জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
পুরনো রাজনৈতিক বন্দোবস্তের অবসান ঘটিয়ে নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘ ৫৪ বছরের শাসন ও অপশাসন দেখে ক্লান্ত। এখন তারা পরিবর্তন চায়।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ উর্বর ভূমি ও আমের রাজধানী হিসেবে পরিচিত হলেও জেলার প্রাণ মহানন্দা নদী আজ মৃতপ্রায়। তিনি আশ্বাস দেন, নদীগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করে নদীমাতৃক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে এবং নদীকে জাতীয় সম্পদে পরিণত করা হবে। যেখানে প্রয়োজন সেখানে বাঁধ নির্মাণ করে পানির ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করা হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, আমের রাজধানী হওয়া সত্ত্বেও চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় হিমাগার ও সংরক্ষণাগারের ঘাটতি রয়েছে। জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে পুরো উত্তরবঙ্গকে কৃষিভিত্তিক কৃষিশিল্পের রাজধানীতে রূপান্তর করা হবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণাগার ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। আম ও লিচু প্রক্রিয়াজাত করে সারা বছর ভোগ ও বিদেশে রপ্তানির ব্যবস্থা করা হবে, যাতে আন্তর্জাতিক পরিসরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পরিচিতি বাড়ে।
ন্যায়বিচার প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, জুলাই বিপ্লব আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। সেই ন্যায়বিচার বাস্তবায়ন করাই জামায়াতে ইসলামীর অঙ্গীকার। প্রজা ও রাজার জন্য একই আইন কার্যকর থাকবে। ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে পুরুষ, নারী, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সকল মানুষের জন্য সমান বিচার নিশ্চিত করা হবে। দেশে চাঁদাবাজি বন্ধ করা হবে এবং চাঁদাবাজদের উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
যুবসমাজ ও নারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যুবকেরা বেকার ভাতার দাবিতে নয়, সম্মানজনক কর্মসংস্থানের জন্য আন্দোলন করেছে। যুবক-যুবতীদের দক্ষ করে গড়ে তুলে মর্যাদাপূর্ণ কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। নারীদের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, এমন একটি সমাজ গড়া হবে যেখানে নারীরা নিরাপদ থাকবে এবং কোনো জুলুমকারী চোখ তুলে তাকানোর সাহস পাবে না।
গণভোটের বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আগামী ১২ তারিখের ভোট হবে দুটি বিষয়ের ওপর—পুরনো ব্যবস্থাকে লালকার্ড দেখানো এবং নতুন ব্যবস্থাকে স্বাগত জানানো। ন্যায়, ইনসাফ, দুর্নীতিমুক্ত ও আধিপত্যবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
নির্বাচনী জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ এবং চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম রনি। এ ছাড়া জেলা জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।












