জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা-৮ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করে বলেছেন, ‘খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের পক্ষে কাজ করলেও তাকে ব্যবহার করে গণতন্ত্রকে হত্যা করছে বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান।’ বিএনপির ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষক কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি জনগণের সঙ্গে ধোঁকাবাজি ছাড়া আর কিছুই নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আজ শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় নির্বাচনি প্রচারকালে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
পরে দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করে আশপাশের এলাকায় প্রচারণা চালান। ওই সময় সাংবাদিকদের সেঙ্গে আলাপকালে বিএনপির প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কালো টাকা ছড়াছড়ির অভিযোগ তুলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
তারেক রহমান ও তার পরিবারের দিকে ইঙ্গিত দিয়ে এনসিপির সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন বলেন, ‘একটা পরিবার বাংলাদেশের সংস্কার কার্যক্রম ভণ্ডুল করে দিয়েছে। আমরা তো সংস্কার কার্যক্রম চালাচ্ছিলাম, সবাই বসে বসে তৈরি করছিলাম। যখনই লন্ডন থেকে আসলো, সংস্কার কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হলো।’
বিএনপি-আওয়ামী লীগের আতাতের প্রসঙ্গে টেনে এনসিপির এই নেতা অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ শেয়ার বাজার থেকে অনেকের পকেটে টাকা কেটে নিয়েছিল। ক্যাশ টাকা বিভিন্ন জায়গায় তারা রেখে গিয়েছিল। অন্য একটি দল আওয়ামী লীগের যে রেখে যাওয়া সম্পত্তি, যে টাকা, এগুলো দখল করেছে অনেকে। ওই টাকাগুলো এই ইলেকশনে খরচ করছে।
মিডিয়া ‘ধানের শীষের’ পক্ষে কাজ করছে অভেযোগ তুলে এই প্রার্থী বলেন, গত এক বছরে চাঁদাবাজি করে যে ধরনের অর্থ তারা নিয়েছে, কালো বাজারির টাকা, জুয়ার টাকা, সন্ত্রাসী কার্যক্রমের টাকা, আওয়ামী লীগের টাকা- এই টাকা দিয়ে এখন তারা ঢাকা-১৭ তে কড়াইল বস্তিতে ভোট কিনতে যাচ্ছে।
ঢাকা ৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাসের সমালোচনা করে এনসিপি এই মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, একদিকে সন্ত্রাসীবাহিনী, আরেক দিকে আমরা নিরপরাধ কয়জন। এটা তো প্রতিদ্বন্দ্বিতা না, এটা তো অসম খেলা। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নাই, উনি অনেক জায়গায় সব কিছু কিনে ফেলছেন। বিভিন্ন স্কুল কমিটি, কলেজ কমিটিগুলো পকেটস্থ করেছেন। এখন ভোটের দিন চুরি করলে আমি কী করব?
নাসীরুদ্দীন বলেন, মানুষ বলেছে আমাকে ভোট দিবে। এটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ জায়গা না, এটা হলো একজনকে ধরে এনে মারার চিন্তা করা হয়েছে। তবে জনগণ যখন সব ঐক্যবদ্ধ হয়েছে আমি সাহস পেয়েছি, জনগণ মাঠে নামবে। ঢাকায় দুই লাখ ৭৫ থেকে ৮০ হাজার ভোটার, এখানে যারা সন্ত্রাসী বাহিনী আছে, পাঁচ-ছয় হাজার। মানুষ তো বাকিরা আছে, সবাই যখন এদেরকে ধরবে, ওরা কোথায় যাবে?
ওসমান হাদির খুনে দেশি-বিদেশি অনেক ষড়যন্ত্র জড়িত ছিল উল্লেখ করে নাসীরুদ্দীন বলেন, এই খুনের বিচারটা হচ্ছে না। আমরা বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে আহ্বান জানাবো, গড়িমসি করবেন না। এটা আপনারা শুধু একটা জানাজার মধ্যে সম্পন্ন রাখবেন না, বিচারটা সম্পন্ন করুন।












