জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে জনগণের রায় চেয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশ পুনর্গঠনের কাজ করতে হলে জনগণের সমর্থন প্রয়োজন।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২টায় নির্বাচনি প্রচারণার শেষ দিনে নিজের আসন ঢাকা-১৭ এর বনানী কামাল আতাতুর্ক মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘‘ আর দুইদিন পরে ইনশাল্লাহ বাংলাদেশের বহু প্রত্যাশিত সেই নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। যে নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশের মানুষ বহু মানুষ গত ১৬ বছরে হত্যার শিকার হয়েছে, জুলাই আন্দোলনে আমরা দেখেছি, কত মানুষকে হত্যা করা হয়েছে ….।
‘‘ আসুন আমাদেরকে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে হবে, দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে হবে, দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আপনাদের সামনে বিএনপি একমাত্র রাজনৈতিক দল যে কর্মসূচি দিয়ে তা বাস্তবায়নে বিএনপিকে আপনারা সুযোগ দিন। ইনশাল্লাহ বিএনপি আপনাদেরকে সাথে নিয়ে আগামী দিনে দেশ গঠন করবে। আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে দেশকে পুনর্গঠন করা।”
তারেক রহমান বলেন, ‘‘ আমি শহীদ এবং খালেদা জিয়ার একটি কথা মনে প্রাণে বিশ্বাস করি, প্রত্যেকটি জায়গায় একটি কথাই বলি… দেশ যেহেতু আমাদের কেউ বাইরে থেকে এসে আমাদেরকে এই দেশ গঠন করে দিয়ে যাবে না।”
‘‘এই দেশ আমাদেরকেই গড়ে তুলতে করতে হবে। নিজের ঘর যে-রকম নিজেকে সামাল দিয়ে রাখতে হয়, এই দেশকে আমাদেরই গড়ে তুলতে করতে হবে। আমি ঢাকা-১৭ প্রার্থী হিসাবে আপনাদের সকলের কাছে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাই।”
বনানীর পথসভা থেকে বিএনপি চেয়ারম্যানের গাড়িবহর ধানমন্ডির পথে রওনা হয়েছে। সেখানে ঢাকা-১০ আসনে শেখ রবিউল আলম রবির নির্বাচনি এলাকায় কলাবাগান ক্রীড়াচক্র মাঠে, এরপর পর্যায়ক্রমে ঢাকা-৮ আসনে মির্জা আব্বাসের আসনে পীর জঙ্গি মাজার রোডে, ঢাকা-৯ আসনে হাবিবুর রশীদ হাবিবের আসনে বাসাবো তরুন সংঘ মাঠে, ঢাকা-৫ আসনে নবী উল্লাহ নবীর যাত্রাবাড়ী শহীদ ফারুক রোডে, ঢাকা-৪ আসনে তানভীর আহমেদ রবিনের জুরাইন দয়াগঞ্জ রোডে, ঢাকা-৬ আসনে ইশরাক হোসেনের ধূপখোলা মাঠে এবং ঢাকা-৭ আসনে হামিদুর রহমান হামিদের লালবাগ বালুর মাঠের পথসভায় বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান।
সারাদেশে নির্বাচনে প্রচারণা শেষে করে রোববার ঢাকা মহানগরে প্রচারণা শুরু করেন তারেক রহমান। গতকাল তিনি ঢাকার ৭টি নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য রাখেন।
বনানী মাঠে জনসভায় দাঁড়িয়ে ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী হিসেবে তারেক রহমান বলেন, ‘‘ এই এলাকায় প্রার্থী ছিলেন খালেদা জিয়া। আমি এবার প্রার্থী। এই এলাকায় আমার বেড়ে ওঠা, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ১৯৭২ সালে আমি এই এলাকাতেই বড় হয়েছি, আমার ভাই এই এলাকাতেই বড় হয়েছে, আমাদের পরিবার আমাদের সন্তানেরা এই এলাকাটি জন্মগ্রহণ করেছে।”
‘‘ আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বেগম খালেদা জিয়া উনিও এই এলাকাতেই সারা জীবন কাটিয়েছেন এবং এই এলাকা থেকেই উনি বিদায় নিয়েছেন। আজকে এই এলাকার সাথে স্বাভাবিকভাবে আমার এবং আমার পরিবারের একটি সম্পর্ক গড়ে উঠেছে… একটি মানসিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, আরেকটি আধ্যাত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে এই এলাকার মানুষের সাথে।”
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কী করবে, কী পরিকল্পনা তা সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘‘ নির্বাচনকে ঘিরে মানুষের অনেক প্রত্যাশা তৈরি হয়। স্বাভাবিকভাবেই বিশেষ করে বিএনপির মত একটি রাজনৈতিক দলের কাছে সারা বাংলাদেশের মানুষ শুধু ঢাকা শহরে নয় সারা বাংলাদেশের মানুষের অনেক প্রত্যাশা।”
‘‘আমরাও বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যার সাথে সামঞ্জস্য রেখে আমরা চেষ্টা করেছি আমরা সেভাবে দলের পক্ষ থেকে পরিকল্পনা গ্রহণ করে সেইভাবে কর্মসূচি তৈরি করেছি যাতে আগামী ১২ তারিখে বাংলাদেশের মানুষ ধানের শীষকে নির্বাচিত করলে ইনশাআল্লাহ আমাদের সরকার গঠনে করলে আমরা যাতে সমাজের দেশের প্রত্যেকটি মানুষকে বিভিন্ন বিষয় যাতে আমরা এড্রেস করতে পারব।”
তিনি বলেন, ‘‘ আমাদের এখন মূল লক্ষ্য হচ্ছে, আমরা স্বৈরাচারকে বিদায় করেছি, এখন আমাদেরকে দেশ গড়ার কাজে হাত দিতে হবে। সেই কাজ হচ্ছে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজে হাত দিতে হবে।”
‘‘ আমাদের সামনে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ আছে। প্রায় ২০ কোটি মানুষের এই দেশ,এই দেশের যারা সন্তান আছে, আমাদের যুবক আছ, তরুণ আছে তাদের কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। এই দেশের ভবিষ্যৎ সন্তানদের জন্য আমাদেরকে সুন্দরভাবে শিক্ষা ব্যবস্থা করে তুলতে হবে।সমগ্র বাংলাদেশে বিভিন্ন জায়গায় যানজট আছে, রাস্তা-ঘাট সংস্কার করতে হবে। আমরা শুধু গত ১৫ বছরে দেখেছি মেগা প্রজেক্ট হয়েছে, মেগা মেগা দুর্নীতি হয়েছে… এই অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। সেজন্য আমরা জনগণের সমর্থন চাই।”












