জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান মঙ্গলবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে নিজের শৈশবের স্মৃতি, পরিবার, প্রবাসজীবনের অভিজ্ঞতা এবং দেশে ফেরার আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরেছেন। ব্যক্তিগত অনুভূতি, মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধের সংমিশ্রণে লেখা ওই স্ট্যাটাসে তিনি নেতৃত্ব, মানবিকতা ও দেশের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা বলেন।
স্ট্যাটাসের শুরুতেই জাইমা রহমান তাঁর দাদুকে নিয়ে শৈশবের একটি প্রিয় স্মৃতির কথা উল্লেখ করেন। এগারো বছর বয়সে স্কুল ফুটবল টুর্নামেন্টে জয়ের পর পাওয়া মেডেল দাদুর অফিসে গিয়ে দেখানোর মুহূর্তের কথা বর্ণনা করে তিনি জানান, পরিবারের অভিভাবক হিসেবে দাদু ছিলেন অত্যন্ত মমতাময়ী ও মনোযোগী শ্রোতা। তাঁর সেই গর্ব ও উৎসাহ জাইমার কাছে আজও স্মরণীয়। তিনি লেখেন, দেশের মানুষের কাছে দাদু ছিলেন প্রধানমন্ত্রী, কিন্তু পরিবারের কাছে তিনি ছিলেন স্নেহের ‘দাদু’—যিনি সময় দিতেন, সাহস জোগাতেন এবং ছোট মুহূর্তগুলোকেও গুরুত্ব দিতেন।
ওই স্মৃতিগুলো থেকেই নেতৃত্বের প্রথম শিক্ষা পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন জাইমা রহমান। তাঁর ভাষায়, নম্রতা, আন্তরিকতা এবং মন দিয়ে শোনার মানসিকতাই নেতৃত্বের মূল ভিত্তি।
স্ট্যাটাসে তিনি প্রবাসে কাটানো ১৭ বছরের কথাও তুলে ধরেন। জানান, লন্ডনে থাকা তাঁকে বাস্তববাদী ও বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন করেছে, তবে হৃদয় ও মন সবসময়ই বাংলাদেশে ছিল। প্রবাসে দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মের অনেক বাংলাদেশির মতো তিনিও নিজের শিকড় ও সংস্কৃতি কখনো ভুলে যাননি বলে উল্লেখ করেন।
নিজের পেশাগত জীবন প্রসঙ্গে জাইমা রহমান লেখেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা তাঁকে শৃঙ্খলা ও জ্ঞান দিয়েছে, কিন্তু মানুষের সঙ্গে কাজ করাই তাঁকে দায়িত্বশীল ও মানবিক হতে শিখিয়েছে। আইন পেশায় কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি ন্যায়বিচারবঞ্চিত ও অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর গুরুত্ব উপলব্ধি করেছেন বলে জানান। তাঁর মতে, মানুষের জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা কোনো শ্রেণিকক্ষ দিতে পারে না।
পারিবারিক ইতিহাস প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, নিজের দাদাকে কখনো দেখেননি, তবে তাঁর সততা ও দেশপ্রেমের কথা শুনে বড় হয়েছেন। সেই আদর্শই দাদু ও আব্বুর মাধ্যমে বহন করে চলেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান এবং ৫ আগস্টের আগে-পরে সময়কালে নেপথ্যে থেকে যতটুকু পেরেছেন, ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছেন বলেও জানান জাইমা রহমান।
স্ট্যাটাসের শেষ অংশে দেশে ফেরার অনুভূতি ও প্রত্যয়ের কথা বলেন তিনি। বহু বছর পর দেশে ফেরা তাঁর কাছে আবেগ ও অনুভূতির এক অনন্য সংমিশ্রণ বলে উল্লেখ করে লেখেন, ইনশাআল্লাহ দেশে ফিরে তিনি দাদুর পাশে থাকতে চান, আব্বুকে সর্বাত্মক সহায়তা করতে চান এবং একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশের জন্য সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে চান। তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষের প্রত্যাশা ও কৌতূহলের বিষয়টি তিনি সচেতনভাবে অনুভব করেন এবং সেই প্রত্যাশা পূরণের দায়ভারও উপলব্ধি করেন।
স্ট্যাটাসের উপসংহারে জাইমা রহমান লেখেন, প্রত্যেক মানুষের জীবনে নিজস্ব গল্প রয়েছে। সেই গল্পগুলোকে ধারণ করেই সবাই হয়তো একসঙ্গে সামনে এগিয়ে যেতে পারে। জাইমা রহমানের এই স্ট্যাটাস ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।












