বছর বয়সী সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, চোখের সমস্যাসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছেন।
এর আগে গত জুনেও তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সে সময় তাকে পাঁচ দিন হাসপাতালে থাকতে হয়। তখন এনজিওগ্রাম করা হলে তার হৃদযন্ত্রে তিনটি ব্লক ধরা পড়ে। এর একটিতে রিং পরানো হয়।
২০২১ সালে এপ্রিলে করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে অসুস্থতার কারণে তাকে একাধিকবার হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।












