জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি:সংগৃহীত
কোন রাজনৈতিক দলের নাম উচ্চারণ না করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দশ হাজারের মত মানুষকে তারা বের করে দিয়েছে। কতবড় জুলুমবাজ হলে ১০ হাজার নিরীহ মানুষকে চাকরিচ্যুত করতে পারে। এর মধ্যে অনেক নারী আছে। তাদের ছোট ছোট বাচ্চা আছে। এরা শুধু বিশ্বাসঘাতক না। এরা শুধু গুপ্ত না। এরা জুলুমবাজ। এদের বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বিএনপি’র সাংগঠনিক সভায় অংশ নেয়া একাধিক বিএনপি নেতা বিষয়টি খবরের কাগজকে নিশ্চিত করেন।
চট্টগ্রাম নগরের পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লু চিটাগং বে ভিউ’তে বিএনপি’র সাংগঠনিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।
এর আগে চট্টগ্রামে ইসলামী ব্যাংকের চাকরিতে পুনর্বহালসহ তিন দফা দাবিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা।
রবিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে ফটিকছড়িহে হেফাজতে ইসলামের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রবেশের সময় চলন্ত গাড়িতে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই স্মারকলিপি দেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবেন বলে জানান ব্যাংকাররা।
ব্যাংকারদের দাবি তিনটি হলো- বিনা কারণে চাকরিচ্যুত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অনতিবিলম্বে স্বপদে পুনর্বহাল করতঃ চাকরিচ্যুতদের বেতন বোনাসসহ সকল ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, বৈষম্যহীন ও মানবিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতঃ যারা বৈষম্যের শিকার হয়েছেন, তাদের যাবতীয় ন্যায্য প্রাপ্য তাদেরকে বুঝিয়ে দিতে হবে। তিন নম্বর দাবি হল, বিশেষ দক্ষতা যাচাই পরীক্ষা যেন ভবিষ্যতে আর কারো চাকুরিচ্যুতির হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহৃত হতে না পারে এ সংক্রান্ত সকল প্রক্রিয়া বাতিল করা।
চাকরিচ্যুত ব্যাংকার প্রতিনিধি এম. মনছুর আলম বলেন, ‘আমরা একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশায় পেশাদার ব্যাংকাররা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জুলাই গণঅভ্যুণ্ডানে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে অনলাইন-অফলাইনে অংশগ্রহণ করেছিলাম। বুক পেতে ফ্যাসিবাদের বুলেট প্রতিহত করে একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র ও মানবিক সমাজব্যবস্থার স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু পরিতাপের বিষয় সেই নতুন বাংলাদেশের সূচনালগ্নেই ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি হতে আমরা বৃহত্তর চট্টগ্রামের প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কর্মকর্তা (স্থায়ী এবং দীর্ঘ ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা সম্পন্ন) ও এক হাজারের অধিক কর্মচারী চরম বৈষম্য ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা শিকার হয়ে চাকুরিচ্যুত হন।’
স্মারকলিপিতে বলা হয়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি নিপীড়িত মানুষের কণ্ঠস্বর ও ভরসার প্রতীক। অন্যায়ভাবে চাকুরিচ্যুত ব্যাংকাররা দীর্ঘদিন ধরে চরম অনিশ্চয়তা ও মানবেতর জীবনযাপন করছেন। চাকরিতে ঢুকার ক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত বয়স সীমা পার হয়ে যাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে সবাই পথে বসার উপক্রম। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটি চাকরিচ্যুত হওয়ায় পরিবারের উপর অবর্ণনীয় আর্থিক ও মানবিক বিপর্যয় নেমে আসে। বৃদ্ধ পিতামাতার চিকিৎসা, সন্তানদের লেখাপড়া, বাসাভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ বহন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় আপনার কার্যকর হস্তক্ষেপ ছাড়া এই সংগঠিত অমানবিক ও নির্মম জুলুম বন্ধ হওয়া সম্ভব নয়। বৈষম্যের শিকার চট্টগ্রামের চাকরিচ্যুত ব্যাংকারদের চাকরি পুনর্বহালে আশু হস্তক্ষেপ ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতঃ মজলুমদের পাশে দাঁড়ানোর তৌফিক যেন আল্লাহ আপনাকে দান করেন।












