পঞ্চগড় প্রতিনিধি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) হলে বাধ্যতামূলক ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
শনিবার (২৫ জানুয়ারি) রাতে পঞ্চগড় স্টেডিয়ামে জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন আয়োজিত ‘কনসার্ট ফর ইয়ুথ’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
সারজিস আলম বলেন, ‘আমাদের একটি স্পেশাল বৈশিষ্ট্য আছে। আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সবাই আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে আমাদের বাধ্যতামূলক ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকতে হয়েছে। যখনি আমাদের সুযোগ হয়েছে তখনি সেই শৃঙ্খল ভেঙে আমরা বুক চিতিয়ে ১ থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আর শাহবাগে লড়াই করেছি। আমার সাথে যে সহযোদ্ধারা আছে তারাই জুলাইয়ের দিনগুলোতে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মুখের সামনে না করে দিয়ে আলাদা করে ব্যানার নিয়ে শাহবাগে আসত এ লড়াইয়ে।
গুজব ও আওয়ামী লীগের বিষয়ে সারজিস আলম বলেন, ‘গুজব লীগ গুজব ছড়াবে। হাজার-হাজার কোটি টাকা পাচার করে, মুখে চুনকালি মেখে যখন আপনাদের সামনে দাঁড়াতে পারে না, তখন কাঁটাতারের ওপার থেকে তারা আম্মার কথায় প্রোপাগান্ড ছড়ায়। তাদের জননী এবং তাদের কোনো সন্তানকে এই বাংলাদেশে আমরা আর প্রশ্রয় দেব না।’
পঞ্চগড় নিয়ে স্বপ্নের কথা বলতে গিয়ে সারজিস আলম বলেন, ‘আমরা তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে নতুন করে যদি আগামীর পঞ্চগড় নিয়ে লড়াই শুরু করি, যে লড়াইয়ে কোনো ব্যক্তিস্বার্থ থাকবে না, কোনো দলীয় স্বার্থ থাকবে না, সবার আগে পঞ্চগড়ের মানুষের স্বার্থ থাকবে। এই লড়াই যদি আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে করতে পারি, তাহলে আগামীতে সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া যে জেলা বলা হয় পঞ্চগড়, সেই জেলা বাংলাদেশের সবচেয়ে এগিয়ে যাওয়া জেলা হবে।’
তিনি বলেন, ‘এই তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে আমাদের আগামীর পঞ্চগড় গড়তে চাই। আমরা বিশ্বাস করি, আমরা যদি আমাদের ভুলগুলো সংশোধন করে নতুন করে পঞ্চগড়কে নিয়ে লড়াই শুরু করি দল ও ব্যক্তি স্বার্থের বাইরে তাহলেই আমাদের উদ্দেশ্যে বাস্তবায়ন হবে। এ সময় তিনি বন্ধ থাকা পঞ্চগড় চিনিকল এ বছরই চালুর কথা জানান। এছাড়া তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম রেলস্টেশনের নাম খুব দ্রুত সময়ে পরিবর্তন করে পঞ্চগড় রেলস্টেশন করার দাবি রাখেন।’













